header ads

ঝরনার গান।। সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।। Class 9-10 ।। NCTB Book।। SSC 26।।



ঝরনার গান
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

[কবি-পরিচিতি: 
১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার কাছাকাছি নিমতা গ্রামে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত জন্মগ্রহণ
করেন। সত্যেন্দ্রনাথ বিএ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি কাব্যচর্চা করতেন। দর্শন, বিজ্ঞান, ইতিহাস, ভাষা, ধর্ম ইত্যাদি বিচিত্র বিষয়ের তিনি অনুরাগী ছিলেন। সবিতা, সন্ধিক্ষণ, বেণু ও বীণা, হোমশিখা, কুহু ও কেকা, অভ্র-আবীর প্রভৃতি তাঁর মৌলিক কাব্য। তাঁর অনুবাদ- কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে: তীর্থরেণু, তীর্থ-সলিল, ফুলের ফসল প্রভৃতি। বিবিধ উপনিষদ ও কবির, নানক প্রমুখের রচনা এবং আরবি, ফার্সি, চীনা, জাপানি, ইংরেজি, ফরাসি ভাষার অনেক উৎকৃষ্ট কবিতা ও গদ্য রচনা তিনি বাংলায় অনুবাদ করেন। ছন্দ নির্মাণে তিনি অসাধারণ নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন। এজন্য তিনি 'ছন্দের যাদুকর' বলে পরিচিত হন। ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে তিনি পরলোকগমন করেন।]

চপল পায় কেবল ধাই,
কেবল গাই পরীর গান,
পুলক মোর সকল গায়,
বিভোল মোর সকল প্রাণ।
শিথিল সব শিলার পর
চরণ থুই দোদুল মন,
দুপুর-ভোর ঝিঁঝিঁর ডাক,
ঝিমায় পথ, ঘুমায় বন।
বিজন দেশ, কূজন নাই
নিজের পায় বাজাই তাল,
একলা গাই, একলা ধাই,
দিবস রাত, সাঁঝ সকাল।
ঝুঁকিয়ে ঘাড় ঝুম-পাহাড়
ভয় দ্যাখায়, চোখ পাকায়;
শঙ্কা নাই, সমান যাই,
টগর-ফুল-নূপুর পায়,
কোন গিরির হিম ললাট ঘামল মোর উদ্ভবে,
কোন পরীর টুটুল হার
কোন নাচের উৎসবে।
খেয়াল নাই-নাই রে ভাই
পাই নি তার সংবাদই,
ধাই লীলায়, খিলখিলাই-
বুলবুলির বোল সাধি।
বন-ঝাউয়ের ঝোপগুলায় কালসারের দল চরে,
শিং শিলায়-শিলার গায়,
ডালচিনির রং ধরে।
ঝাঁপিয়ে যাই, লাফিয়ে ধাই,
দুলিয়ে যাই অচল-ঠাঁট,
নাড়িয়ে যাই, বাড়িয়ে
যাই-টিলার গায় ডালিম-ফাট।
শালিক শুক বুলায় মুখ
থল-ঝাঁঝির মখমলে,
জরির জাল আংরাখায়
অঙ্গ মোর ঝলমলে।
নিম্নে ধাই, শুনতে পাই
'ফটিক জল।' হাঁকছে কে,
কণ্ঠাতেই তৃষ্ণা যার
নিক না সেই পাঁক ছেঁকে।
গরজ যার জল স্যাঁচার
পাতকুয়ায় যাক না সেই,
সুন্দরের তৃষ্ণা যার
আমরা ধাই তার আশেই।
তার খোঁজেই বিরাম নেই
বিলাই তান-তরল শ্লোক,

চকোর চায় চন্দ্রমায়,
আমরা চাই মুগ্ধ-চোখ।
চপল পায় কেবল ধাই
উপল-ঘায় দিই ঝিলিক,
দুল দোলাই মন ভোলাই,
ঝিলমিলাই দিগ্বিদিক।

শব্দার্থ ও টীকা: 
বিভোল- অচেতন, বিভোর, বিবশ, বিহ্বল। 
বিজন- নির্জন, জনশূন্য, নিভৃত। 
কৃজন- পাখির ডাক। 
ঝুম-পাহাড়- নীরব পাহাড়, নির্জন পাহাড়। 
হিম- তুষার, বরফ। 
শুক- টিয়ে পাখি। 
থল-স্থল। 
ঝাঁঝি-একপ্রকার জলজ গুল্ম, বহুদিন ধরে জমা শেওলা। 
মখমল- কোমল ও মিহি কাপড়। 
আংরাখা- লম্বা ও ঢিলা পোশাকবিশেষ।
 'ফটিক জল'- স্বাচ্ছ জল, নির্মল জল বা ঝরনার জল। চাতক পাখি ডাকলে 'ফটিক জল' শব্দের মতো শোনা যায়। 
বিলাই- বিতরণ করি, পরিবেশন করি (বিলোনো থেকে)। 
তান- সুর। তরল শ্লোক- লঘু বা হালকা চালের কবিতা। 
চকোর- পাখি বিশেষ। 
কবি-কল্পনা অনুযায়ী এই পাখি চাঁদের আলো পান করে। 
চন্দ্রমা- চাঁদের আলো। 
উপল-ঘায়- পাথরের আঘাতে।

পাঠ-পরিচিতি: সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের 'ঝরনার গান' কবিতাটি কবির বিদায় আরতি কাব্য থেকে সংকলন
করা হয়েছে। কবিতাটিতে অদ্ভুত ধ্বনিব্যঞ্জনায় প্রকাশিত হয়েছে অপূর্ব ভাব। চঞ্চল পা পুলকিত গতিময়; স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দের পদচিহ্ন। নির্জন দুপুরে পাখির ডাকও শোনা যায় না। পাহাড় যেন দৈত্যের মতো ঘাড় ঘুরিয়ে ভয় দেখায়! এত কিছুর মধ্যেও ঝরনার চঞ্চল ও আনন্দময় পদধ্বনিতে পর্বত থেকে নেমে আসে সাদা জলরাশির ধারা। চমৎকার এর ধ্বনিমাধুর্য ও বর্ণবৈভব। এই জলধারার যে সৌন্দর্য এবং অমিয় স্বাদ তা তুলনারহিত। গিরি থেকে পতিত এই অম্বুরাশি পাথরের বুকে আঘাত হেনে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে যে অপূর্ব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে তা সত্যি মনোহর।


এখানে ‘ঝরনার গান’ কবিতার ব্যাখ্যা, বিষয়বস্তু এবং সরলার্থ দেওয়া হলো:


ঝরনার গান’ কবিতার সরলার্থ : 
ঝরনা তার চঞ্চল পায়ে কেবল ছুটে চলে। সে যেন পরীদের গান গাইতে গাইতে যায়। তার সমস্ত শরীর আনন্দে ভরে ওঠে এবং তার মন পুলকে বিভোর হয়ে থাকে। সে পাথরের ওপর দিয়ে নরম পায়ে হেঁটে চলে, তার মন সব সময় দোদুল্যমান থাকে। দুপুরবেলা ঝিঁঝি পোকার ডাক শোনা যায়, পথ আর বন যেন ঘুমের রাজ্যে ঢলে পড়ে। নির্জন এই জায়গায় কোনো পাখির ডাক শোনা যায় না। ঝরনা একাই তার নিজের ছন্দে গান গেয়ে চলে। সে দিন-রাত, সকাল-সন্ধ্যা একাই ছুটে চলে।

পাহাড় তার ঘাড় ঝুঁকিয়ে, চোখ পাকিয়ে ঝরনাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ঝরনার মনে কোনো ভয় নেই। সে তার টগর ফুলের মতো সাদা নূপুর পরা পায়ে সমান গতিতে এগিয়ে যায়। সে ভাবে না কোন পাহাড়ের বরফ ঢাকা কপাল তার জন্মের কারণে ঘামে ভিজেছে, অথবা কোন পরীর হার কোন নাচের উৎসবে ভেঙে পড়েছে। সে এসবের কোনো খবরই রাখে না। সে শুধু খেলায় মেতে থাকে আর খিলখিল করে হাসে, বুলবুলি পাখির মতো মধুর স্বরে গান গায়।

বন-ঝাউয়ের ঝোপের আড়ালে কালসারের দল ঘুরে বেড়ায়। তাদের শিং পাথরের গায়ে লেগে ডালচিনির মতো রঙ ধারণ করে। ঝরনা লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে ছুটে চলে, অচল পাহাড়ের দৃঢ়তাকে সে দুলিয়ে দেয়। সে টিলার গায়ে ডালিম ফাটানোর মতো করে জল ছড়িয়ে যায়। শালিক আর টিয়ে পাখি নরম সবুজ শেওলার ওপর মুখ বুলায়। ঝরনার শরীর যেন জরির জালের মতো ঝলমল করে, তার আংরাখা (পোশাক) উজ্জ্বল দেখায়।

সে নিচে নেমে যায় এবং শুনতে পায় কেউ যেন 'ফটিক জল' বলে ডাকছে। যার জল পান করার তৃষ্ণা আছে, সে যেন পাঁক ছেঁকে জল পান করে। যার জল সেচার দরকার, সে পাতকুয়ায় যাক। কিন্তু ঝরনা শুধু সুন্দরের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য ছুটে চলে। তার কোনো বিশ্রাম নেই, সে তার তরল সুরের শ্লোক বিতরণ করে চলে। চকোর পাখি যেমন চাঁদের আলো চায়, তেমনই ঝরনাও মুগ্ধ চোখ খুঁজে বেড়ায়। সে চঞ্চল পায়ে কেবল ছুটে চলে, পাথরের উপর আঘাত হেনে ঝলমল করে ওঠে। সে দিগ্বিদিক দুলিয়ে, মন ভুলিয়ে, ঝিলমিলিয়ে এগিয়ে যায়।

ঝরনার গান’  কবিতাটির বিষয়বস্তু: 

‘ঝরনার গান’ কবিতাটি কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘বিদায় আরতি’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। এই কবিতায় ঝরনার আনন্দময় গতি, তার চঞ্চল স্বভাব এবং প্রকৃতির সঙ্গে তার অবিচ্ছিন্ন সম্পর্ককে এক চমৎকার ধ্বনিব্যঞ্জনার মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কবিতাটিতে ঝরনার গতিময়তা, নির্জন প্রকৃতিতে তার অবাধ বিচরণ, এবং তার সৌন্দর্য ও আনন্দ বিতরণ করার এক অবিরাম আকাঙ্ক্ষা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।

ঝরনার চঞ্চলতা ও আনন্দ:
কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো ঝরনার গতিময় জীবন। ঝরনা কেবল চঞ্চল পায়ে ছুটে চলে, পরীদের গানের মতো মধুর সুর তোলে। তার প্রতিটি অঙ্গে আনন্দের স্পন্দন, মন থাকে পুলকে বিভোর। সে পাথরের উপর দিয়ে অবলীলায় হেঁটে যায়, তার মন সব সময় দোদুল্যমান। এই চঞ্চলতা এবং আনন্দই ঝরনার জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক:
ঝরনা প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। দুপুরে যখন ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকে পথ ও বন ঘুমিয়ে থাকে, তখনো ঝরনা তার নিজস্ব ছন্দে গান গাইতে থাকে। নির্জন পরিবেশে যেখানে কোনো পাখির ডাকও শোনা যায় না, সেখানে ঝরনা একাই তার তাল বাজিয়ে ছুটে চলে। পাহাড়ের ভয় দেখানো বা চোখ পাকানোকেও সে পরোয়া করে না, তার গতি অবিচল। সে টগর ফুলের মতো সাদা নূপুর পরে সমানভাবে এগিয়ে যায়, যা তার পবিত্রতা ও সৌন্দর্যের প্রতীক।

অজ্ঞাত উৎস ও অবিরাম যাত্রা:
ঝরনা তার উৎপত্তির বিষয়ে অবগত নয়। সে জানে না কোন গিরির হিমালয়ের মতো কপাল তার উদ্ভবে ঘামে ভিজেছে, বা কোন পরীর হার কোন নাচের উৎসবে ভেঙে তার সৃষ্টির কারণ হয়েছে। সে এসবের কোনো পরোয়া করে না। তার একমাত্র লক্ষ্য হলো লীলায়িত গতিতে ছুটে চলা, খিলখিল করে হাসা এবং বুলবুলি পাখির মতো মিষ্টি গান গেয়ে প্রকৃতিতে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি:
কবিতায় প্রকৃতির এক অসাধারণ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বন-ঝাউয়ের ঝোপে কালসারের দল চরে বেড়ায়, তাদের শিং পাথরের ঘষায় ডালচিনির মতো রঙ ধারণ করে। ঝরনা লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে ছুটে যায়, পাহাড়ের দৃঢ়তাকে দুলিয়ে দেয় এবং টিলার গায়ে ডালিমের ফাটল ধরার মতো করে জল ছড়িয়ে দেয়। শালিক আর টিয়ে পাখি নরম শেওলার মখমলের উপর মুখ বুলায়, যা প্রকৃতির শান্ত ও সুন্দর পরিবেশকে ফুটিয়ে তোলে। ঝরনার জলরাশি যেন জরির জালের মতো ঝলমল করে, তার পোশাক (আংরাখা) উজ্জ্বল দেখায়।

পরোপকারিতা ও সুন্দরের আকাঙ্ক্ষা:
ঝরনা নিচে নেমে আসে এবং শুনতে পায় কেউ ‘ফটিক জল’ বলে ডাকছে। সে স্পষ্ট করে বলে দেয় যে যার জল পানের তৃষ্ণা, সে যেন পাঁক ছেঁকে জল পান করে। আর যার জল সেচার দরকার, সে যেন পাতকুয়ায় যায়। ঝরনা শুধু সুন্দরের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য ছুটে চলে। তার কোনো বিশ্রাম নেই, সে তার তরল সুরের শ্লোক বিতরণ করে। চকোর পাখি যেমন চাঁদের আলো চায়, তেমনই ঝরনাও মুগ্ধ চোখ খুঁজে বেড়ায়—যারা তার সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পারে।

অবিরাম গতি ও উজ্জ্বলতা:
অবশেষে, ঝরনা তার চঞ্চল পায়ে কেবল ছুটে চলে, পাথরের উপর আঘাত হেনে ঝলমল করে ওঠে। সে দিগ্বিদিক দুলিয়ে, মন ভুলিয়ে, ঝিলমিলিয়ে তার যাত্রাপথ আলোকিত করে। তার এই অবিরাম গতি এবং সৌন্দর্য বিতরণ করার স্পৃহাই কবিতার মূল বার্তা। ঝরনা যেন জীবনের প্রতীক, যা সব বাধা পেরিয়ে, নিজস্ব ছন্দে আনন্দ ছড়িয়ে এগিয়ে চলে।

শিক্ষক হিসাবে কবিতারা ব্যাখ্যা: 
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, 
আজ আমরা কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অসাধারণ একটি কবিতা, 'ঝরনার গান' নিয়ে আলোচনা করব। তোমরা জানো, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে 'ছন্দের যাদুকর' বলা হয়। এই কবিতায় তিনি কীভাবে শব্দের ধ্বনি ও ছন্দের মধ্য দিয়ে ঝরনার চঞ্চল গতি, আনন্দ আর প্রকৃতির সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা আমরা দেখব।

প্রথমে আমরা কবিতার মূলভাব নিয়ে আলোচনা করব। এই কবিতাটি আসলে ঝরনার আত্মকথন। ঝরনা নিজেই তার জীবন, তার গতি, তার আনন্দ এবং প্রকৃতির সঙ্গে তার সম্পর্ক বর্ণনা করছে।


প্রথম স্তবক: চঞ্চলতা ও আনন্দ

কবিতার শুরুতেই ঝরনা বলছে:
"চপল পায় কেবল ধাই,
কেবল গাই পরীর গান,
পুলক মোর সকল গায়,
বিভোল মোর সকল প্রাণ।"

এখানে 'চপল পায়' মানে চঞ্চল পায়ে। ঝরনা সব সময় ছুটে চলে, এক মুহূর্তও স্থির থাকে না। সে কেমন গান গায়? 'পরীর গান'—অর্থাৎ খুব মিষ্টি, ছন্দময় গান। তোমরা নিশ্চয়ই শুনেছ, ঝরনার জলের একটা অদ্ভুত আওয়াজ হয়, মনে হয় যেন গান গাইছে। তার সমস্ত শরীর আনন্দে ভরে ওঠে, সে যেন সবসময় পুলকিত থাকে। 'বিভোল মোর সকল প্রাণ' মানে তার পুরো প্রাণটা আনন্দে বিহ্বল, বিভোর। সে এতটাই খুশি যে তার মন অন্য কিছুতে নেই।



এরপর সে বলছে:
"শিথিল সব শিলার পর
চরণ থুই দোদুল মন,
দুপুর-ভোর ঝিঁঝিঁর ডাক,
ঝিমায় পথ, ঘুমায় বন।"
ঝরনা পাথরের উপর দিয়ে বয়ে চলে, তাই সে বলছে 'শিথিল সব শিলার পর চরণ থুই'। তার মনটা 'দোদুল' মানে সবসময় দুলে ওঠে, স্থির থাকে না। দুপুরে যখন ঝিঁঝিঁ পোকা ডাকে, তখন রাস্তাঘাট, বন সবই যেন ঘুমিয়ে পড়ে, সব শান্ত হয়ে যায়। কিন্তু ঝরনা তখনো থেমে থাকে না।


দ্বিতীয় স্তবক: নির্জনতা ও ভয়হীনতা

"বিজন দেশ, কূজন নাই
নিজের পায় বাজাই তাল,
একলা গাই, একলা ধাই,
দিবস রাত, সাঁঝ সকাল।"
'বিজন দেশ' মানে নির্জন জায়গা, যেখানে কোনো মানুষ বা পশুপাখির তেমন আনাগোনা নেই। 'কূজন নাই' মানে পাখির ডাকও শোনা যায় না। এই নির্জন স্থানে ঝরনা একাই তার নিজস্ব ছন্দে ছুটে চলে, যেন সে তার নিজের পায়েই তাল বাজিয়ে গান গাইছে। সে দিন-রাত, সকাল-সন্ধ্যা একাই চলে।


"ঝুঁকিয়ে ঘাড় ঝুম-পাহাড়
ভয় দ্যাখায়, চোখ পাকায়;
শঙ্কা নাই, সমান যাই,
টগর-ফুল-নূপুর পায়,"
পাহাড়গুলো ঝরনার পাশ দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, কবি কল্পনা করছেন যেন পাহাড়গুলো 'ঝুঁকিয়ে ঘাড়' আর 'চোখ পাকায়' ঝরনাকে ভয় দেখাচ্ছে। কিন্তু ঝরনার মনে কোনো 'শঙ্কা নাই', মানে ভয় নেই। সে তার নিজের গতিতে সমানভাবে এগিয়ে যায়। তার পায়ে যেন 'টগর-ফুল-নূপুর' পরা, অর্থাৎ তার চলার শব্দ টগর ফুলের মতো সাদা আর স্নিগ্ধ। এই উপমাটা খুব সুন্দর, কারণ ঝরনার জল সাদা আর তার শব্দ নূপুরের ছন্দের মতো।


তৃতীয় স্তবক: উৎসের রহস্য ও আনন্দ

"কোন গিরির হিম ললাট ঘামল মোর উদ্ভবে,
কোন পরীর টুটুল হার
কোন নাচের উৎসবে।
খেয়াল নাই-নাই রে ভাই 
পাই নি তার সংবাদই,"

ঝরনা জানে না, কোন পাহাড়ের বরফ ঢাকা কপাল (হিম ললাট) তার জন্মের কারণে ঘামে ভিজেছে। সে জানে না, কোন পরীর হার কোন নাচের উৎসবে ভেঙে তার সৃষ্টি হয়েছে। এই অংশে ঝরনা তার উৎস সম্পর্কে এক ধরনের নির্লিপ্ততা প্রকাশ করছে। সে তার অতীতের দিকে তাকায় না।


"ধাই লীলায়, খিলখিলাই-
বুলবুলির বোল সাধি।"
সে শুধু লীলায়িত গতিতে ছুটে চলে, 'খিলখিল' করে হাসে, যেমন ছোট শিশুরা আনন্দে হাসে। সে 'বুলবুলির বোল সাধি' অর্থাৎ বুলবুলি পাখির মতো মিষ্টি গান গায়। বুলবুলি খুব সুরেলা পাখি।


চতুর্থ স্তবক: প্রকৃতির দৃশ্য ও গতিময়তা

"বন-ঝাউয়ের ঝোপগুলায় কালসারের দল চরে,
শিং শিলায়-শিলার গায়,
ডালচিনির রং ধরে।"
বন-ঝাউ গাছের ঝোপের মধ্যে 'কালসারের দল' অর্থাৎ এক ধরণের হরিণ ঘুরে বেড়ায়। তাদের শিং পাথরের গায়ে ঘষা লেগে 'ডালচিনির রং ধরে' – অর্থাৎ একটা সুন্দর লালচে বাদামী রঙ ধারণ করে। এই অংশে কবি প্রাকৃতিক দৃশ্য বর্ণনা করছেন।


"ঝাঁপিয়ে যাই, লাফিয়ে ধাই,
দুলিয়ে যাই অচল-ঠাঁট,
নাড়িয়ে যাই, বাড়িয়ে
যাই-টিলার গায় ডালিম-ফাট।"

ঝরনা কখনো ঝাঁপিয়ে যায়, কখনো লাফিয়ে ছুটে চলে। 'অচল-ঠাঁট' মানে স্থির পাহাড়, তাকেও যেন ঝরনা তার গতিতে দুলিয়ে দেয়। সে টিলার গায়ে ডালিম ফাটানোর মতো করে জল ছড়িয়ে দেয়, অর্থাৎ তার জলধারা প্রবল বেগে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।



"শালিক শুক বুলায় মুখ
থল-ঝাঁঝির মখমলে,
জরির জাল আংরাখায়
অঙ্গ মোর ঝলমলে।"

শালিক পাখি আর শুক অর্থাৎ টিয়ে পাখি 'থল-ঝাঁঝির মখমলে' অর্থাৎ জমে থাকা শেওলার নরম সবুজ আস্তরণের ওপর মুখ বুলায়। এই দৃশ্যটি প্রকৃতির শান্ত ও সুন্দর মুহূর্ত তুলে ধরে। ঝরনার জল যখন সূর্যের আলোয় ঝলমল করে, তখন মনে হয় যেন তার শরীরে 'জরির জাল আংরাখায়' অর্থাৎ সোনালী তারের কাজ করা লম্বা পোশাক পরা, যা 'ঝলমলে' দেখাচ্ছে।


পঞ্চম স্তবক: উদ্দেশ্য ও দর্শন
"নিম্নে ধাই, শুনতে পাই
'ফটিক জল।' হাঁকছে কে,
কণ্ঠাতেই তৃষ্ণা যার
নিক না সেই পাঁক ছেঁকে।"

ঝরনা যখন নিচে নেমে আসে, তখন সে শুনতে পায় কেউ যেন 'ফটিক জল' অর্থাৎ স্বচ্ছ জলের জন্য ডাকছে। এখানে 'ফটিক জল' একটি চাতক পাখির ডাককেও বোঝায়। ঝরনা বলছে, যার গলায় তৃষ্ণা আছে, সে যেন নোংরা জল (পাঁক) ছেঁকে পান করে।

"গরজ যার জল স্যাঁচার
পাতকুয়ায় যাক না সেই,
সুন্দরের তৃষ্ণা যার
আমরা ধাই তার আশেই।"

যার জল তোলার প্রয়োজন, সে যেন পাতকুয়ায় যায়। কিন্তু ঝরনা কাদের জন্য ছুটে চলে? সে বলছে, "সুন্দরের তৃষ্ণা যার আমরা ধাই তার আশেই।" অর্থাৎ, যারা সৌন্দর্যকে ভালোবাসে, যারা প্রকৃতির এই অপূর্ব সৃষ্টিকে মুগ্ধ চোখে দেখতে চায়, ঝরনা তাদের জন্যই বয়ে চলে। তার লক্ষ্য শুধু জল সরবরাহ করা নয়, বরং সৌন্দর্য বিতরণ করা।


"তার খোঁজেই বিরাম নেই
বিলাই তান-তরল শ্লোক,
চকোর চায় চন্দ্রমায়,
আমরা চাই মুগ্ধ-চোখ।"

ঝরনার কোনো বিশ্রাম নেই, সে অবিরাম ছুটে চলে। সে 'তান-তরল শ্লোক' অর্থাৎ তার সুরময়, হালকা কবিতা বিতরণ করে। যেমন 'চকোর' পাখি চাঁদের আলো চায়, তেমনই ঝরনাও 'মুগ্ধ-চোখ' খুঁজে বেড়ায়—যারা তার সৌন্দর্যকে উপলব্ধি করতে পারে।

শেষ স্তবক: সারসংক্ষেপ
"চপল পায় কেবল ধাই
উপল-ঘায় দিই ঝিলিক,
দুল দোলাই মন ভোলাই,
ঝিলমিলাই দিগ্বিদিক।"

শেষ স্তবকে ঝরনা আবার তার মূল বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরে। সে চঞ্চল পায়ে ছুটে চলে, পাথরের আঘাতে (উপল-ঘায়) ঝলমল করে ওঠে। সে তার গতিতে মন ভুলিয়ে দেয় এবং চারদিক (দিগ্বিদিক) আলোকিত করে ঝিলমিলিয়ে এগিয়ে চলে।

এই কবিতাটিতে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ঝরনার মাধ্যমে জীবনের আনন্দ, গতিময়তা এবং প্রকৃতির চিরন্তন সৌন্দর্যকে তুলে ধরেছেন। ঝরনা যেন এক স্বাধীনচেতা সত্তা, যা কোনো বাধা মানে না, শুধু নিজের ছন্দে এগিয়ে চলে এবং পৃথিবীতে আনন্দ ও সৌন্দর্য ছড়িয়ে দেয়। তোমরা এই কবিতাটি মন দিয়ে পড়বে এবং এর ছন্দ ও শব্দগুলো উপভোগ করার চেষ্টা করবে।

'ঝরনার গান' কবিতার  MCQ (75টি)


১. 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনা কী দিয়ে গান গায়?

ক. পরীর গান

খ. কোকিলের গান

গ. পাখির গান

ঘ. সুরের গান

উত্তর: ক. পরীর গান




২. ঝরনার সকল গায়ে কী বিদ্যমান?

ক. আনন্দ

খ. পুলক

গ. বেদনা

ঘ. উচ্ছ্বাস

উত্তর: খ. পুলক




৩. ঝরনার সকল প্রাণ কেমন?

ক. চঞ্চল

খ. স্থির

গ. বিভোল

ঘ. শান্ত

উত্তর: গ. বিভোল




৪. ঝরনা কিসের পর চরণ থুই?

ক. মাটির পর

খ. পাথরের পর

গ. শিলার পর

ঘ. জলের পর

উত্তর: গ. শিলার পর




৫. ঝরনার মন কেমন?

ক. চঞ্চল

খ. দোদুল

গ. স্থির

ঘ. অচঞ্চল

উত্তর: খ. দোদুল




৬. দুপুরে কে ঝিমায়?

ক. ঝরনা

খ. পথ

গ. বন

ঘ. খ ও গ উভয়ই

উত্তর: ঘ. খ ও গ উভয়ই




৭. দুপুরে কার ডাক শোনা যায়?

ক. পাখির ডাক

খ. ঝিঁঝিঁর ডাক

গ. বুলবুলির ডাক

ঘ. কোকিলের ডাক

উত্তর: খ. ঝিঁঝিঁর ডাক




৮. বিজন দেশে কী শোনা যায় না?

ক. ঝিঁঝিঁর ডাক

খ. কূজন

গ. গানের সুর

ঘ. পাখির কিচিরমিচির

উত্তর: খ. কূজন




৯. ঝরনা কী বাজায়?

ক. বাঁশি

খ. তাল

গ. নূপুর

ঘ. বাদ্য

উত্তর: খ. তাল




১০. ঝরনা কখন ছুটে চলে?

ক. দিবস রাত

খ. সাঁঝ সকাল

গ. শুধু দিনে

ঘ. ক ও খ উভয়ই

উত্তর: ঘ. ক ও খ উভয়ই




১১. কে ঘাড় ঝুঁকিয়ে ভয় দেখায়?

ক. গাছ

খ. পাখি

গ. ঝুম-পাহাড়

ঘ. মেঘ

উত্তর: গ. ঝুম-পাহাড়




১২. ঝরনার মনে কী নেই?

ক. ভয়

খ. আনন্দ

গ. শঙ্কা

ঘ. ক ও গ উভয়ই

উত্তর: ঘ. ক ও গ উভয়ই




১৩. ঝরনার নূপুর কিসের মতো?

ক. জবা ফুল

খ. গোলাপ ফুল

গ. টগর ফুল

ঘ. শিউলি ফুল

উত্তর: গ. টগর ফুল




১৪. ঝরনা কার উদ্ভবের কথা খেয়াল রাখে না?

ক. গিরির হিম ললাট

খ. পরীর টুটুল হার

গ. ক ও খ উভয়ই

ঘ. তার নিজের

উত্তর: গ. ক ও খ উভয়ই




১৫. ঝরনা কীভাবে ছুটে চলে?

ক. খেলায়

খ. লীলায়

গ. দ্রুতগতিতে

ঘ. শ্লথগতিতে

উত্তর: খ. লীলায়




১৬. ঝরনা কীভাবে হাসে?

ক. খিলখিলাই

খ. মুচকি

গ. উচ্চস্বরে

ঘ. মৃদুস্বরে

উত্তর: ক. খিলখিলাই




১৭. ঝরনা কার বোল সাধে?

ক. কোকিলের

খ. শালিকের

গ. বুলবুলির

ঘ. ময়নার

উত্তর: গ. বুলবুলির




১৮. বন-ঝাউয়ের ঝোপগুলায় কার দল চরে?

ক. কালসারের

খ. হরিনের

গ. হাতির

ঘ. বাঘের

উত্তর: ক. কালসারের




১৯. কালসারের শিং কিসের রং ধরে?

ক. ডালিম

খ. ডালচিনি

গ. মেহগনি

ঘ. শিমুল

উত্তর: খ. ডালচিনি




২০. ঝরনা কী দুলিয়ে যায়?

ক. অচল-ঠাঁট

খ. বন

গ. শিলা

ঘ. পাহাড়

উত্তর: ক. অচল-ঠাঁট




২১. টিলার গায় ঝরনা কী ফাটায়?

ক. আম-ফাট

খ. জাম-ফাট

গ. ডালিম-ফাট

ঘ. কাঁঠাল-ফাট

উত্তর: গ. ডালিম-ফাট




২২. শালিক শুক কিসে মুখ বুলায়?

ক. থল-ঝাঁঝির মখমলে

খ. নদীর জলে

গ. পাতার ওপর

ঘ. মাটির উপর

উত্তর: ক. থল-ঝাঁঝির মখমলে




২৩. ঝরনার অঙ্গ কিসে ঝলমলে?

ক. সোনার মালায়

খ. জরির জাল আংরাখায়

গ. হীরের গহনায়

ঘ. রেশমি পোশাকে

উত্তর: খ. জরির জাল আংরাখায়




২৪. ঝরনা নিচে ধেয়ে যেতে কী শুনতে পায়?

ক. পাখির ডাক

খ. ফটিক জল

গ. মানুষের কোলাহল

ঘ. বাতাসের শব্দ

উত্তর: খ. ফটিক জল




২৫. যার কণ্ঠে তৃষ্ণা, তাকে ঝরনা কী করতে বলে?

ক. জল পান করতে

খ. পাঁক ছেঁকে নিতে

গ. কূয়ায় যেতে

ঘ. অপেক্ষা করতে

উত্তর: খ. পাঁক ছেঁকে নিতে




২৬. যার জল সেঁচার গরজ, তাকে ঝরনা কোথায় যেতে বলে?

ক. পাতকুয়ায়

খ. পুকুরে

গ. নদীতে

ঘ. সমুদ্রে

উত্তর: ক. পাতকুয়ায়




২৭. ঝরনা কার আশায় ধায়?

ক. তৃষ্ণার্তের

খ. সুন্দরের তৃষ্ণা যার

গ. পথিকের

ঘ. কবির

উত্তর: খ. সুন্দরের তৃষ্ণা যার




২৮. ঝরনার কী নেই?

ক. গতি

খ. বিরাম

গ. আনন্দ

ঘ. গান

উত্তর: খ. বিরাম




২৯. ঝরনা কী বিতরণ করে?

ক. জল

খ. তান-তরল শ্লোক

গ. হাসি

ঘ. গান

উত্তর: খ. তান-তরল শ্লোক




৩০. চকোর পাখি কী চায়?

ক. চাঁদের আলো

খ. সূর্যালোক

গ. জল

ঘ. খাবার

উত্তর: ক. চাঁদের আলো




৩১. ঝরনা কী চায়?

ক. মুগ্ধ-চোখ

খ. প্রশংসা

গ. পরিচিতি

ঘ. শান্তি

উত্তর: ক. মুগ্ধ-চোখ




৩২. ঝরনা কিসের ঘায় ঝিলিক দেয়?

ক. পাথরের

খ. শিলার

গ. উপল-ঘায়

ঘ. খ ও গ উভয়ই

উত্তর: গ. উপল-ঘায়




৩৩. ঝরনা কী দোলায়?

ক. গাছ

খ. মন

গ. পাতা

ঘ. ফুল

উত্তর: খ. মন




৩৪. ঝরনা কাকে ভোলায়?

ক. মানুষকে

খ. প্রাণীকে

গ. মনকে

ঘ. পথিককে

উত্তর: গ. মনকে




৩৫. ঝরনা কোথায় ঝিলমিলায়?

ক. দিগ্বিদিক

খ. বনে

গ. পাহাড়ে

ঘ. জলে

উত্তর: ক. দিগ্বিদিক




৩৬. ঝরনার গান কোন ধরনের কবিতা?

ক. আত্মকথনমূলক

খ. প্রকৃতির বর্ণনা

গ. প্রেমমূলক

ঘ. বিদ্রোহমূলক

উত্তর: ক. আত্মকথনমূলক




৩৭. ঝরনার মূল বৈশিষ্ট্য কী?

ক. স্থিরতা

খ. শান্তভাব

গ. চঞ্চলতা

ঘ. নীরবতা

উত্তর: গ. চঞ্চলতা




৩৮. 'কূজন' শব্দের অর্থ কী?

ক. কোলাহল

খ. পাখির ডাক

গ. মৃদু শব্দ

ঘ. গান

উত্তর: খ. পাখির ডাক




৩৯. 'বিভোল' শব্দের অর্থ কী?

ক. সচেতন

খ. বিহ্বল

গ. উদাসীন

ঘ. চিন্তিত

উত্তর: খ. বিহ্বল




৪০. 'উপল-ঘায়' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

ক. জলের আঘাত

খ. পাথরের আঘাত

গ. বাতাসের আঘাত

ঘ. মনের আঘাত

উত্তর: খ. পাথরের আঘাত




অনুধাবনমূলক MCQ (২০টি)




১. 'পুলক মোর সকল গায়, বিভোল মোর সকল প্রাণ' - এই চরণ দুটির মাধ্যমে ঝরনা কী বোঝাতে চেয়েছে?

ক. তার শারীরিক সৌন্দর্য

খ. তার মানসিক অস্থিরতা

গ. তার অনাবিল আনন্দ ও উচ্ছ্বাস

ঘ. তার দুঃখ ও বেদনা

উত্তর: গ. তার অনাবিল আনন্দ ও উচ্ছ্বাস




২. 'শিথিল সব শিলার পর চরণ থুই দোদুল মন' - এই অংশের অন্তর্নিহিত অর্থ কী?

ক. ঝরনা সাবধানে পাথর পেরিয়ে যায়

খ. ঝরনার চলার পথ মসৃণ

গ. ঝরনার অবিরাম গতি ও অস্থিরতা

ঘ. ঝরনা ক্লান্ত হয়ে পাথরের ওপর বিশ্রাম নেয়

উত্তর: গ. ঝরনার অবিরাম গতি ও অস্থিরতা




৩. 'দুপুর-ভোর ঝিঁঝিঁর ডাক, ঝিমায় পথ, ঘুমায় বন' - ঝরনা কেন এই পরিবেশের কথা উল্লেখ করেছে?

ক. ঝরনার নির্জনতা বোঝাতে

খ. প্রকৃতির শান্ত ও নীরব মুহূর্ত তুলে ধরতে

গ. ঝরনার বিশ্রাম নেওয়ার সময় বোঝাতে

ঘ. ঝরনার একাকীত্ব বোঝাতে

উত্তর: খ. প্রকৃতির শান্ত ও নীরব মুহূর্ত তুলে ধরতে




৪. 'বিজন দেশ, কূজন নাই নিজের পায় বাজাই তাল' - এখানে 'নিজের পায় বাজাই তাল' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

ক. ঝরনার নিজস্ব ছন্দে এগিয়ে যাওয়া

খ. ঝরনার নৃত্য করা

গ. ঝরনার দ্রুতবেগে চলা

ঘ. ঝরনার পাথরে আঘাত করা

উত্তর: ক. ঝরনার নিজস্ব ছন্দে এগিয়ে যাওয়া




৫. 'ঝুঁকিয়ে ঘাড় ঝুম-পাহাড় ভয় দ্যাখায়, চোখ পাকায়; শঙ্কা নাই, সমান যাই' - এই অংশে ঝরনার কোন বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়েছে?

ক. নির্ভীকতা ও আত্মবিশ্বাস

খ. অহংকার

গ. পাহাড়ের প্রতি রাগ

ঘ. সাবধানতা

উত্তর: ক. নির্ভীকতা ও আত্মবিশ্বাস




৬. 'টগর-ফুল-নূপুর পায়' - এই উপমার সাহায্যে কবি ঝরনার কোন দিকটি তুলে ধরেছেন?

ক. ঝরনার চলার শব্দ

খ. ঝরনার শুভ্রতা ও সৌন্দর্যে ভরা গতি

গ. ঝরনার ফুলের প্রতি ভালোবাসা

ঘ. ঝরনার পায়ের সৌন্দর্য

উত্তর: খ. ঝরনার শুভ্রতা ও সৌন্দর্যে ভরা গতি




৭. 'কোন গিরির হিম ললাট ঘামল মোর উদ্ভবে, কোন পরীর টুটুল হার কোন নাচের উৎসবে' - ঝরনার এই উক্তি থেকে কী বোঝা যায়?

ক. তার উৎস সম্পর্কে সে উদাসীন

খ. তার জন্ম রহস্যময়

গ. তার জন্ম প্রকৃতির দান

ঘ. ক ও খ উভয়ই

উত্তর: ঘ. ক ও খ উভয়ই




৮. 'ধাই লীলায়, খিলখিলাই- বুলবুলির বোল সাধি' - এই অংশে ঝরনার কোন অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে?

ক. খেলাচ্ছলে ছুটে চলার আনন্দ

খ. প্রকৃতির সঙ্গে একাত্মতা

গ. তার মধুর সুরের বর্ণনা

ঘ. ক, খ ও গ উভয়ই

উত্তর: ক. খেলাচ্ছলে ছুটে চলার আনন্দ




৯. 'বন-ঝাউয়ের ঝোপগুলায় কালসারের দল চরে, শিং শিলায়-শিলার গায়, ডালচিনির রং ধরে' - এই অংশের মধ্য দিয়ে কবি কী ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন?

ক. ঝরনার চলার পথে বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি

খ. প্রকৃতির শান্ত ও স্বাভাবিক চিত্র

গ. ঝরনার পরিবেশের সৌন্দর্য

ঘ. ক, খ ও গ উভয়ই

উত্তর: ঘ. ক, খ ও গ উভয়ই




১০. 'দুলিয়ে যাই অচল-ঠাঁট, নাড়িয়ে যাই, বাড়িয়ে যাই-টিলার গায় ডালিম-ফাট' - এই চরণগুলোর মাধ্যমে ঝরনার কোন শক্তি প্রকাশ পায়?

ক. প্রবল গতি ও দৃঢ়তা

খ. প্রাকৃতিক বাধাকে অতিক্রম করার ক্ষমতা

গ. পাহাড়ের গঠন পরিবর্তন করার ক্ষমতা

ঘ. টিলাকে ভাঙার ক্ষমতা

উত্তর: খ. প্রাকৃতিক বাধাকে অতিক্রম করার ক্ষমতা




১১. 'শালিক শুক বুলায় মুখ থল-ঝাঁঝির মখমলে' - এই চিত্রকল্প দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

ক. প্রকৃতির শান্ত ও নিবিড় সৌন্দর্য

খ. পশুপাখির অবাধ বিচরণ

গ. ঝরনার পাশে সবুজ পরিবেশ

ঘ. ক ও খ উভয়ই

উত্তর: ঘ. ক ও খ উভয়ই




১২. 'জরির জাল আংরাখায় অঙ্গ মোর ঝলমলে' - ঝরনা কেন তার অঙ্গকে ঝলমলে বলে উল্লেখ করেছে?

ক. সূর্যের আলোয় জলের চিকচিক করাকে বোঝাতে

খ. তার নিজের সৌন্দর্য বর্ণনার জন্য

গ. অলংকার পরার মতো উজ্জ্বলতাকে বোঝাতে

ঘ. পোশাকের রঙের বর্ণনা দিতে

উত্তর: ক. সূর্যের আলোয় জলের চিকচিক করাকে বোঝাতে




১৩. 'কণ্ঠাতেই তৃষ্ণা যার নিক না সেই পাঁক ছেঁকে' - এই উক্তিটির মাধ্যমে ঝরনা কী বার্তা দিতে চায়?

ক. যে জল চায়, তাকে কষ্ট করে জল সংগ্রহ করতে হবে

খ. ঝরনার জল কেবল পরিষ্কার, পাঁকযুক্ত জল নয়

গ. ঝরনা পরিষ্কার জল সরবরাহ করে না

ঘ. মানুষের তৃষ্ণা মেটানো তার কাজ নয়

উত্তর: খ. ঝরনার জল কেবল পরিষ্কার, পাঁকযুক্ত জল নয়




১৪. 'গরজ যার জল স্যাঁচার পাতকুয়ায় যাক না সেই, সুন্দরের তৃষ্ণা যার আমরা ধাই তার আশেই' - এই চরণগুলোতে ঝরনার মূল উদ্দেশ্য কী?

ক. শুধু সৌন্দর্যপিপাসুদের সেবা করা

খ. ব্যবহারিক প্রয়োজন মেটানো নয়

গ. যারা সৌন্দর্য বোঝে, তাদের জন্য বয়ে চলা

ঘ. ক ও গ উভয়ই

উত্তর: ঘ. ক ও গ উভয়ই




১৫. 'তার খোঁজেই বিরাম নেই বিলাই তান-তরল শ্লোক' - এই অংশ দ্বারা ঝরনার কী প্রকাশ পায়?

ক. তার নিরবচ্ছিন্ন যাত্রা

খ. তার সংগীতময় প্রকাশ

গ. তার ক্লান্তহীন কর্মতৎপরতা

ঘ. ক, খ ও গ উভয়ই

উত্তর: ঘ. ক, খ ও গ উভয়ই




১৬. 'চকোর চায় চন্দ্রমায়, আমরা চাই মুগ্ধ-চোখ' - ঝরনা কেন 'মুগ্ধ-চোখ' চায়?

ক. তার সৌন্দর্য উপলব্ধি করার দর্শক পেতে

খ. মানুষের প্রশংসা পেতে

গ. নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে

ঘ. মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে

উত্তর: ক. তার সৌন্দর্য উপলব্ধি করার দর্শক পেতে




১৭. 'উপল-ঘায় দিই ঝিলিক' - বলতে ঝরনার কী ধরনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়?

ক. তার ঔজ্জ্বল্য

খ. তার গতিময়তা

গ. পাথরের সাথে তার সম্পর্ক

ঘ. ক ও খ উভয়ই

উত্তর: ঘ. ক ও খ উভয়ই




১৮. 'দুল দোলাই মন ভোলাই, ঝিলমিলাই দিগ্বিদিক' - এই চরণগুলোর মাধ্যমে ঝরনার কোন ক্ষমতা বোঝানো হয়েছে?

ক. মন জয় করার ক্ষমতা

খ. সৌন্দর্য ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা

গ. চারদিক আলোকিত করার ক্ষমতা

ঘ. ক, খ ও গ উভয়ই

উত্তর: ঘ. ক, খ ও গ উভয়ই




১৯. 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার মাধ্যমে কবি মূলত কী বোঝাতে চেয়েছেন?

ক. প্রকৃতির রহস্যময়তা

খ. জীবনের আনন্দময় গতি ও সৌন্দর্য

গ. মানুষের প্রতি প্রকৃতির অবদান

ঘ. সময়ের অবিরাম প্রবাহ

উত্তর: খ. জীবনের আনন্দময় গতি ও সৌন্দর্য




২০. 'ফটিক জল' - এই শব্দটির একাধিক অর্থ কবিতায় কী ইঙ্গিত দেয়?

ক. জলের স্বচ্ছতা ও নির্মলতা

খ. চাতক পাখির ডাক

গ. প্রকৃতির বহুবিধ রূপ

ঘ. ক ও খ উভয়ই

উত্তর: ঘ. ক ও খ উভয়ই


১. 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার আনন্দানুভ‚তি প্রকাশক চরণ হলো—

i. বিভোল মোর সকল প্রাণ

ii. চপল পায়, কেবল ধাই

iii. পুলক মোর সকল গায়

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii

খ. i ও iii

গ. ii ও iii

ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: ঘ. i, ii ও iii


২. 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার চলার পথের বৈশিষ্ট্য হলো—

i. শিলার পর চরণ থুই

ii. অচল-ঠাঁট দুলিয়ে যায়

iii. টিলার গায় ডালিম-ফাট

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii

খ. i ও iii

গ. ii ও iii

ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: ঘ. i, ii ও iii

৩. ঝরনার নির্ভীকতা প্রকাশ পায় যে চরণগুলোতে—

i. শঙ্কা নাই, সমান যাই

ii. ঝুঁকিয়ে ঘাড় ঝুম-পাহাড় ভয় দ্যাখায়

iii. একলা গাই, একলা ধাই

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii

খ. i ও iii

গ. ii ও iii

ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: খ. i ও iii

৪. 'ঝরনার গান' কবিতায় প্রাকৃতিক পরিবেশের যে চিত্র ফুটে উঠেছে—

i. দুপুর-ভোর ঝিঁঝিঁর ডাক

ii. কালসারের দল চরে

iii. শালিক শুক বুলায় মুখ

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii

খ. i ও iii

গ. ii ও iii

ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: ঘ. i, ii ও iii

৫. ঝরনার আত্মপরিচয়ের ক্ষেত্রে যে ভাবগুলো অনুপস্থিত—

i. তার জন্মরহস্যের জ্ঞান

ii. তার উৎস সম্পর্কে সচেতনতা

iii. অতীত নিয়ে ভাবনা

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii

খ. i ও iii

গ. ii ও iii

ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: ঘ. i, ii ও iii

৬. ঝরনার গতি ও সুরের প্রকাশ ঘটেছে—

i. চপল পায় কেবল ধাই

ii. কেবল গাই পরীর গান

iii. উপল-ঘায় দিই ঝিলিক

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii

খ. i ও iii

গ. ii ও iii

ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: ঘ. i, ii ও iii

৭. 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনা নিজেকে যেভাবে উপস্থাপন করেছে—

i. লীলায় ধাবমান

ii. হাস্যে পরিপূর্ণ

iii. বুলবুলির মতো সুর সাধক

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii

খ. i ও iii

গ. ii ও iii

ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: ঘ. i, ii ও iii

৮. 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার চারপাশের প্রাকৃতিক অনুষঙ্গগুলো হলো—

i. বন-ঝাউয়ের ঝোপ

ii. থল-ঝাঁঝি

iii. জরির জাল আংরাখা

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii

খ. i ও iii

গ. ii ও iii

ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: ক. i ও ii


৯. ঝরনার সুন্দরের প্রতি আকর্ষণ প্রকাশ পায় যে চরণগুলোতে—

i. সুন্দরের তৃষ্ণা যার আমরা ধাই তার আশেই

ii. চকোর চায় চন্দ্রমায়

iii. আমরা চাই মুগ্ধ-চোখ

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii

খ. i ও iii

গ. ii ও iii

ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: খ. i ও iii

১০. 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার সর্বজনীন আবেদন প্রকাশকারী বাক্য হলো—

i. দুল দোলাই মন ভোলাই

ii. ঝিলমিলাই দিগ্বিদিক

iii. তার খোঁজেই বিরাম নেই

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii

খ. i ও iii

গ. ii ও iii

ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: ঘ. i, ii ও iii


ছোট্ট মেয়ে মিতা তার দাদুর সঙ্গে পাহাড়ের কোলে একটা ছড়া দেখতে গেল। ছড়াটি অবিরাম বয়ে চলেছে, তার জল পাথরে আঘাত করে মধুর শব্দ সৃষ্টি করছে। মিতা মুগ্ধ হয়ে দেখছিল, কেমন করে জলধারা নানা বাধা পেরিয়ে নিজের পথ করে নিচ্ছে। দাদু বললেন, "এই ছড়াটি যেন জীবনের প্রতীক, যা থেমে থাকে না, সবসময় এগিয়ে চলে।"

১. উদ্দীপকের ছড়াটির সাথে 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার কোন দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ?

ক. পরীর গানের মতো সুর

খ. অবিরাম গতি ও প্রাণবন্ততা

গ. পাহাড়কে ভয় দেখানো

ঘ. সুন্দরের তৃষ্ণা মেটানো

উত্তর: খ. অবিরাম গতি ও প্রাণবন্ততা


২. 'ঝরনার গান' কবিতার কোন চরণটি উদ্দীপকের দাদুর উক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

i. চপল পায় কেবল ধাই

ii. তার খোঁজেই বিরাম নেই

iii. ঝিমায় পথ, ঘুমায় বন

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii

খ. i ও iii

গ. ii ও iii

ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: ক. i ও ii

কিশোর রনি তার আঁকা ছবিতে একটি পাহাড়ি ঝরনার চিত্র এঁকেছে। ঝরনাটি তার স্বচ্ছ জলরাশি নিয়ে পাথরের বুক চিরে নেমে আসছে। চারপাশে সবুজ গাছপালা, কিছু পাখি ডালে বসে কিচিরমিচির করছে। রনি তার ছবিতে ঝরনার প্রবাহকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছে, যেন তা জীবন্ত।


৩. উদ্দীপকের রনির আঁকা ছবির সাথে 'ঝরনার গান' কবিতার কোন বিষয়টি সাদৃশ্যপূর্ণ?

ক. ঝরনার উৎসের রহস্য
খ. ঝরনার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও গতি
গ. ঝরনার ভয়হীনতা
ঘ. ঝরনার সৌন্দর্যপিপাসা

উত্তর: খ. ঝরনার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও গতি


৪. উদ্দীপকের রনির আঁকা ছবিতে 'ঝরনার গান' কবিতার যে দিকের বিপরীত চিত্র ফুটে উঠেছে—

i. বিজন দেশ, কূজন নাই
ii. বন-ঝাউয়ের ঝোপগুলায় কালসারের দল চরে
iii. শালিক শুক বুলায় মুখ থল-ঝাঁঝির মখমলে
নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i

খ. ii

গ. i ও ii

ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: ক. i


মিষ্টি মেয়ে অনামিকা তার বাগান থেকে টগর ফুল তুলে তার চুলের খোঁপার পাশে লাগাল। সাদা টগর ফুলগুলো তার রূপে এক স্নিগ্ধ সৌন্দর্য যোগ করল। সে যখন হাঁটছিল, তখন ফুলের মৃদু দোলন এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করছিল।
৫. 'ঝরনার গান' কবিতার 'টগর-ফুল-নূপুর পায়' চরণটির সাথে উদ্দীপকের অনামিকার কোন দিকের সাদৃশ্য রয়েছে?

ক. ফুলের সৌন্দর্য

খ. স্নিগ্ধ গতি ও সৌন্দর্যময়তা

গ. সাদা রঙের প্রতি আকর্ষণ

ঘ. নূপুরের মতো শব্দ

উত্তর: খ. স্নিগ্ধ গতি ও সৌন্দর্যময়তা


পতিতপাবন মণ্ডল(পাবন) 
বাংলা বিভাগীয় প্রধান
সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ 
মাস্টার ট্রেইনার কারিকুলাম এবং সৃজনশীল প্রশ্ন-পদ্ধতি 
অনলাইন ব্যাচের জন্য 
যোগাযোগ: 138ppm@gmail.com

No comments

Thank you, best of luck

Theme images by sbayram. Powered by Blogger.