header ads

দশম, নবম, অষ্টম, সপ্তম শ্রেণি।। বাংলা দ্বিতীয় পত্র।। ভাবসম্প্রসারণ।। মঙ্গল করিবার শক্তিই ধন, বিলাস ধন নহে।।

মানুষ কষ্ট করে অর্থ উপার্জন করে, কিন্তু সেই অর্থের প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হয় তার ব্যবহারের মধ্য দিয়ে। যে ধন মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়, সেটিই প্রকৃত ধন- বিলাসিতায় অপচয়িত অর্থ ধন নয়।

মানবজীবনে অর্থের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু অর্থ উপার্জনই জীবনের চরম লক্ষ্য নয়, তার সদ্ব্যবহারই আসল কথা। পৃথিবীতে দুই ধরনের মানুষ দেখা যায়- এক শ্রেণি অর্থকে যক্ষের ধনের মতো আগলে রাখে কিংবা ভোগবিলাসে অপচয় করে, আরেক শ্রেণি সেই অর্থ দিয়ে মানুষের দুঃখ ঘোচায়, সমাজের উন্নয়নে বিনিয়োগ করে। প্রথম শ্রেণির মানুষ হয়তো সাময়িক সুখ পায়, কিন্তু তার অর্থ সমাজের কোনো কাজে আসে না। দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ অর্থের মাধ্যমে অসংখ্য জীবন আলোকিত করে- এটিই প্রকৃত ধনের সদ্ব্যবহার। একজন ধনী ব্যক্তি যদি তার সম্পদের কিছু অংশ দরিদ্র শিক্ষার্থীর পড়াশোনায়, রোগীর চিকিৎসায় বা দেশের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করেন, তবে সেই ধন সত্যিকার অর্থে 'ধন' হয়ে ওঠে। ভোগবিলাসে ব্যয়িত অর্থ শুধু অপচয়ই নয়, তা সমাজের প্রতি এক ধরনের অবিচারও বটে। কারণ সমাজের শ্রম ও সম্পদ ব্যবহার করেই মানুষ ধনী হয়, তাই সমাজের প্রতি তার দায়িত্ব থেকে যায়। ইতিহাসের মহান মানুষেরা যেমন বিল গেটস বা আমাদের দেশের অনেক দানশীল ব্যক্তি বিপুল অর্থ মানবকল্যাণে ব্যয় করে প্রমাণ করেছেন যে ধনের সার্থকতা বিলাসে নয়, সেবায়। বিল গেটস তাঁর সম্পদের সিংহভাগ বিশ্বস্বাস্থ্য ও শিক্ষায় দান করেছেন। আমাদের দেশেও অনেক বিত্তশালী মানুষ মসজিদ-মাদ্রাসা, হাসপাতাল ও স্কুল নির্মাণে অর্থ ব্যয় করে সমাজে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

সুতরাং, অর্থের প্রকৃত সার্থকতা বিলাসিতায় নয়- মানুষের মঙ্গলে। যে ধন দিয়ে অপরের মুখে হাসি ফোটানো যায়, সমাজের অন্ধকার দূর করা যায়, সেটিই প্রকৃত ধন। তাই আমাদের উচিত ভোগের পাশাপাশি মানবসেবায় সম্পদ ব্যয় করা।



No comments

Thank you, best of luck

Theme images by sbayram. Powered by Blogger.