header ads

বই পড়া, প্রমথ চৌধুরী




বই পড়া
প্রমথ চৌধুরী

[লেখক-পরিচিতি: 
প্রমথ চৌধুরী ৭ই আগস্ট ১৮৬৮ সালে যশােরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল পাবনা জেলায় হরিপুর গ্রামে। তাঁর শিক্ষাজীবন ছিল অসাধারণ কৃতিত্বপূর্ণ। তিনি ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে প্রথম শ্রেণিতে এম.এ. ডিগ্রি লাভ করেন এবং পরে ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য বিলাত যান। বিলাত থেকে ফিরে এসে ব্যারিস্টারি পেশায় যােগদান না করে তিনি কিছুকাল ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যাপনা করেন এবং পরে সাহিত্যচর্চায় মনােনিবেশ করেন। তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল বীরবল। তাঁর সম্পাদিত সবুজ পত্র বাংলা সাহিত্যে চলতি ভাষারীতি প্রবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। বস্তুত তাঁরই নেতৃত্বে বাংলা সাহিত্যে নতুন গদ্যধারা সূচিত হয়। তাঁর উল্লেখযােগ্য গ্রন্থ : বীরবলের হালখাতা, রায়তের কথা, চার-ইয়ারি কথা, আহুতি, প্রবন্ধ সংগ্রহ, নীললােহিত, সনেট পঞ্চাশৎ, পদচারণ ইত্যাদি। প্রমথ চৌধুরী ২রা সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ সালে কলকাতায় পরলােকগমন করেন।]

ছবি : সংগৃহীত 

বই পড়া শখটা মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ হলেও আমি কাউকে শখ হিসেবে বই পড়তে পরামর্শ দিতে চাইনে। প্রথমত সে পরামর্শ কেউ গ্রাহ্য করবেন না, কেননা আমরা জাত হিসেবে শৌখিন নই। দ্বিতীয়ত অনেকে তা কুপরামর্শ মনে করবেন কেননা আমাদের এখন ঠিক শখ করবার সময় নয়। আমাদের এই রােগ-শােক, দুঃখ-দারিদ্র্যের দেশে সুন্দর জীবন ধারণ করাই যখন হয়েছে প্রধান সমস্যা, তখন সেই জীবনকেই সুন্দর করা, মহৎ করার প্রস্তাব অনেকের কাছে নিরর্থক এবং নির্মমও ঠেকবে। আমরা সাহিত্যের রস উপভােগ করতে প্রস্তুত নই; কিন্তু শিক্ষার ফল লাভের জন্য আমরা সকলে উদ্বাহু। আমাদের বিশ্বাস, শিক্ষা আমাদের গায়ের জ্বালা ও চোখের জল দুই-ই দূর করবে। এ আশা সম্ভবত দুরাশা; কিন্তু তা হলেও আমরা তা ত্যাগ করতে পারি নে কেননা আমাদের উদ্ধারের জন্য কোনাে সদুপায় আমরা চোখের সুমুখে দেখতে পাইনে। শিক্ষার মাহাত্মে আমিও বিশ্বাস করি এবং যিনিই যাই বলুন, সাহিত্যচর্চা যে শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ সে বিষয়ে কোনাে সন্দেহ নেই। লােকে যে তা সন্দেহ করে, তার কারণ এ শিক্ষার ফল হাতে হাতে পাওয়া যায় না, অর্থাৎ তার কোনাে নগদ বাজারদর নেই। এই কারণে ডেমােক্রেসি সাহিত্যের সার্থকতা বােঝে না, বােঝে শুধু অর্থের সার্থকতা। ডেমােক্রেসির গুরুরা চেয়েছিলেন সকলকে সমান করতে কিন্তু তাদের শিষ্যরা তাদের কথা উলটো বুঝে প্রতি জনেই হতে চায় বড়ােমানুষ। একটি বিশিষ্ট অভিজাত সভ্যতার উত্তরাধিকারী হয়েও ইংরেজি সভ্যতার সংস্পর্শে এসে আমরা ডেমােক্রেসির গুণগুলাে আয়ত্ত করতে না পেরে তার দোষগুলাে আত্মসাৎ করেছি। এর কারণও স্পষ্ট। ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়। আমাদের শিক্ষিত সমাজের লােলুপদৃষ্টি আজ অর্থের উপরেই পড়ে রয়েছে। সুতরাং সাহিত্যচর্চার সুফল সম্বন্ধে অনেকেই সন্দিহান। যারা হাজারখানা ল-রিপাের্ট কেনেন, তারা একখানা কাব্যগ্রন্থও কিনতে প্রস্তুত নন; কেননা তাতে ব্যবসার কোনাে সুসার নেই। নজির না আউড়ে কবিতা আবৃত্তি করলে মামলা যে হারতে হবে সে তাে জানা কথা। কিন্তু যে কথা জজে শােনে না, তার যে কোনাে মূল্য নেই, এইটেই হচ্ছে পেশাদারদের মহাভ্রান্তি । জ্ঞানের ভাণ্ডার যে ধনের ভাণ্ডার নয়, এ সত্য তাে প্রত্যক্ষ । কিন্তু সমান প্রত্যক্ষ না হলেও সমান সত্য যে, এ যুগে যে জাতির জ্ঞানের ভাণ্ডার শূন্য সে জাতির ধনের ভাঁড়েও ভবানী। তারপর যে জাতি মনে বড়াে নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড়াে নয়; কেননা ধনের সৃষ্টি যেমন জ্ঞানসাপেক্ষ তেমনি জ্ঞানের সৃষ্টি ও মন সাপেক্ষ এবং মানুষের মনকে সরল, সচল, সরাগ ও সমৃদ্ধ করার ভার আজকের দিনে সাহিত্যের উপরও ন্যস্ত হয়েছে। কেননা মানুষের দর্শন, বিজ্ঞান, ধর্মনীতি, অনুরাগ-বিরাগ, আশা-নৈরাশ্য, তার ? অন্তরের স্বপ্ন ও সত্য, এই সকলের সমবায়ে সাহিত্যের জন্ম । অপরাপর শাস্ত্রের ভিতর যা আছে, সে সব হচ্ছে মানুষের মনের ভগ্নাংশ; তার পুরাে মনটার সাক্ষাৎ পাওয়া যায় শুধু সাহিত্যে। দর্শন বিজ্ঞান ইত্যাদি হচ্ছে মনগঙ্গার তােলা জল, তার পূর্ণ স্রোত আবহমানকাল সাহিত্যের ভেতরই সােল্লাসে সবেগে বয়ে চলেছে এবং সেই গঙ্গাতে অবগাহন করেই আমরা আমাদের সকল পাপমুক্ত হব। অতএব দাঁড়াল এই যে, আমাদের বই পড়তে হবে, কেননা বই পড়া ছাড়া সাহিত্যচর্চার উপায়ান্তর নেই। ধর্মের চর্চা চাইকি মন্দিরের বাইরেও করা চলে, দর্শনের চর্চা গুহায়, নীতির চর্চা ঘরে এবং বিজ্ঞানের চর্চা জাদুঘরে; কিন্তু সাহিত্যের চর্চার জন্য চাই লাইব্রেরি; ও-চর্চা মানুষে কারখানাতেও করতে পারে না; চিড়িয়াখানাতেও নয়। এইসব কথা যদি সত্য হয়, তাহলে আমাদের মানতেই হবে যে, সাহিত্যের মধ্যেই আমাদের জাত মানুষ হবে। সেইজন্য আমরা যত বেশি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করব, দেশের তত বেশি উপকার হবে। আমাদের মনে হয়, এ দেশে লাইব্রেরির সার্থকতা হাসপাতালের চাইতে কিছু কম নয় এবং স্কুল কলেজের চাইতে একটু বেশি। একথা শুনে অনেকে চমকে উঠবেন, কেউ কেউ আবার হেসেও উঠবেন; কিন্তু আমি জানি, আমি রসিকতাও করছি নে, অদ্ভুত কথাও বলছি নে; যদিও এ বিষয়ে লােকমত যে আমার মতের সমরেখায় চলে না, সে বিষয়ে আমি সম্পূর্ণ সচেতন। অতএব আমার কথার আমি কৈফিয়ত দিতে বাধ্য। আমার বক্তব্য আমি আপনাদের কাছে নিবেদন করছি, তার সত্য মিথ্যার-বিচার আপনারা করবেন। সে বিচারে আমার কথা যদি না টেকে, তা হলে রসিকতা হিসেবেই গ্রাহ্য করবেন। 
আমার বিশ্বাস, শিক্ষা কেউ কাউকে দিতে পারে না। সুশিক্ষিত লােক মাত্রই স্বশিক্ষিত। আজকের বাজারে বিদ্যার দাতার অভাব নেই। এমনকি, এ ক্ষেত্রে দাতা কর্ণেরও অভাব নেই; এবং আমরা আমাদের ছেলেদের তাদের দ্বারস্থ করেই নিশ্চিত থাকি, এই বিশ্বাসে যে, সেখান থেকে তারা এতটা বিদ্যার ধন লাভ করে ফিরে আসবে, যার সুদে তার বাকি জীবন আরামে কাটিয়ে দিতে পারবে। কিন্তু এ বিশ্বাস নিতান্ত অমূলক। মনােরাজ্যেও দান গ্রহণসাপেক্ষ, অথচ আমরা দাতার মুখ চেয়ে গ্রহীতার কথাটা একেবারেই ভুলে যাই। এ সত্য ভুলে না গেলে আমরা বুঝতুম যে, শিক্ষকের সার্থকতা শিক্ষাদান করায় নয়, কিন্তু ছাত্রকে তা অর্জন করতে সক্ষম করায়। শিক্ষক ছাত্রকে শিক্ষার পথ দেখিয়ে দিতে পারেন, তার কৌতূহল উদ্রেক করতে পারেন, তার বুদ্ধিবৃত্তিকে জাগ্রত করতে পারেন, মনােরাজ্যের ঐশ্বর্যের সন্ধান দিতে পারেন, তার জ্ঞানপিপাসাকে জ্বলন্ত করতে পারেন, এর বেশি আর কিছু পারেন না। যিনি যথার্থ গুরু, তিনি শিষ্যের আত্মাকে উদ্ববাধিত করেন এবং তার অন্তর্নিহিত সকল প্রচ্ছন্ন শক্তিকে মুক্ত এবং ব্যক্ত করে তােলেন। সেই শক্তির বলে সে নিজের মন নিজে গড়ে তােলে, নিজের অভিমতবিদ্যা নিজে অর্জন করে বিদ্যার সাধনা শিষ্যকে নিজে করতে হয়। গুরু উত্তরসাধক মাত্র। আমাদের স্কুল-কলেজের শিক্ষার পদ্ধতি ঠিক উলটো। সেখানে ছেলেদের বিদ্যে গেলানাে হয়, তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর নাই পারুক। এর ফলে ছেলেরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণশীর্ণ হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে। একটা জানাশােনা উদাহরণের সাহায্যে ব্যাপারটা পরিষ্কার করা যাক। আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন, যাঁরা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে ওঁ গরুর দুধ গেলানােটাই শিশুর স্বাস্থ্যরক্ষার ও বলবৃদ্ধির সর্বপ্রধান উপায় মনে করেন। গােদুগ্ধ অবশ্য অতিশয় উপাদেয় পদার্থ, কিন্তু তার উপকারিতা যে ভােক্তার জীর্ণ করবার শক্তির উপর নির্ভর করে এ জ্ঞান ও শ্রেণির মাতৃকুলের নেই। তাদের বিশ্বাস ও-বস্তু পেটে গেলেই উপকার হবে। কাজেই শিশু যদি তা গিলতে আপত্তি করে তা হলে সে যে ব্যাদড়া ছেলে, সে বিষয়ে আর বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকে না। অতএব তখন তাকে ধরে-বেঁধে জোর জবরদস্তি করে দুধ খাওয়ানাের ব্যবস্থা করা হয়। শেষটায় সে যখন এই দুগ্ধপান ক্রিয়া হতে অব্যাহতি লাভ করবার জন্য মাথা নাড়তে, হাত-পা ছুড়তে শুরু করে, তখন স্নেহময়ী মাতা বলেন ‘আমার মাথা খাও, মরামুখ দেখ, এই ঢোেক, আর এক ঢােক, আর এক ঢােক ইত্যাদি। মাতার উদ্দেশ্য যে খুব সাধু, সে বিষয়ে কোনাে সন্দেহ নেই, কিন্তু এ বিষয়েও কোনাে সন্দেহ নেই যে, উক্ত বলা কওয়ার ফলে মা শুধু ছেলের যকৃতের মাথা খান এবং ঢােকের পর ঢােকে তার মরামুখ দেখবার সম্ভাবনা বাড়িয়ে চলেন। আমাদের স্কুল-কলেজের শিক্ষা পদ্ধতিটাও ঐ একই ধরনের। এর ফলে কত ছেলের সুস্থ সরল মন যে ইনফ্যান্টাইল লিভারে গতাসু হচ্ছে তা বলা কঠিন। কেননা দেহের মৃত্যুর রেজিস্টারি রাখা হয়, আত্মার মৃত্যুর হয় না। আমরা কিন্তু এই আত্মার অপমৃত্যুতে ভীত হওয়া দূরে থাক, উফুল্ল হয়ে উঠি। আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে। পাশ করা ও শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয়, এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই। শিক্ষা-শাস্ত্রের একজন জগদৃবিখ্যাত ফরাসি শাস্ত্রী বলেছেন যে, এক সময়ে ফরাসি দেশে শিক্ষা-পদ্ধতি এতই বেয়াড়া ছিল যে, সে যুগে France was saved by her idlers ; অর্থাৎ যারা পাশ করতে পারেনি বা চায় নি তারাই ফ্রান্সকে রক্ষা করেছে। এর কারণ, হয় তাদের মনের বল ছিল বলে কলেজের শিক্ষাকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছিল, নয় সে শিক্ষা প্রত্যাখ্যান করেছিল বলেই তাদের মনের বল বজায় ছিল। তাই এই স্কুল-পালানাে ছেলেদের দল থেকে সে যুগের ফ্রান্সের যত কৃতকর্মা লােকের আবির্ভাব হয়েছিল।
সে যুগে ফ্রান্সে কী রকম শিক্ষা দেওয়া হতাে তা আমার জানা নেই। তবুও আমি জোর করে বলতে পারি যে, এ যুগে আমাদের স্কুল কলেজে শিক্ষার যে রীতি চলছে, তার চাইতে সে শিক্ষাপদ্ধতি কখনােই নিকৃষ্ট ছিল না। সকলেই জানেন যে, বিদ্যালয়ে মাস্টার মহাশয়েরা নােট দেন এবং সেই নােট মুখস্থ করে ছেলেরা হয় পাশ। এর জুড়ি আর একটি ব্যাপারও আমাদের দেশে দেখা যায় । এদেশে একদল বাজিকর আছে, যারা বন্দুকের গুলি থেকে আরম্ভ করে উত্তরােত্তর কামানের গােলা পর্যন্ত গলাধঃকরণ করে। তারপর একে একে সবগুলাে উগলে দেয়। এর ভেতর যে অসাধারণ কৌশল আছে, সে বিষয়ে কোনাে সন্দেহ নেই। কিন্তু এই গেলা আর ওগলানাে দর্শকের কাছে তামাশা হলেও বাজিকরের কাছে তা প্রাণান্ত ব্যাপার । ও কারদানি করা তার পক্ষে যেমন কষ্টসাধ্য, তেমনি অপকারী। বলা বাহুল্য, সে বেচারা লােহার গােলাগুলাের এক কণাও জীর্ণ করতে পারে না। আমাদের ছেলেরাও তেমনি নােট নামক গুরুদত্ত নানা আকারের ও নানা প্রকারের গােলাগুলাে বিদ্যালয়ে গলাধঃকরণ করে পরীক্ষালয়ে তা উদ্‌গিরণ করে দেয়। এ জন্য সমাজ তাদের বাহবা দেয় দিক, কিন্তু মনে যেন না ভাবে যে, এতে জাতির প্রাণশক্তি বাড়ছে। স্কুল-কলেজে শিক্ষা যে অনেকাংশে ব্যর্থ সে বিষয়ে প্রায় অধিকাংশ লােকই একমত। আমি বলি, শুধু ব্যর্থ নয়, অনেক স্থলে মারাত্মক। কেননা আমাদের স্কুল-কলেজের ছেলেদের স্বশিক্ষিত হবার সে সুযােগ দেয় না, শুধু তাই নয়, স্বশিক্ষিত হবার শক্তি পর্যন্ত নষ্ট করে। আমাদের শিক্ষাযন্ত্রের মধ্যে যে যুবক নিষ্পেষিত হয়ে বেরিয়ে আসে, ? তার আপনার বলতে আর বেশি কিছু থাকে না, যদি না তার প্রাণ অত্যন্ত কড়া হয়। সৌভাগ্যের বিষয়, এই ক্ষীণপ্রাণ জাতির মধ্যেও জনকতক এমন কঠিন প্রাণের লােক আছে, এহেন শিক্ষাপদ্ধতিও তাদের মনকে জখম করলেও একেবারে বন্ধ করতে পারে না। আমি লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপরে স্থান দিই এই কারণে যে, এ স্থলে লােকে স্বেচ্ছায় স্বাচ্ছন্দচিত্তে স্বশিক্ষিত হবার সুযােগ পায়। প্রতিটি লােক তার স্বীয় শক্তি ও রুচি অনুসারে নিজের মনকে নিজের চেষ্টায় আত্মার রাজ্যে জ্ঞানের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। স্কুল কলেজ বর্তমানে আমাদের যে অপকার করছে সে অপকারের প্রতিকারের জন্য শুধু নগরে নগরে নয়, গ্রামে গ্রামে লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠা করা কর্তব্য। আমি পূর্বে বলেছি যে, লাইব্রেরি হাসপাতালের চাইতে কম উপকারী নয়, তার কারণ আমাদের শিক্ষার বর্তমান অবস্থায় লাইব্রেরি হচ্ছে একরকম মনের হাসপাতাল। অতঃপর আপনারা জিজ্ঞাসা করতে পারেন যে, বই পড়ার পক্ষ নিয়ে এ ওকালতি করবার, বিশেষত প্রাচীন নজির দেখাবার কী প্রয়ােজন ছিল? বই পড়া যে ভালাে, তা কে না মানে? আমার উত্তরসকলে মুখে মানলেও কাজে মানে না। মুসলমান ধর্মে মানবজাতি দুই ভাগে বিভক্ত। যারা কেতাবি, আর এক যারা তা নয়। বাংলায় শিক্ষিত সমাজ যে পূর্বদলভুক্ত নয়, একথা নির্ভয়ে বলা যায় না; আমাদের শিক্ষিত সম্প্রদায় মােটের ওপর বাধ্য না হলে বই স্পর্শ করেন না। ছেলেরা যে নােট পড়ে এবং ছেলের বাপেরা যে নজির পড়েন, দুই-ই বাধ্য হয়ে, অর্থাৎ পেটের দায়ে। সেইজন্য সাহিত্যচর্চা দেশে একরকম নেই বললেই হয়; কেননা, সাহিত্য সাক্ষাৎভাবে উদরপূর্তির কাজে লাগে না। বাধ্য হয়ে বই পড়ায় আমরা এতটা অভ্যস্ত হয়েছি যে, কেউ স্বেচ্ছায় বই পড়লে আমরা তাকে নিষ্কর্মার দলেই ফেলে দিই; অথচ একথা কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না, যে জিনিস স্বেচ্ছায় করা যায়, তাতে মানুষের মনের সন্তোষ নেই। একমাত্র উদরপূর্তিতে মানুষের সম্পূর্ণ মনস্তুষ্টি হয়। একথা আমরা সকলেই জানি যে,উদরের দাবি রক্ষা না করলে মানুষের দেহ বাঁচে না; কিন্তু একথা আমরা সকলে মানিনে যে, মনের দাবি রক্ষা না করলে মানুষের আত্মা বাঁচে না। দেহরক্ষা অবশ্য সকলেরই কর্তব্য কিন্তু আত্মরক্ষাও অকর্তব্য নয়। মানবের ইতিহাসের পাতায় পাতায় লেখা রয়েছে যে মানুষের প্রাণ মনের সম্পর্ক যত হারায় ততই তা দুর্বল হয়ে পড়ে। মনকে সজাগ ও সবল রাখতে না পারলে জাতির প্রাণ যথার্থ স্ফুর্তিলাভ করে না; তারপর যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব। একমাত্র আনন্দের স্পর্শেই মানুষের মনপ্রাণ সজীব, সতেজ ও সরাগ হয়ে ওঠে। সুতরাং সাহিত্যচর্চার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার অর্থ হচ্ছে, জাতির জীবনীশক্তির হ্রাস করা। অতএব, কোনাে নীতির অনুসারেই তা কর্তব্য হতে পারে না। অর্থনীতিরও নয়, ধর্মনীতিরও নয়। 
কাব্যামৃতে যে আমাদের অরুচি ধরেছে সে অবশ্য আমাদের দোষ নয়, আমাদের শিক্ষার দোষ। যার আনন্দ নেই সে নির্জীব একথা যেমন সত্য, যে নির্জীব তারও আনন্দ নেই, সে কথাও তেমনি সত্য। আমাদের শিক্ষাই আমাদের নির্জীব করেছে। জাতীয় আত্মরক্ষার জন্য এ শিক্ষার উলটো টান যে বই পড়া আমাদের টানতে হবে, এ বিষয়ে আমি নিঃসন্দেহ। এই বিশ্বাসের বলেই আমি স্বেচ্ছায় সাহিত্যচর্চার সপক্ষে এত বাক্য ব্যয় করলুম। সে বাক্যে আপনাদের মনােরঞ্জন করতে সক্ষম হয়েছি কিনা জানিনে। সম্ভবত হইনি। কেননা, আমাদের দুরবস্থার কথা যখন স্মরণ করি, তখন খালি কোমল সুরে আলাপ করা আর চলে না; মনের আক্ষেপ প্রকাশ করতে মাঝে মাঝেই কড়ি লাগাতে হয়। 
শব্দার্থ ও টীকা : শৌখিন- রুচিবান। উদ্বাহ- ঊর্ধ্ববাহু। আহ্লাদে হাত ওঠানাে। ডেমােক্রেসিগণতন্ত্র । সন্দিহান- সন্দেহযুক্ত। সুসার- প্রাচুর্য, সচ্ছলতা, সুবিধা। জজ- বিচারক। ভড়েও ভবানীরিক্ত, শূন্য। আবহমানকাল- চিরকাল। সােম্লাসে- আনন্দে। অবগাহন- সর্বাঙ্গ ডুবিয়ে গােসল। উপায়ান্তর- অন্য কোনাে উপায়। স্বশিক্ষিত- নিজে নিজে শিক্ষিত। প্রচ্ছন্ন গোেপন। জীর্ণ- হজম। অব্যাহতি- মুক্তি। গতা- মৃত । গলাধঃকরণ- গিলে ফেলা। কারদানি- বাহাদুরি। উদরপূর্তিপেট ভরানাে। ডেমােক্রেটিক- গণতান্ত্রিক। দাতাকর্ণ- মহাভারতের বিশিষ্ট চরিত্র, কুন্তীপুত্র; দানের জন্য প্রবাদতুল্য মানুষ। কেতাবি- কেতাব অনুসরণ করে চলে যারা। 

পাঠ-পরিচিতি: বই পড়া’ প্রবন্ধটি প্রমথ চৌধুরীর প্রবন্ধ সংগ্রহ থেকে নির্বাচন করা হয়েছে। একটি লাইব্রেরির বার্ষিক সভায় প্রবন্ধটি পঠিত হয়েছিল। আমাদের পাঠচর্চার অনভ্যাস যে শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটির জন্য ঘটছে তা সহজেই লক্ষণীয়। আর্থিক অনটনের কারণে অর্থকরী নয় এমন সবকিছুই এদেশে অনর্থক বলে বিবেচনা করা হয়। সেজন্য বই পড়ার প্রতি লােকের অনীহা দেখা যায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে লব্ধ শিক্ষা পূর্ণাঙ্গ নয় বলে ব্যাপকভাবে বই পড়া দরকার। কারণ সুশিক্ষিত লােক মাত্রই স্বশিক্ষিত। যথার্থ শিক্ষিত হতে হলে মনের প্রসার দরকার। তার জন্য বই পড়ার অভ্যাস বাড়াতে হবে। এর জন্য লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার প্রয়ােজন। বাধ্য না হলে লােকে বই পড়ে না। লাইব্রেরিতে লােকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী বই পড়ে যথার্থ শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারে। প্রগতিশীল জগতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য সাহিত্যচর্চা করা আবশ্যক বলে লেখক মনে করেন। বই পড়া’ প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী বই পড়ার গুরুত্ব ও তাৎপর্য উপস্থাপন করেছেন। প্রবন্ধটি এই শিক্ষাই দেয় যে, জাতির মানসিক বিকাশ ও সমৃদ্ধিতে বই পড়া, জ্ঞান ও সাহিত্যচর্চার কোনাে বিকল্প নেই।

অনুশীলনী কর্ম-অনুশীলন
১. তােমাদের স্কুলের বইপড়া প্রতিযােগিতা তােমার শিক্ষাজীবনে যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে
তা উল্লেখ কর।
২. বই পড়ার অভ্যাস কীভাবে আরাে বৃদ্ধি করা যায়- সে বিষয়ে তােমার প্রস্তাব দাও।

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১। বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক লাইব্রেরিকে কীসের ওপর স্থান দিয়েছেন?
ক. হাসপাতালের
খ. স্কুল-কলেজের
গ. অর্থ-বিত্তের
ঘ. জ্ঞানী মানুষের
২. স্বশিক্ষিত বলতে কী বুঝায়?
ক. সৃজনশীলতা অর্জন
খ. সার্টিফিকেট অর্জন
গ. বুদ্ধির জাগরণ।
ঘ. উচ্চ শিক্ষা অর্জন।
উদ্দীপকটি পড়ে ৩ ও ৪-সংখ্যক প্রশ্নের উত্তর দাও :
‘পড়িলে বই আলােকিত হই।
পড়িলে বই অন্ধকারে রই।
৩. উদ্দীপকটির ভাবার্থ বই পড়া' প্রবন্ধের কোন বাক্যে বিদ্যমান?
ক. জ্ঞানের ভাণ্ডার ধনের ভাণ্ডার নয়।
খ. শিক্ষা কেউ কাউকে দিতে পারে না।
গ. সুশিক্ষিত লােক মাত্রই স্বশিক্ষিত 
ঘ. আমাদের বাজারে বিদ্যাদাতার অভাব নেই
৪। উদ্দীপকটির ভাবার্থ বই পড়া' প্রবন্ধের যে ভাবকে নির্দেশ করে তা হলাে –
i. জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে মৌলিকত্ব অর্জন
ii. শিক্ষাযন্ত্রের মাধ্যমে বিকশিত হওয়া
iii. শিক্ষকের মাধ্যমে বিকশিত হওয়া নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
সৃজনশীল প্রশ্ন
জাতীয় জীবনধারা গঙ্গা-যমুনার মতােই দুই ধারায় প্রবাহিত। এক ধারার নাম আত্মরক্ষা বা স্বার্থপ্রসার, আরেক ধারার নাম আত্মপ্রকাশ বা পরমার্থ বৃদ্ধি। একদিকে যুদ্ধবিগ্রহ, মামলা-ফ্যাসাদ প্রভৃতি কদর্য দিক; অপরদিকে সাহিত্য, শিল্প, ধর্ম প্রভৃতি কল্যাণপ্রদ দিক। একদিকে শুধু কাজের জন্য কাজ। অপরদিকে আনন্দের জন্য কাজ। একদিকে সংগ্রহ, আরেক দিকে সৃষ্টি। যে জাতি দ্বিতীয় দিকটির প্রতি উদাসীন থেকে শুধু প্রথম দিকটির সাধনা করে, সে জাতি কখনও উঁচু জীবনের অধিকারী হতে পারে না।
ক. ভাঁড় ও ভবানী’ অর্থ কী? ১
খ. অন্তর্নিহিত শক্তি বলতে কী বােঝানাে হয়েছে? ২
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত প্রথম দিকটি বই পড়া' প্রবন্ধের যে দিকটিকে ইঙ্গিত করে তা ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উদ্দীপকে পরমার্থ বৃদ্ধির প্রতি যে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তা বই পড়া' প্রবন্ধের লেখকের মতকে সমর্থন করে।”- মন্তব্যটির বিচার কর। ৪


৭৫টি এমসিকিউ (MCQ) প্রশ্ন ও উত্তর

১. ‘বই পড়া’ প্রবন্ধটির লেখক কে?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (খ) প্রমথ চৌধুরী (গ) কাজী নজরুল ইসলাম (ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
**উত্তর: (খ) প্রমথ চৌধুরী [১]**

২. প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম কী?
(ক) বনফুল (খ) টেকচাঁদ ঠাকুর (গ) বীরবল (ঘ) নীললোহিত
**উত্তর: (গ) বীরবল [১]**

৩. প্রমথ চৌধুরী কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
(ক) ১৮৬১ (খ) ১৮৬৮ (গ) ১৮৭১ (ঘ) ১৮৯৯
**উত্তর: (খ) ১৮৬৮ [১]**

৪. প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত বিখ্যাত পত্রিকার নাম কী?
(ক) বঙ্গদর্শন (খ) সবুজ পত্র (গ) সাধনা (ঘ) কল্লোল
**উত্তর: (খ) সবুজ পত্র [১]**

৫. লেখকের মতে মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ কোনটি?
(ক) ভ্রমণ করা (খ) গান গাওয়া (গ) বই পড়া (ঘ) ছবি আঁকা
**উত্তর: (গ) বই পড়া [৩]**

৬. 'বই পড়া' প্রবন্ধটি লেখকের কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
(ক) বীরবলের হালখাতা (খ) প্রবন্ধ সংগ্রহ (গ) রায়তের কথা (ঘ) আহুতি
**উত্তর: (খ) প্রবন্ধ সংগ্রহ [১৭]**

৭. ডেমোক্রেসি কিসের সার্থকতা বোঝে না?
(ক) অর্থের (খ) সাহিত্যের (গ) বিজ্ঞানের (ঘ) ধর্মের
**উত্তর: (খ) সাহিত্যের [৩]**

৮. "ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়"—এটি কোন সভ্যতার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে?
(ক) আর্য সভ্যতা (খ) ইংরেজি সভ্যতা (গ) ফরাসি সভ্যতা (ঘ) গ্রিক সভ্যতা
**উত্তর: (খ) ইংরেজি সভ্যতা [৪]**

৯. দর্শনের চর্চা কোথায় করা চলে?
(ক) মন্দিরে (খ) গুহায় (গ) ঘরে (ঘ) জাদুঘরে
**উত্তর: (খ) গুহায় [৫]**

১০. বিজ্ঞান চর্চার জন্য লেখকের মতে উপযুক্ত স্থান কোনটি?
(ক) লাইব্রেরি (খ) কারখানা (গ) জাদুঘর (ঘ) চিড়িয়াখানা
**উত্তর: (গ) জাদুঘর [৫]**

১১. লেখকের মতে লাইব্রেরির সার্থকতা কার চাইতে বেশি?
(ক) হাসপাতালের (খ) ক্লাবের (গ) স্কুল-কলেজের (ঘ) মন্দিরের
**উত্তর: (গ) স্কুল-কলেজের [৬]**

১২. "সুশিক্ষিত লোক মাত্রই —" শূন্যস্থান পূরণ করো।
(ক) স্বশিক্ষিত (খ) উচ্চশিক্ষিত (গ) নীতিবান (ঘ) ধনবান
**উত্তর: (ক) স্বশিক্ষিত [৭]**

১৩. মনারাজ্যে দান কিসের ওপর নির্ভর করে?
(ক) দাতার ওপর (খ) গ্রহীতার ওপর (গ) অর্থের ওপর (ঘ) ভাগ্যের ওপর
**উত্তর: (খ) গ্রহণসাপেক্ষ বা গ্রহীতার ওপর [৭]**

১৪. লেখক গুরুকে কী হিসেবে অভিহিত করেছেন?
(ক) দাতা (খ) উত্তরসাধক (গ) পরিচালক (ঘ) শাসক
**উত্তর: (খ) উত্তরসাধক [৮]**

১৫. ফরাসি দেশে কোন দল দেশকে রক্ষা করেছিল?
(ক) মেধাবীরা (খ) শিক্ষকরা (গ) স্কুল-পালানো ছেলেরা (ঘ) শাসকরা
**উত্তর: (গ) স্কুল-পালানো বা অলস ছেলেরা [৯, ১০]**

১৬. দেহের মৃত্যুর রেজিস্টারি রাখা হয়, কিন্তু কিসের হয় না?
(ক) প্রাণের (খ) আত্মার (গ) মনের (ঘ) মেধার
**উত্তর: (খ) আত্মার [৯]**

১৭. লোহার গোলা গেলার সাথে কিসের তুলনা করা হয়েছে?
(ক) খেলাধুলা (খ) নোট মুখস্থ করা (গ) ব্যায়াম (ঘ) গান গাওয়া
**উত্তর: (খ) নোট মুখস্থ করা [১১]**

১৮. লেখক লাইব্রেরিকে কিসের সাথে তুলনা করেছেন?
(ক) মন্দির (খ) মনের হাসপাতাল (গ) বিদ্যালয় (ঘ) কারাগার
**উত্তর: (খ) মনের হাসপাতাল [১২]**

১৯. "ভঁড়েও ভবানী" প্রবাদটির অর্থ কী?
(ক) পূর্ণ (খ) রিক্ত বা শূন্য (গ) দামি (ঘ) ধার্মিক
**উত্তর: (খ) রিক্ত বা শূন্য [১৬]**

২০. 'উদ্বাহু' শব্দের অর্থ কী?
(ক) নিচু হাত (খ) ঊর্ধ্ববাহু (গ) শক্তিশালী হাত (ঘ) দুর্বল হাত
**উত্তর: (খ) ঊর্ধ্ববাহু [১৬]**

২১. 'সবুজ পত্র' পত্রিকা বাংলা সাহিত্যে কোন রীতি প্রবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে?
(ক) সাধু (খ) চলতি (গ) মিশ্র (ঘ) উপভাষা
**উত্তর: (খ) চলতি [১]**

২২. প্রমথ চৌধুরী ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য কোথায় গিয়েছিলেন?
(ক) আমেরিকা (খ) বিলাত (গ) ফ্রান্স (ঘ) জার্মানি
**উত্তর: (খ) বিলাত [১]**

২৩. 'সনেট পঞ্চাশৎ' কার রচনা?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (খ) প্রমথ চৌধুরী (গ) জীবনানন্দ দাশ (ঘ) বুদ্ধদেব বসু
**উত্তর: (খ) প্রমথ চৌধুরী [১]**

২৪. সাহিত্যচর্চার জন্য কিসের আবশ্যকতা সবচেয়ে বেশি?
(ক) বিদ্যালয় (খ) লাইব্রেরি (গ) অর্থ (ঘ) অবসর
**উত্তর: (খ) লাইব্রেরি [৫]**

২৫. মানুষের পুরো মনটার সাক্ষাৎ কোথায় পাওয়া যায়?
(ক) বিজ্ঞানে (খ) দর্শনে (গ) সাহিত্যে (ঘ) ইতিহাসে
**উত্তর: (গ) সাহিত্যে [৫]**

২৬. 'বই পড়া' প্রবন্ধটি কোথায় প্রথম পঠিত হয়েছিল?
(ক) একটি সভায় (খ) লাইব্রেরির বার্ষিক সভায় (গ) বিদ্যালয়ে (ঘ) পার্লামেন্টে
**উত্তর: (খ) লাইব্রেরির বার্ষিক সভায় [১৭]**

২৭. লেখক কাকে 'উত্তরসাধক' বলেছেন?
(ক) পিতাকে (খ) শিক্ষককে (গ) বন্ধুকে (ঘ) কবিকে
**উত্তর: (খ) শিক্ষককে বা গুরুকে [৮]**

২৮. 'দাতাকর্ণ' কোন মহাকাব্যের চরিত্র?
(ক) রামায়ণ (খ) মহাভারত (গ) ইলিয়াড (ঘ) ওডিসি
**উত্তর: (খ) মহাভারত [১৬]**

২৯. 'গতাসু' শব্দের অর্থ কী?
(ক) আসা (খ) মৃত (গ) জীবন্ত (ঘ) আনন্দিত
**উত্তর: (খ) মৃত [১৬]**

৩০. 'অবগাহন' শব্দের অর্থ কী?
(ক) গান গাওয়া (খ) সর্বাঙ্গ ডুবিয়ে গোসল (গ) দেখা (ঘ) হাঁটা
**উত্তর: (খ) সর্বাঙ্গ ডুবিয়ে গোসল [১৬]**

৩১. কার মানসিক মন্দাগ্নি হয়?
(ক) শিশুর (খ) শিক্ষার্থীদের (গ) শিক্ষকদের (ঘ) অলসদের
**উত্তর: (খ) শিক্ষার্থীদের (যান্ত্রিক শিক্ষার ফলে) [৮]**

৩২. 'নিষ্কর্মা' বলতে লেখক কাদের বুঝিয়েছেন?
(ক) যারা কাজ করে না (খ) যারা স্বেচ্ছায় বই পড়ে (গ) যারা ঘুমায় (ঘ) যারা খেলে
**উত্তর: (খ) যারা স্বেচ্ছায় বই পড়ে [১৩]**

৩৩. ধর্মের চর্চা মন্দিরের বাইরে করা গেলেও কিসের চর্চা লাইব্রেরির বাইরে করা যায় না?
(ক) দর্শন (খ) বিজ্ঞান (গ) সাহিত্য (ঘ) নীতি
**উত্তর: (গ) সাহিত্য [৫]**

৩৪. 'বই পড়া' প্রবন্ধে কোন দেশের শিক্ষা-শাস্ত্রীর কথা বলা হয়েছে?
(ক) ইংরেজি (খ) ফরাসি (গ) জার্মান (ঘ) জাপানি
**উত্তর: (খ) ফরাসি [৯]**

৩৫. প্রমথ চৌধুরী কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
(ক) ১৯৪০ (খ) ১৯৪৬ (গ) ১৯৫০ (ঘ) ১৯৫২
**উত্তর: (খ) ১৯৪৬ [১]**

১. "সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত"—এ কথার তাৎপর্য কী?
(ক) স্কুলে না পড়েও পণ্ডিত হওয়া (খ) নিজের চেষ্টায় অর্জিত শিক্ষাই প্রকৃত শিক্ষা (গ) শুধু বই পড়ে জ্ঞানী হওয়া (ঘ) ডিগ্রি অর্জন করা
**উত্তর: (খ) নিজের চেষ্টায় অর্জিত শিক্ষাই প্রকৃত শিক্ষা [৭, ১৭]**

২. "ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়"—বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
(ক) রোগ দ্রুত ছড়ায় (খ) গণতন্ত্রের দোষগুলো আমরা সহজেই গ্রহণ করেছি (গ) আমরা খুব অসুস্থ (ঘ) চিকিৎসকের অভাব
**উত্তর: (খ) গণতন্ত্রের দোষগুলো আমরা সহজেই গ্রহণ করেছি [৪]**

৩. লেখক লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপর স্থান দিয়েছেন কেন?
(ক) লাইব্রেরিতে টাকা লাগে না (খ) এখানে মানুষ স্বেচ্ছায় ও স্বাচ্ছন্দ্যে স্বশিক্ষিত হতে পারে (গ) স্কুল-কলেজ খুব দূরে (ঘ) লাইব্রেরিতে বই বেশি
**উত্তর: (খ) এখানে মানুষ স্বেচ্ছায় ও স্বাচ্ছন্দ্যে স্বশিক্ষিত হতে পারে [১২]**

৪. "মনারাজ্যে দান গ্রহণসাপেক্ষ"—উক্তিটির মূল ভাব কী?
(ক) দান করলে পুণ্য হয় (খ) জোর করে কাউকে শিক্ষিত করা যায় না (গ) শিক্ষকের অনেক টাকা (ঘ) ছাত্ররা দান নিতে পছন্দ করে
**উত্তর: (খ) জোর করে কাউকে শিক্ষিত করা যায় না [৭]**

৫. স্কুল-কলেজের শিক্ষাকে লেখক 'মারাত্মক' বলেছেন কেন?
(ক) এটি কঠিন (খ) এটি স্বশিক্ষিত হবার শক্তি নষ্ট করে দেয় (গ) এটি খরচ সাপেক্ষ (ঘ) শিক্ষক মারধর করেন
**উত্তর: (খ) এটি স্বশিক্ষিত হবার শক্তি নষ্ট করে দেয় [১২]**

৬. "জ্ঞানের ভাণ্ডার ধনের ভাণ্ডার নয়"—উক্তিটির মাধ্যমে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) জ্ঞান ও ধন এক নয় (খ) জ্ঞানী লোক দরিদ্র হয় (গ) ধনের চেয়ে জ্ঞানের মূল্য কম (ঘ) জ্ঞান থাকলে ধন পাওয়া যায় না
**উত্তর: (ক) জ্ঞান ও ধন এক নয় (তবে জ্ঞানের ওপরই ধন নির্ভরশীল) [৪]**

৭. "মনের দাবি রক্ষা না করলে মানুষের আত্মা বাঁচে না"—কেন?
(ক) মানুষ মরে যায় (খ) সৃজনশীলতা ও মানসিক জীবনীশক্তি নষ্ট হয় (গ) আত্মা অমর (ঘ) বই পড়া ছাড়া খাবার জোটে না
**উত্তর: (খ) সৃজনশীলতা ও মানসিক জীবনীশক্তি নষ্ট হয় [১৩, ১৪]**

৮. সাহিত্যকে কেন 'মনগঙ্গার পূর্ণ স্রোত' বলা হয়েছে?
(ক) এটি পবিত্র (খ) এতে মানুষের পুরো মনের প্রতিফলন ঘটে (গ) সাহিত্য একটি নদী (ঘ) এটি বিজ্ঞানের অংশ
**উত্তর: (খ) এতে মানুষের পুরো মনের প্রতিফলন ঘটে [৫]**

৯. লেখক কেন বই পড়ার পরামর্শ দিতে কুণ্ঠিত?
(ক) তিনি নিজে বই পড়েন না (খ) মানুষ একে কুপরামর্শ বা বিলাসিতা মনে করতে পারে (গ) বই খুব দামি (ঘ) মানুষ অশিক্ষিত
**উত্তর: (খ) মানুষ একে কুপরামর্শ বা বিলাসিতা মনে করতে পারে [৩]**

১০. বাজিকরের লোহার গোলা গেলার সাথে কিসের মিল আছে?
(ক) পরীক্ষা দেওয়া (খ) নোট মুখস্থ করা ও তা খাতায় লেখা (গ) বিদ্যালয়ে যাওয়া (ঘ) জাদু দেখানো
**উত্তর: (খ) নোট মুখস্থ করা ও তা খাতায় লেখা [১১]**

১১. 'ইনফ্যান্টাইল লিভার' বলতে শিক্ষার্থীদের কোন অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে?
(ক) যকৃতের রোগ (খ) জোরপূর্বক শিক্ষার চাপে মানসিক বিকলতা (গ) অপুষ্টি (ঘ) শৈশবকাল
**উত্তর: (খ) জোরপূর্বক শিক্ষার চাপে মানসিক বিকলতা [৯]**

১২. "জাতীয় আত্মরক্ষার জন্য বই পড়ার উল্টো টান টানতে হবে"—কেন?
(ক) দেশ রক্ষার জন্য (খ) ক্ষতিকর শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য (গ) বই বিক্রি বাড়ানোর জন্য (ঘ) উল্টো পথে চলার জন্য
**উত্তর: (খ) ক্ষতিকর শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য [১৫]**

১৩. ডেমোক্রেসির শিষ্যরা কেন 'বড়মানুষ' হতে চায়?
(ক) তারা মহৎ হতে চায় (খ) তারা ধনী ও ক্ষমতাশালী হতে চায় (গ) তারা শিক্ষক হতে চায় (ঘ) তারা অলস
**উত্তর: (খ) তারা ধনী ও ক্ষমতাশালী হতে চায় [৪]**

১৪. " France was saved by her idlers"—এখানে 'idlers' বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
(ক) অলস ব্যক্তিদের (খ) যারা গতানুগতিক পরীক্ষা পদ্ধতি প্রত্যাখ্যান করেছিল (গ) রাজাদের (ঘ) চাষিদের
**উত্তর: (খ) যারা গতানুগতিক পরীক্ষা পদ্ধতি প্রত্যাখ্যান করেছিল [৯]**

১৫. সাহিত্যের রস উপভোগে অনীহার প্রধান কারণ কী?
(ক) বইয়ের অভাব (খ) দারিদ্র্য ও যান্ত্রিক শিক্ষা পদ্ধতি (গ) পাঠাগারের অভাব (ঘ) অলসতা
**উত্তর: (খ) দারিদ্র্য ও যান্ত্রিক শিক্ষা পদ্ধতি [৩, ১৫]**

১৬. লাইব্রেরিকে 'মনের হাসপাতাল' বলা হয়েছে কেন?
(ক) সেখানে ডাক্তার থাকে (খ) এটি মানসিক জড়তা বা রোগ নিরাময় করে (গ) সেখানে ওষুধ পাওয়া যায় (ঘ) এটি খুব শান্ত
**উত্তর: (খ) এটি মানসিক জড়তা বা রোগ নিরাময় করে [১২]**

১৭. "জ্ঞানের সৃষ্টি মনসাপেক্ষ"—কথাটির অর্থ কী?
(ক) মন ছাড়া জ্ঞান হয় না (খ) বুদ্ধিবৃত্তি ও চিন্তার প্রসারে জ্ঞানের উদ্ভব ঘটে (গ) মন খুব চঞ্চল (ঘ) জ্ঞান খুব কঠিন
**উত্তর: (খ) বুদ্ধিবৃত্তি ও চিন্তার প্রসারে জ্ঞানের উদ্ভব ঘটে [৪]**

১৮. কেন সাহিত্যচর্চা কারখানা বা চিড়িয়াখানায় সম্ভব নয়?
(ক) সেখানে অনেক শব্দ (খ) সেখানে সাহিত্যের মুক্ত পরিবেশ নেই (গ) সেখানে বই নেই (ঘ) সেখানে জীবজন্তু থাকে
**উত্তর: (খ) সেখানে সাহিত্যের মুক্ত পরিবেশ নেই [৫]**

১৯. মনারাজ্যে গুরুর ভূমিকা কী?
(ক) শাসন করা (খ) ছাত্রের আত্মাকে উদ্বুদ্ধ ও শক্তিকে মুক্ত করা (গ) নোট দেওয়া (ঘ) পরীক্ষা নেওয়া
**উত্তর: (খ) ছাত্রের আত্মাকে উদ্বুদ্ধ ও শক্তিকে মুক্ত করা [৭]**

২০. "যে নির্জীব তারও আনন্দ নেই"—উক্তিটি কোন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে?
(ক) অসুস্থতা (খ) আনন্দহীন ও যান্ত্রিক জাতির সাহিত্যবিমুখতা (গ) অলসতা (ঘ) দারিদ্র্য
**উত্তর: (খ) আনন্দহীন ও যান্ত্রিক জাতির সাহিত্যবিমুখতা [১৫]**


**উদ্দীপক ১:** রফিক সাহেব তার ছেলেকে শুধু ক্লাসের টেক্সট বই পড়তে বলেন। তিনি মনে করেন গল্পের বই পড়লে সময় নষ্ট হবে এবং পরীক্ষায় নম্বর কম আসবে।

১. উদ্দীপকের রফিক সাহেবের মানসিকতা 'বই পড়া' প্রবন্ধের কোন বিষয়ের সাথে মিলে যায়?
(ক) স্বশিক্ষা (খ) শিক্ষা পদ্ধতির প্রশংসা (গ) বৈষয়িক ও সংকীর্ণ শিক্ষা ভাবনা (ঘ) লাইব্রেরির গুরুত্ব
**উত্তর: (গ) বৈষয়িক ও সংকীর্ণ শিক্ষা ভাবনা [৩, ৪]**

**উদ্দীপক ২:** সীমা লাইব্রেরিতে গিয়ে প্রতিদিন তার পছন্দের কবিতার বই পড়ে। এতে তার মন অনেক সজীব থাকে।

২. সীমার এই আচরণ প্রবন্ধের কোন বিষয়টিকে সমর্থন করে?
(ক) অর্থের সার্থকতা (খ) নোট মুখস্থ করা (গ) স্বেচ্ছায় ও স্বাচ্ছন্দ্যে জ্ঞানার্জন (ঘ) জবরদস্তি শিক্ষা
**উত্তর: (গ) স্বেচ্ছায় ও স্বাচ্ছন্দ্যে জ্ঞানার্জন [১২]**

**উদ্দীপক ৩:** জনৈক শিক্ষক ক্লাসে এসে ছাত্রদের বললেন, "আমি তোমাদের পথ দেখিয়ে দেব, কিন্তু শিখতে হবে তোমাদেরই।"

৩. শিক্ষকের এই উক্তি প্রবন্ধের কোন ধারণাকে প্রতিফলিত করে?
(ক) শিক্ষকই সব (খ) সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত (গ) নোট দেওয়া (ঘ) ছাত্রদের শাসন করা
**উত্তর: (খ) সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত [৭]**

**উদ্দীপক ৪:** একটি জাতি কেবল কলকারখানা আর বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত, তাদের কোনো সাহিত্যিক বা লাইব্রেরি নেই।

৪. প্রবন্ধের লেখক এই জাতির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী মন্তব্য করবেন?
(ক) এরা খুব ধনী হবে (খ) এরা আত্মিকভাবে নির্জীব হয়ে পড়বে (গ) এরা খুব শক্তিশালী (ঘ) এরা বিজ্ঞানী হবে
**উত্তর: (খ) এরা আত্মিকভাবে নির্জীব হয়ে পড়বে [১৪, ১৫]**

**উদ্দীপক ৫:** মা তার শিশুকে জোর করে খাওয়ানোর ফলে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ল।

৫. প্রবন্ধের আলোকে এই ঘটনার সাথে শিক্ষার কোন দিকটির তুলনা করা যায়?
(ক) নৈতিক শিক্ষা (খ) জোরপূর্বক নোট গেলানো ও মানসিক মন্দাগ্নি (গ) স্বশিক্ষা (ঘ) শরীর চর্চা
**উত্তর: (খ) জোরপূর্বক নোট গেলানো ও মানসিক মন্দাগ্নি [৮]**

**উদ্দীপক ৬:** রহিম সাহেব মনে করেন, জ্ঞান থাকলে টাকা আসবেই, তাই তিনি প্রচুর পড়াশোনা করেন।

৬. রহিম সাহেবের এই বিশ্বাস প্রবন্ধের কোন বক্তব্যের সাথে সংগতিপূর্ণ?
(ক) ধনের সৃষ্টি জ্ঞানসাপেক্ষ (খ) টাকা থাকলেই জ্ঞান হয় (গ) জ্ঞান অর্জন অনর্থক (ঘ) পড়াশোনা বিলাসিতা
**উত্তর: (ক) ধনের সৃষ্টি জ্ঞানসাপেক্ষ [৪]**

**উদ্দীপক ৭:** একটি লাইব্রেরিতে গিয়ে কামাল নিজের পছন্দমতো বই পড়ে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

৭. কামালের ক্ষেত্রে লাইব্রেরিটি কী হিসেবে কাজ করছে?
(ক) জাদুঘর (খ) স্বশিক্ষার ক্ষেত্র বা মনের হাসপাতাল (গ) আড্ডার জায়গা (ঘ) অফিস
**উত্তর: (খ) স্বশিক্ষার ক্ষেত্র বা মনের হাসপাতাল [১২]**

**উদ্দীপক ৮:** সজীব পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলেও কোনো সাধারণ জ্ঞান বা সাহিত্যিক রস বোঝে না।

৮. সজীবের এই অবস্থা প্রবন্ধের কোন দিকটি ফুটিয়ে তোলে?
(ক) উচ্চশিক্ষা (খ) পাস করা ও শিক্ষিত হওয়া যে এক বস্তু নয় (গ) মেধাবী ছাত্র (ঘ) আদর্শ শিক্ষার্থী
**উত্তর: (খ) পাস করা ও শিক্ষিত হওয়া যে এক বস্তু নয় [৯]**

**উদ্দীপক ৯:** একটি সমাজ মনে করে কবিতা পড়া নিষ্কর্মাদের কাজ, কেবল আইন বা বিজ্ঞানের বই পড়া উচিত।

৯. এই সমাজের ভুলটি প্রবন্ধের আলোকে কী?
(ক) তারা জ্ঞানী (খ) তারা সাহিত্যের সার্থকতা বা মানুষের পুরো মনের রূপ বোঝে না (গ) তারা পরিশ্রমী (ঘ) তারা সঠিক পথে আছে
**উত্তর: (খ) তারা সাহিত্যের সার্থকতা বা মানুষের পুরো মনের রূপ বোঝে না [৩, ৫]**

**উদ্দীপক ১০:** জজ সাহেব বিচার করার সময় কেবল আইনি বইয়ের উদ্ধৃতি দেন, কোনো কাব্যিক সৌন্দর্য বোঝেন না।

১০. জজ সাহেবের এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রবন্ধের কোন চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলে?
(ক) রসিক ব্যক্তি (খ) কেবল 'নজির' পড়া বাধ্যগত শিক্ষিত সমাজ (গ) স্বশিক্ষিত ব্যক্তি (ঘ) সৃজনশীল লেখক
**উত্তর: (খ) কেবল 'নজির' পড়া বাধ্যগত শিক্ষিত সমাজ [১৩]**

**উদ্দীপক ১:** একটি দেশে প্রচুর স্কুল-কলেজ আছে কিন্তু কোনো লাইব্রেরি নেই। সেখানকার মানুষ উচ্চ শিক্ষিত কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো সৃজনশীলতা নেই।

১. উদ্দীপকের পরিস্থিতির আলোকে 'বই পড়া' প্রবন্ধের কোন সিদ্ধান্তটি সবচেয়ে বেশি যৌক্তিক?
(ক) স্কুল-কলেজ বাড়িয়ে লাভ নেই (খ) জাতীয় মানসিক বিকাশের জন্য লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য (গ) মানুষ এমনিতেই শিক্ষিত হবে (ঘ) অর্থ থাকলেই সব হবে
**উত্তর: (খ) জাতীয় মানসিক বিকাশের জন্য লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য [১২, ১৭]**

**উদ্দীপক ২:** কবির সাহেব মনে করেন, লাইব্রেরিতে গিয়ে সময় নষ্ট করার চেয়ে নোট মুখস্থ করে পরীক্ষায় পাস করা ভালো।

২. কবির সাহেবের এই ভাবনা প্রবন্ধের আলোকে কী ফলাফল বয়ে আনবে?
(ক) আত্মার সমৃদ্ধি (খ) আত্মার অপমৃত্যু ও সৃজনশীলতার বিনাশ (গ) উচ্চ পদপ্রাপ্তি (ঘ) দেশপ্রেম
**উত্তর: (খ) আত্মার অপমৃত্যু ও সৃজনশীলতার বিনাশ [৯]**

**উদ্দীপক ৩:** "যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।"

৩. উদ্দীপকের এই উক্তিটি 'বই পড়া' প্রবন্ধের প্রেক্ষাপটে কোন সত্যকে প্রতিষ্ঠা করে?
(ক) আনন্দ করা দোষের (খ) সাহিত্যচর্চা ও আনন্দের অভাবে জাতির জীবনীশক্তি হ্রাস পায় (গ) শুধু গান গাওয়া উচিত (ঘ) খেলাধুলা জরুরি
**উত্তর: (খ) সাহিত্যচর্চা ও আনন্দের অভাবে জাতির জীবনীশক্তি হ্রাস পায় [১৪]**

**উদ্দীপক ৪:** এক ছাত্র নিজের তাগিদে লাইব্রেরিতে গিয়ে মহাকাশ বিজ্ঞান ও শেক্সপিয়ারের সাহিত্য পড়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করল।

৪. এই ছাত্রটি 'বই পড়া' প্রবন্ধের কোন দর্শনের সার্থক উদাহরণ?
(ক) যান্ত্রিক শিক্ষা (খ) সুশিক্ষিত ও স্বশিক্ষিত হওয়ার দর্শন (গ) অলসতা (ঘ) বাধ্য হয়ে পড়া
**উত্তর: (খ) সুশিক্ষিত ও স্বশিক্ষিত হওয়ার দর্শন [৭, ১২]**

**উদ্দীপক ৫:** একটি সমাজ মনে করে অর্থই পরম জ্ঞান। তারা লাইব্রেরির চেয়ে ব্যাংকের গুরুত্ব বেশি দেয়।

৫. প্রবন্ধের লেখকের মতে এই সমাজের চূড়ান্ত পরিণতি কী হতে পারে?
(ক) তারা চিরকাল ধনী থাকবে (খ) তাদের ধনের ভাঁড়েও ভবানী হবে (গ) তারা বিশ্ব জয় করবে (ঘ) তারা সুখী হবে
**উত্তর: (খ) তাদের ধনের ভাঁড়েও ভবানী হবে [৪]**

**উদ্দীপক ৬:** প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় জিপিএ-৫ এর বন্যা বয়ে যাচ্ছে, কিন্তু মানসম্মত জ্ঞানের অভাব দেখা দিচ্ছে।

৬. এই বাস্তবতাকে প্রবন্ধের কোনটির সাথে তুলনা করা যায়?
(ক) আত্মার অগ্রগতি (খ) আত্মার অপমৃত্যু ও শিক্ষার নামে যান্ত্রিকতা (গ) সফল শিক্ষা ব্যবস্থা (ঘ) আধুনিকায়ন
**উত্তর: (খ) আত্মার অপমৃত্যু ও শিক্ষার নামে যান্ত্রিকতা [৯, ১১]**

**উদ্দীপক ৭:** শিক্ষক ছাত্রদের কৌতূহল জাগিয়ে দিয়ে বললেন, "তোমরা নিজেরাই খুঁজে বের করো জীবনের অর্থ।"

৭. শিক্ষকের এই ভূমিকা প্রবন্ধের কোন বিষয়কে সমর্থন করে?
(ক) দায়িত্বহীনতা (খ) গুরুর আসল কাজ—শিষ্যের শক্তিকে মুক্ত করা (গ) অলসতা (ঘ) কঠোর শাসন
**উত্তর: (খ) গুরুর আসল কাজ—শিষ্যের শক্তিকে মুক্ত করা [৭]**

**উদ্দীপক ৮:** ফরাসি বিপ্লবের সময় একদল যুবক যারা স্কুল পালানো ছিল, তারাই নতুন দেশের স্বপ্ন দেখাল।

৮. প্রবন্ধের লেখক কেন এই যুবকদের গুরুত্ব দিয়েছেন?
(ক) তারা অবাধ্য ছিল (খ) তাদের মনের বল ও স্বশিক্ষার শক্তি বজায় ছিল (গ) তারা যুদ্ধ জানত (ঘ) তারা উচ্চবংশীয় ছিল
**উত্তর: (খ) তাদের মনের বল ও স্বশিক্ষার শক্তি বজায় ছিল [৯, ১০]**

**উদ্দীপক ৯:** একটি গ্রামের মানুষ নিজেদের চাঁদায় একটি পাঠাগার করল যেখানে কোনো পরীক্ষা নেই, শুধু বই পড়া হয়।

৯. লেখকের মতে এই পাঠাগারটি কীসের প্রতিকার করবে?
(ক) দারিদ্র্যের (খ) স্কুল-কলেজের ক্ষতিকর শিক্ষার (গ) রোগের (ঘ) ঝগড়ার
**উত্তর: (খ) স্কুল-কলেজের ক্ষতিকর শিক্ষার [১২]**

**উদ্দীপক ১০:** "সাহিত্যচর্চা যে শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।"

১০. প্রবন্ধের এই মূল বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে উচ্চতর শিক্ষার লক্ষ্য কী হওয়া উচিত?
(ক) কেবল চাকরি পাওয়া 
(খ) নোট মুখস্থ করা 
(গ) মনের প্রসার ও আত্মিক উন্নয়ন ঘটানো 
(ঘ) অর্থ সঞ্চয় করা
**উত্তর: (গ) মনের প্রসার ও আত্মিক উন্নয়ন ঘটানো [৫, ১৭]**

 




5 comments:

Thank you, best of luck

Theme images by sbayram. Powered by Blogger.