বহু জাতিসত্তার দেশ বাংলাদেশ।। এ. কে. শেরাম।। গদ্য ।। সপ্তবর্ণা।। সপ্তম শ্রেণি।। NCTB BOOK।। MCQ Ques-Ans
এ. কে. শেরাম
আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এই বাংলাদেশ বহু জাতি, বহু ভাষা ও বহু সংস্কৃতির একটি দেশ। এখানে প্রধান জনগোষ্ঠী বাঙালির পাশাপাশি রয়েছে প্রায় অর্ধশত জাতিসত্তার মানুষ। দেশের প্রধান ও রাষ্ট্রভাষা বাংলার পাশাপাশি রয়েছে অনেক ভাষা এবং ঐসব জাতিগোষ্ঠীর নানা বর্ণের বিচিত্র সংস্কৃতিও। তারপরও আমরা সবাই জাতীয়তার পরিচয়ে এক এবং দেশকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ। বৈচিত্র্যের মধ্যেও এই যে একতার শক্তি, এটিই আমাদের বাংলাদেশকে সুন্দর ও বর্ণময় করে তুলেছে।
বাঙালি ছাড়া বাংলাদেশে বসবাসরত অন্যান্য জাতিসত্তার সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। তবে সাধারণভাবে এই সংখ্যা ৪৬টি বলে অনুমিত। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড়ি জনপদ ছাড়াও দেশের সমতলভূমি যেমন কক্সবাজার, পটুয়াখালী, বরগুনা, ময়মনসিংহ, জামালপুর, টাঙ্গাইল, বগুড়া, রাজশাহী, পাবনা, দিনাজপুর ও সিলেটে প্রধানত এদের বসতি। এসব জনগোষ্ঠী শত শত বছর ধরে এই ভূখণ্ডে বসবাস করছে। তাদের প্রায় প্রত্যেকেরই রয়েছে নিজস্ব ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি। প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর কাছে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি খুবই প্রিয়।
বাংলাদেশে যেসব সংখ্যালঘু জাতিসত্ত্বা বাস তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, সাঁওতাল, মণিপুরি, খাসি, থ্রো, রাখাইন, হাজং, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, কোচ, পাহাড়িয়া, রাজবংশী, মালো, ওঁরাও ইত্যাদি। এদের মধ্যে প্রধান কয়েকটি জনগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতির পরিচয় সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো।
চাকমা:
মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর অন্তর্গত চাকমাদের প্রধান বসতি পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায়। নিজেদের মধ্যে তারা ‘চাওমা’ নামে পরিচিত। তারা আর্য ভাষা গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। তাদের নিজস্ব হরফও আছে। চাকমারা পিতৃতান্ত্রিক। পিতাই পরিবারের প্রধান। চাকমা সমাজের প্রধান হলেন রাজা। গ্রামের প্রধান হলেন কারবারি। গ্রামের যাবতীয় সমস্যা তিনিই নিষ্পত্তি করেন। চাকমারা প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। তবে তার পাশাপাশি এখনও তারা কিছু কিছু প্রকৃতিপূজাও করে থাকে। চাকমা পুরুষেরা ‘ধুতি’ ও মহিলারা ‘পিনন’ পরিধান করে থাকে। পুরুষেরা নিজেদের তাঁতে তৈরি ‘সিলুম’ (জামা) পরে। মেয়েরা ‘খাদি’কে ওড়না হিসেবে ব্যবহার করে।
চাকমাদের প্রধান খাদ্য ভাত, মাছ, মাংস ও শাক-সবজি। চাকমা-জীবনের নানা পর্যায়ে বিভিন্ন লৌকিক আচার অনুষ্ঠান থাকে। বিয়ের সময় ছেলের অভিভাবককে ঘটকসহ কনের বাড়িতে কমপক্ষে তিনবার যাওয়া-আসা করতে হয়। প্রতিবার চুয়ানি, পান-সুপারি ও পিঠা নিয়ে যেতে হয়। বিজু উৎসব চাকমাদের একটি প্রধান উৎসব। চৈত্রের শেষ দুইদিন ‘ফুলবিজু’ ও ‘মূলবিজু’ এবং পহেলা বৈশাখকে ‘গর্জ্যাপর্যা’ বলে আখ্যায়িত করে থাকে তারা। লোকনৃত্যগীত হিসেবে ‘জুমনাচ’ ও ‘বিজুনাচ’ বেশ জনপ্রিয়।
গারো:
গারো জনগোষ্ঠীর প্রধান বসতি ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও সিলেট অঞ্চলে. মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর অন্তর্গত গারোরা মাতৃতান্ত্রিক. মেয়েরা পরিবারের সম্পত্তির মালিক হয়. বিবাহের পর বর স্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে বসবাস করে থাকে. সন্তান-সন্ততিরা মায়ের পদবি ধারণ করে. তবে পরিবার, সমাজ পরিচালনা ও শাসনে পুরুষেরই দায়িত্ব পালন করে থাকে. একই গোত্রে বিবাহ গারো সমাজে নিষিদ্ধ. গারোদের নিজস্ব ধর্ম আছে. এটি এক ধরনের প্রকৃতি-পূজা. গারোরা প্রধানত কৃষিজীবী. পাহাড়ে বসবাসকারীরা জুম চাষ করে. আর সমতলভূমির গারোরা নারী ও পুরুষ একসাথে সাধারণ নিয়মে কৃষকাজ করে. গারোরা জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি জীবনের নানা পর্যায়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করে. অলঙ্কারও ব্যবহার করে থাকে. গারো সংস্কৃতিতে গীতবাদ্য ও নৃত্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ. তাদের নিজস্ব কিছু বাদ্যযন্ত্রও আছে. ফসল বোনা, নবান্ন, করবর্ষ ইত্যাদি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন হয়. ‘য়ানগালা’ গারোদের একটি জনপ্রিয় উৎসব.
মারমা:
মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর অন্তর্গত মারমাদের প্রধান বসতি পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে. মারমা ভাষাও মঙ্গোলীয় ভাষা পরিবারের. তাদের নিজস্ব বর্ণমালাও আছে. মারমারা প্রাচীনকাল থেকেই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী. তারা বিয়ের সময় ধর্মীয় ও লোকাচার মিলিয়ে নানা অনুষ্ঠান পালন করে. নিজেদের গোত্রে বিবাহকে মারমা সমাজে উৎসাহিত করা হয়. মারমারা পিতৃতান্ত্রিক. সম্পত্তির উত্তরাধিকার ছেলে ও মেয়েদের সমান অধিকারের কথা বলা আছে. তবে পরিবার ও সমাজজীবনে পুরুষেরই প্রাধান্য থাকে. বিয়ের পর নারী-পুরুষ ইচ্ছে করলে মা-বাবার বাড়ি কিংবা শ্বশুরবাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারে. মারমাদের সামাজিক শাসনব্যবস্থায় রাজা প্রধান. মারমারা জুম চাষ করে এবং বনজ সম্পদ আহরণের মাধ্যমে জীবিকানির্বাহ করে.
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হলেও মারমা জনগোষ্ঠী এখনও বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা এবং নানা আচার-অনুষ্ঠানাদি পালন করে. তাদের সবচেয়ে বড়ো উৎসব হলো নববর্ষে সাংগ্রাই দেবীর পূজা এবং এ উপলক্ষে আয়োজিত সাংগ্রাই উৎসব তিন দিন ধরে চলে.
মণিপুরি:
মণিপুরিদের আদি নিবাস ভারতের মণিপুর রাজ্য. এদের মধ্যে কোনো কোনো সম্প্রদায়ের নিজস্ব বর্ণমালাও আছে. মণিপুরিরা যেখানেই বসতি স্থাপন করে সেখানে কয়েকটি পরিবার মিলে গড়ে তোলেপাড়া. প্রতিটি পাড়াতেই থাকে দেবমন্দির ও মণ্ডপ. ঐ মন্দির ও মণ্ডপকে ঘিরেই আবর্তিত হয় ঐ পাড়ার যাবতীয় ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ড. মণিপুরি সমাজে পাড়া বা গ্রাম ও ‘পানচায়’ বা পঞ্চায়েতের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ.
মণিপুরি জনগোষ্ঠী সাতটি গোত্রে বিভক্ত. মণিপুরিদের প্রাচীন ধর্মের নাম ‘আপোকপা’. তবে মণিপুরিদের অধিকাংশই এখন সনাতন ধর্মের চৈতন্যমতের অনুসারী. মণিপুরিদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইসলাম ধর্মাবলম্বী. সনাতন ধর্মাবলম্বী মণিপুরিদের প্রধান উৎসব রাস উৎসব, রথযাত্রা ইত্যাদি. রাস উৎসব উপলক্ষ্যে রাসনৃত্য ও মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে. মণিপুরিরা প্রধানত কৃষিজীবী. ভাত, মাছ, শাক-সবজি মণিপুরিদের প্রধান খাদ্য. মণিপুরি পুরুষেরা সাধারণত ধুতি, গামছা, জামা ইত্যাদি পরিধান করে. আর মেয়েরা পরে নিজেদের তৈরি বিশেষ ধরনের পোশাক.
ত্রিপুরা
পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, রামগড়, রাঙামাটি, কাপ্তাই এবং চট্টগ্রাম জেলা, বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালী ও সিলেট অঞ্চলে বসবাসকারী ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী মঙ্গোলীয় মহাজাতির অংশ. তাদের ভাষার নাম ‘ককবরক’. এদের নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই. ত্রিপুরা সমাজব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক. ছেলেরাই সম্পত্তির অধিকারী হয়. ত্রিপুরারা বর্তমানে সাধারণভাবে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী. কিন্তু তারা এখনও তাদের প্রাচীন লোকজ ধর্মের নানা দেব-দেবীর পূজা-অর্চনা এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি করে.
ত্রিপুরা মেয়েরা কাপড় বয়নে খুবই দক্ষ. তারা নিজেদের পরনের কাপড় নিজেরাই তাঁতে তৈরি করে. পুরুষেরা পরিধান করে নিজেদের তৈরি গামছা ও ধুতি. ত্রিপুরারা কৃষিজীবী. তারা পাহাড়ে জুম চাষ করে. ত্রিপুরাদের সংগীত ও নৃত্য খুবই সমৃদ্ধ. তাদের মধ্যে বিভিন্ন সংগীতের প্রচলন যেমন আছে, তেমনি আছে নানা প্রদত্ত ছবিগুলোর
প্রকারের নৃত্যও। ত্রিপুরাদের প্রধান উৎসব নববর্ষ বা বৈসু। ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ‘বৈসু’, মারমাদের ‘সাংগ্রাই’ ও চাকমাদের ‘বিজু’ উৎসবের প্রথম অক্ষর নিয়ে ‘বৈসাবি’ উৎসব এখন নববর্ষ উপলক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতীয় উৎসব।
সাঁওতাল
সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর লোক প্রধানত উত্তরবঙ্গ ও সিলেটের চা বাগানে বসবাস করে। তাদের ভাষা অস্ট্রিক পরিবারের। সাঁওতাল সমাজ পিতৃতান্ত্রিক। সম্পত্তির মালিকানায় এবং সমাজ ও পরিবারে পুরুষই প্রধান। সাঁওতালদের নিজস্ব ধর্ম আছে। কিন্তু কোনো ধর্মগ্রন্থ নেই। পেশার দিক থেকে সাঁওতাল জনগোষ্ঠী প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত— কৃষক ও শ্রমিক। অনেকের জন্য কৃষি যেমন প্রধান জীবিকা তেমনি অনেকে আবার শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে থাকে। ব্রিটিশ-বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে সাঁওতালদের সংগ্রামী ভূমিকা, বিশেষ করে ‘সাঁওতাল বিদ্রোহ’ ও ‘নাচোল কৃষক বিদ্রোহ’ ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
সাঁওতালরা খুবই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। বাড়িঘর লেপে মুছে পরিষ্কার রাখা হয় এবং দেওয়ালে নানা রঙ দিয়ে ছবি আঁকা হয়। ‘সোহরাই’ হচ্ছে সাঁওতাল সমাজের শ্রেষ্ঠ উৎসব। এটা অনেকটা পৌষ-পার্বণের মতো। সাঁওতাল নৃত্যে মেয়ে-পুরুষ দলবদ্ধ হয়ে নাচে। তাদের ঝুমুর নাচ খুবই জনপ্রিয়।
বাংলাদেশের এসব ক্ষুদ্র নৃভাষিক জাতিসত্তার জীবন ও সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে— বর্ণিল ও বৈচিত্র্যপূর্ণ করেছে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও রয়েছে তাদের বিরাট অবদান। তারা আজ জাতীয় মূলধারারই অংশ।
শব্দার্থ ও টিকা:
সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী — বাংলাদেশের জনসংখ্যার বৃহত্তর অংশ হচ্ছে বাঙালি। বাঙালি ছাড়া আরও কিছু জনগোষ্ঠী বা জাতি আছে, যারা ভাষা, সামাজিক রীতিনীতি প্রভৃতির দিক থেকে বাঙালিদের মতো নয়। তাদের সংখ্যা বাঙালিদের তুলনায় কম। যেমন : চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, হাজং, ত্রিপুরা ইত্যাদি।
সংস্কৃতি — ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের আত্মপরিচয় পাওয়া যায় এমন সব বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় সংস্কৃতি। বাঙালির কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে, সেগুলোর দ্বারা বাঙালিকে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী থেকে আলাদা করা যায়। তেমনি ক্ষুদ্র জাতিসমূহের সংস্কৃতিও আলাদা আলাদা। তবে নাগরিকের পরিচয়ে বাংলাদেশের সকলেই এক ও অভিন্ন।
আর্যভাষা — দুনিয়ার একটি প্রধান ভাষাগোষ্ঠীর নাম ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠী। তার একটি শাখার নাম আর্য ভাষা। এই আর্য ভাষা থেকে বাংলা, হিন্দি, ওড়িয়া, চাকমা প্রভৃতি ভাষার সৃষ্টি হয়েছে।
পিতৃতান্ত্রিক পরিবার — মানব সমাজে দু’রকমের পরিবার প্রথার সৃষ্টি হয়েছে; (ক) পিতৃতান্ত্রিক, (খ) মাতৃতান্ত্রিক। পরিবারের প্রধান নেতৃ, অর্থনৈতিক ক্ষমতা ও সম্পত্তি যদি পুরুষের হাতে থাকে তাহলে সেরকমের পরিবারকে বলা হয় পিতৃতান্ত্রিক পরিবার। আর যে পরিবার প্রথায় উক্ত নেতৃ ও ক্ষমতা নারীর হাতে থাকে, তাকে বলা হয় মাতৃতান্ত্রিক। বাঙালিদের মতো চাকমাদের পরিবার পিতৃতান্ত্রিক। তবে এখানে মাতৃতান্ত্রিক পরিবারেও পিতৃতান্ত্রিক পরিবারের প্রভাব পড়েছে।
খাদি — হাতে কাটা (মেশিনে নয়) সুতা দিয়ে তৈরি কাপড়।
লৌকিক আচার-অনুষ্ঠান — স্থান ও জাতি বিশেষের ঐতিহ্যগত আচার-অনুষ্ঠান যার মধ্যে কোনো নাগরিক রুচির প্রভাব পড়ে নি, তাকে লৌকিক আচার-অনুষ্ঠান বলা হয়।
মাতৃতান্ত্রিক পরিবার — কিছু সমাজ আছে যেখানে পুরুষ সমাজ পরিচালনা ও শাসনের অধিকারী হলেও নারীদের পরিচয়ে পরিবার পরিচিত হয়। এ ধরনের পরিবারকে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার বলে। যেমন— গারো পরিবার।
পদবি — উপাধি, যা নামের শেষে যোগ করে বংশ পরিচয় দেওয়া হয়। পদবি বলতে কার্যক্ষেত্রে স্তর বা মর্যাদাও বোঝায়।
জুম — পাহাড়ে চাষাবাদের বিশেষ পদ্ধতি।
মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠী — একটি ভাষাগোষ্ঠী; এই ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত প্রতিটি ভাষার আলাদা রূপ ও বৈশিষ্ট্য আছে।
মণ্ডপ — পূজা বা সভা-সমিতির জন্য নির্দিষ্ট জায়গা।
১. বাংলাদেশের প্রধান জনগোষ্ঠী কোনটি?
ক. চাকমা
খ. মারমা
গ. বাঙালি
ঘ. সাঁওতাল
উত্তর: গ. বাঙালি
২. সাধারণভাবে বাংলাদেশে বসবাসরত অন্যান্য জাতিসত্তার সংখ্যা কতটি বলে অনুমিত?
ক. প্রায় ৩০টি
খ. প্রায় ৪০টি
গ. প্রায় ৪৬টি
ঘ. প্রায় ৫০টি
উত্তর: গ. প্রায় ৪৬টি
৩. ‘চাওমা’ নামে নিজেদের পরিচয় দেয় কোন জনগোষ্ঠী?
ক. মারমা
খ. চাকমা
গ. ত্রিপুরা
ঘ. গারো
উত্তর: খ. চাকমা
৪. চাকমা সমাজের প্রধানকে কী বলা হয়?
ক. কারবারি
খ. হেডম্যান
গ. রাজা
ঘ. মণ্ডল
উত্তর: গ. রাজা
৫. চাকমা গ্রামের প্রধানকে কী বলা হয়?
ক. কারবারি
খ. চৌধুরী
গ. দেওয়ান
ঘ. রাজা
উত্তর: ক. কারবারি
৬. চাকমা মহিলারা নিচের কোনটি পরিধান করে?
ক. লুঙ্গি
খ. ধুতি
গ. পিনন
ঘ. শাড়ি
উত্তর: গ. পিনন
৭. গারোরা প্রধানত কোন জনগোষ্ঠীর অন্তর্গত?
ক. মঙ্গোলীয়
খ. অস্ট্রিক
গ. দ্রাবিড়
ঘ. আর্য
উত্তর: ক. মঙ্গোলীয়
৮. গারো সমাজব্যবস্থা কেমন?
ক. পিতৃতান্ত্রিক
খ. মাতৃতান্ত্রিক
গ. পিতৃপ্রধান
ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: খ. মাতৃতান্ত্রিক
৯. গারোদের একটি জনপ্রিয় উৎসবের নাম কী?
ক. বিজু
খ. সাংগ্রাই
গ. য়ানগালা
ঘ. বৈসু
উত্তর: গ. য়ানগালা
১০. মারমা ভাষা কোন ভাষা পরিবারের অন্তর্গত?
ক. অস্ট্রিক
খ. ইন্দো-ইউরোপীয়
গ. মঙ্গোলীয়
ঘ. দ্রাবিড়
উত্তর: গ. মঙ্গোলীয়
১১. মারমাদের প্রাচীন ধর্ম কোনটি?
ক. হিন্দুধর্ম
খ. বৌদ্ধধর্ম
গ. খ্রিস্টধর্ম
ঘ. ইসলাম ধর্ম
উত্তর: খ. বৌদ্ধধর্ম
১২. মণিপুরিদের আদি নিবাস ভারতের কোন রাজ্যে?
ক. আসাম
খ. মিজোরাম
গ. নাগাল্যান্ড
ঘ. মণিপুর
উত্তর: ঘ. মণিপুর
১৩. সনাতন ধর্মাবলম্বী মণিপুরিদের প্রধান উৎসব কোনটি?
ক. দুর্গাপূজা
খ. রাস উৎসব
গ. রথযাত্রা
ঘ. খ এবং গ উভয়ই
উত্তর: ঘ. খ এবং গ উভয়ই
১৪. ত্রিপুরার ভাষার নাম কী?
ক. ককবরক
খ. চাকমা ভাষা
গ. মারমা ভাষা
ঘ. সাঁওতালী
উত্তর: ক. ককবরক
১৫. ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব ‘বৈসু’, মারমাদের ‘সাংগ্রাই’ ও চাকমাদের ‘বিজু’ উৎসবের প্রথম অক্ষর নিয়ে কোন উৎসব হয়?
ক. বিজু উৎসব
খ. সাংগ্রাই উৎসব
গ. বৈসাবি উৎসব
ঘ. বৈসু উৎসব
উত্তর: গ. বৈসাবি উৎসব
১৬. সাঁওতালদের ভাষা কোন পরিবারের অন্তর্গত?
ক. মঙ্গোলীয়
খ. অস্ট্রিক
গ. দ্রাবিড়
ঘ. আর্য
উত্তর: খ. অস্ট্রিক
১৭. ‘সোহরাই’ কোন সমাজের শ্রেষ্ঠ উৎসব?
ক. ওঁরাও
খ. সাঁওতাল
গ. মুণ্ডা
ঘ. খাসি
উত্তর: খ. সাঁওতাল
১৮. সাঁওতালদের জনপ্রিয় নাচ কোনটি?
ক. ঝুমুর নাচ
খ. জুমনাচ
গ. বিজুনাচ
ঘ. তলোয়ার নাচ
উত্তর: ক. ঝুমুর নাচ
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন (১০টি)
(পাঠের বিষয়বস্তু অনুধাবন বা বোঝার ক্ষমতা যাচাই)
১৯. ‘বৈচিত্র্যের মধ্যেও একতার শক্তি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক. বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভিন্ন সংস্কৃতি থাকা সত্ত্বেও সবাই বাংলাদেশি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ
খ. সবার ভাষা ও ধর্ম একই রকম হওয়া
গ. সবার সংস্কৃতি হুবহু মিলে যাওয়া
ঘ. ভিন্ন ভিন্ন দেশে বসবাস করা
উত্তর: ক. বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভিন্ন সংস্কৃতি থাকা সত্ত্বেও সবাই বাংলাদেশি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ
২০. চাকমা সমাজে বিয়ের সময় কনের বাড়িতে ছেলের অভিভাবককে কতবার যাওয়া-আসা করতে হয়?
ক. একবার
খ. দুইবার
গ. কমপক্ষে তিনবার
ঘ. চারবার
উত্তর: গ. কমপক্ষে তিনবার
২১. গারো সমাজে বিবাহের পর বর কোথায় বসবাস করে?
ক. নিজের বাড়িতে
খ. স্ত্রীর বাড়িতে
গ. শ্বশুরবাড়ির নিকটবর্তী স্থানে
ঘ. মামার বাড়িতে
উত্তর: খ. স্ত্রীর বাড়িতে
२२. গারো সমাজে সম্পত্তির মালিক কারা?
ক. ছেলেরা
খ. মেয়েরা
গ. স্বামী-স্ত্রী উভয়ে
ঘ. পরিবারের সবাই সমানভাবে
উত্তর: খ. মেয়েরা
২৩. মারমা সমাজে সম্পত্তির উত্তরাধিকার সম্পর্কে কী বলা আছে?
ক. কেবল ছেলেরা সম্পত্তি পায়
খ. কেবল মেয়েরা সম্পত্তি পায়
গ. ছেলে ও মেয়েদের সমান অধিকারের কথা বলা আছে
ঘ. কেউ সম্পত্তি পায় না
উত্তর: গ. ছেলে ও মেয়েদের সমান অধিকারের কথা বলা আছে
২৪. মণিপুরি সমাজে কোনটির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ?
ক. কেবল রাজার
খ. পাড়া বা গ্রাম ও ‘পানচায়’ বা পঞ্চায়েতের
গ. শুধুমাত্র মাতামহের
ঘ. কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি শাসনের
উত্তর: খ. পাড়া বা গ্রাম ও ‘পানচায়’ বা পঞ্চায়েতের
২৫. ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী বর্তমানে সাধারণভাবে কোন ধর্মাবলম্বী?
ক. বৌদ্ধ ধর্ম
খ. ইসলাম ধর্ম
গ. সনাতন হিন্দু ধর্ম
ঘ. খ্রিস্ট ধর্ম
উত্তর: গ. সনাতন হিন্দু ধর্ম
২৬. ত্রিপুরা মেয়েরা কোন কাজে খুবই দক্ষ?
ক. কৃষিকাজে
খ. কাপড় বয়নে
গ. মাছ শিকারে
ঘ. কাঠ খোদাইয়ে
উত্তর: খ. কাপড় বয়নে
২৭. সাঁওতালদের পেশার দিক থেকে প্রধানত কয় ভাগে বিভক্ত?
ক. দুই ভাগে (কৃষক ও শ্রমিক)
খ. তিন ভাগে (কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী)
গ. চার ভাগে
ঘ. কোনো নির্দিষ্ট ভাগ নেই
উত্তর: ক. দুই ভাগে (কৃষক ও শ্রমিক)
২৮. সাঁওতালদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার একটি বিশেষ দিক কী?
ক. তারা প্রতিদিন নদীতে গোসল করে
খ. তারা খুব দামী কাপড় পরে
গ. বাড়িঘর লেপে মুছে পরিষ্কার রাখা এবং দেওয়ালে রঙ দিয়ে ছবি আঁকা
ঘ. তারা কেবল পাকা বাড়িতে থাকে
উত্তর: গ. বাড়িঘর লেপে মুছে পরিষ্কার রাখা এবং দেওয়ালে রঙ দিয়ে ছবি আঁকা
প্রয়োগমূলক প্রশ্ন (৭টি)
(বহুপদী সমাপ্তিসূচক - উদ্দীপক বা পাঠের একাধিক তথ্যের ব্যবহার)
২৯. বাংলাদেশের বহু জাতিসত্তার মানুষের বিষয়ে নিচের কোন তথ্যগুলো সঠিক?
i. তারা শত শত বছর ধরে এই ভূখণ্ডে বসবাস করছে
ii. তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি আছে
iii. তাদের সংস্কৃতি ভিন্ন হলেও জাতীয়তার পরিচয়ে তারা এক
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
উত্তর: ঘ. i, ii ও iii
৩০. চাকমা সংস্কৃতি ও জীবনধারার সাথে সম্পর্কিত উপাদানগুলো হলো—
i. পিনন ও সিলুম
ii. চুয়ানি ও পিঠা
iii. য়ানগালা উৎসব
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
উত্তর: ক. i ও ii
৩১. গারো জনগোষ্ঠীর জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে নিচের কোন বাক্যগুলো প্রযোজ্য?
i. মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর অন্তর্গত গারোরা মাতৃতান্ত্রিক
ii. সন্তান-সন্ততিরা মায়ের পদবি ধারণ করে
iii. একই গোত্রে বিবাহ গারো সমাজে নিষিদ্ধ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
উত্তর: ঘ. i, ii ও iii
৩২. মারমা জনগোষ্ঠী সম্পর্কে নিচের কোন তথ্যগুলো সঠিক?
i. তাদের নিজস্ব বর্ণমালা আছে
ii. প্রাচীনকাল থেকেই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী
iii. সমাজব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
উত্তর: ক. i ও ii
৩৩. মণিপুরি জনপদ ও ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে নিচের কোন তথ্যগুলো সঠিক?
i. মণিপুরিরা যেখানেই বসতি স্থাপন করে সেখানে কয়েকটি পরিবার মিলে পাড়া গড়ে তোলে
ii. প্রতিটি পাড়াতেই দেবমন্দির ও মণ্ডপ থাকে
iii. মণিপুরিদের প্রাচীন ধর্মের নাম ‘আপোকপা’
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
উত্তর: ঘ. i, ii ও iii
৩৪. ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও জীবিকার সাথে নিচের কোনটি মিলে যায়?
i. ককবরক ভাষা
ii. জুম চাষ
iii. জামদানি তৈরি
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
উত্তর: ক. i ও ii
৩৫. সাঁওতালদের ইতিহাস ও উৎসব সম্পর্কে নিচের কোন তথ্যগুলো সঠিক?
i. ব্রিটিশ-বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে তাদের সংগ্রামী ভূমিকা আছে
ii. ‘সোহরাই’ তাদের শ্রেষ্ঠ উৎসব
iii. তাদের প্রধান জীবিকা কেবল ব্যবসা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
উত্তর: ক. i ও ii
উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্ন (৫টি)
(উদ্দীপক বা নতুন পরিস্থিতির আলোকে পাঠের জ্ঞান প্রয়োগ)
৩৬. উদ্দীপক: রহিম সাহেব একজন সমাজবিজ্ঞানী। তিনি বাংলাদেশের একটি বিশেষ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্পর্কে গবেষণা করে জানতে পারলেন যে, সেই সমাজে মা পরিবারের প্রধান এবং বিয়ের পর স্বামী স্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে বসবাস করে। সম্পত্তির মালিকও মেয়েরা।
উক্ত সমাজব্যবস্থাটি পাঠ্যবইয়ের কোন জনগোষ্ঠীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ?
ক. চাকমা
খ. মারমা
গ. গারো
ঘ. সাঁওতাল
উত্তর: গ. গারো
৩৭. উদ্দীপক: পহেলা বৈশাখে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর নিজস্ব উৎসবের প্রথম অক্ষর নিয়ে একটি সার্বজনীন উৎসব পালিত হয়, যা এখন জাতীয় উৎসবের মর্যাদা পেয়েছে।
এই উৎসবের নাম কী?
ক. বিজু
খ. সাংগ্রাই
গ. বৈসাবি
ঘ. বৈসু
উত্তর: গ. বৈসাবি
৩৮. উদ্দীপক: মিসেস লুনা একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গেলেন। সেখানে তিনি দেখলেন কনের বাড়ির লোকজন বরযাত্রীদের আপ্যায়নে বিশেষ এক ধরণের পানীয়, পিঠা এবং পান-সুপারি পরিবেশন করছে। এটি তাদের ঐতিহ্যবাহী লৌকিক আচার।
পাঠ্যবইয়ের কোন জনগোষ্ঠীর বিয়ের অনুষ্ঠানে এমনটি দেখা যায়?
ক. মারমা
খ. চাকমা
গ. ত্রিপুরা
ঘ. গারো
উত্তর: খ. চাকমা
৩৯. উদ্দীপক: সাজেদা পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে গিয়ে দেখল পাহাড়ের ঢাল কেটে বিশেষ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হচ্ছে। স্থানীয় গাইড তাকে জানাল, এটি তাদের আদি পেশা।
পাঠ্যবইয়ের তথ্যমতে, নিচের কোন জনগোষ্ঠীর প্রধান পেশা এটি?
ক. কেবল চাকমা
খ. কেবল মারমা
গ. ত্রিপুরা
ঘ. উপরোক্ত তিনটি জনগোষ্ঠীই (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা) পাহাড়ে জুম চাষ করে
উত্তর: ঘ. উপরোক্ত তিনটি জনগোষ্ঠীই (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা) পাহাড়ে জুম চাষ করে
৪০. উদ্দীপক: একটি গ্রামের কেন্দ্রস্থলে একটি সুন্দর মন্দির ও মণ্ডপ রয়েছে। গ্রামের মানুষ প্রতিদিন সেখানে পূজা দিতে আসে এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সভা-সমিতি সেখানেই অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামের শাসন ও সালিশের দায়িত্ব পালন করে একটি পঞ্চায়েত কমিটি।
এই বর্ণনাটি পাঠ্যবইয়ের কোন জনগোষ্ঠীর জীবনচিত্রের সাথে সবচেয়ে বেশি মিলে যায়?
ক. গারো
খ. সাঁওতাল
গ. মণিপুরি
ঘ. রাখাইন
উত্তর: গ. মণিপুরি

No comments
Thank you, best of luck