header ads

দশম, নবম, অষ্টম, সপ্তম শ্রেণি।। বাংলা দ্বিতীয় পত্র।। ভাবসম্প্রসারণ।। জন্ম হোক যথাযথ কর্ম হোক ভালো।।

মানুষের জীবন খুবই ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু যারা মহৎ কর্মের মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে উৎসর্গ করেন, তাঁরা মৃত্যুর পরেও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকেন। দীর্ঘ জীবন নয়, বরং ভালো কাজই মানুষকে অমরত্ব দান করে।

পৃথিবীতে জন্ম নেওয়া প্রতিটি মানুষকেই একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হয়। কিন্তু কিছু মানুষ তাদের মহৎ কর্মের মাধ্যমে এই নশ্বর দেহ ত্যাগ করার পরেও অমর হয়ে থাকেন। ইংরেজিতে একটি সুন্দর প্রবাদ আছে, "Man does not live in years but in deeds" অর্থাৎ মানুষ তার জীবনকালের দৈর্ঘ্য দিয়ে নয়, কর্মের মাধ্যমেই বেঁচে থাকে। মানুষের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় তার কাজের দ্বারা, বয়সের মাপকাঠিতে নয়। যারা সংক্ষিপ্ত জীবনে মানব কল্যাণে নিজেদের অবদান রেখে যান, তাঁরা মৃত্যুর পরেও মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বেঁচে থাকেন। তাদের দৈহিক মৃত্যু ঘটলেও কর্মের মধ্য দিয়ে তাঁরা অমর হয়ে থাকেন। পৃথিবীর স্মরণীয় ও বরণীয় ব্যক্তিবর্গ তাঁদের কর্মের মাধ্যমেই আমাদের কাছে চিরভাস্বর। ইতিহাসে এমন অনেক দৃষ্টান্ত আছে যেখানে মানুষ অল্প বয়সে মৃত্যুবরণ করেও তাদের মহৎ কর্মের জন্য অমর হয়ে আছেন। আবার অনেকে দীর্ঘ জীবন পেলেও কোনো উল্লেখযোগ্য কাজ না করায় কালের স্রোতে হারিয়ে গেছেন। বাংলা ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গকারী বরকত, সালাম, রফিক, জব্বাররা অল্প বয়সে প্রাণ দিয়েও আমাদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। প্রতিভাবান কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য মাত্র একুশ বছর বেঁচে থেকেও তাঁর সাহিত্যকর্মের জন্য আজও অমর। আইনস্টাইন, নিউটন, গ্যালিলিও, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ তাঁদের অসাধারণ কর্মের জন্যই আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। 

যেমন, মহাত্মা গান্ধী তাঁর অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতকে মুক্ত করে আজও বিশ্বব্যাপী পূজনীয়। মাদার তেরেসা তাঁর সেবামূলক কাজের জন্য চিরস্মরণীয়। তাঁদের দীর্ঘ জীবন নয়, বরং মহৎ কর্মই তাঁদের অমরত্ব দিয়েছে।

তাই, মানুষের জন্ম যেখানেই হোক না কেন, জীবনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ভালো কাজ করা। ক্ষণস্থায়ী জীবনে মহৎ কর্মের মাধ্যমে আমরাও অমরত্ব লাভ করতে পারি।

No comments

Thank you, best of luck

Theme images by sbayram. Powered by Blogger.