১. সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ে একটি সরেজমিন সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।। ২. খাদ্যদ্রব্যের ঊর্ধ্বমূল্য সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।। ৩. খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।। ৪. দুনীর্তি প্রতিরোধ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।। ৫. মাদকাসক্তি যুব সমাজের অবক্ষয়ের অন্যতম প্রধান কারণ এ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।। ৬. বন্যায়/ ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ জনগণের বিবরণ দিয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।।
১. সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ে একটি সরেজমিন সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।
২. খাদ্যদ্রব্যের ঊর্ধ্বমূল্য সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।
৩. খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।
৪. দুনীর্তি প্রতিরোধ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।
৫. মাদকাসক্তি যুব সমাজের অবক্ষয়ের অন্যতম প্রধান কারণ এ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।
৬. বন্যায়/ ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ জনগণের বিবরণ দিয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।
১. সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ে একটি সরেজমিন সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।
প্রতিদিনের মরণফাঁদ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক: অনিয়ন্ত্রিত গতি ও অব্যবস্থাপনায় বাড়ছে প্রাণহানি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ১৫ আগস্ট ২০২৫।।
রাজধানী ঢাকাকে বাণিজ্যিক শহর চট্টগ্রামের সাথে সংযোগকারী ব্যস্ততম মহাসড়কটি যেন এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। গত এক সপ্তাহে এই মহাসড়কে সংঘটিত কয়েকটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫ জন এবং আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। সরজমিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের শিমরাইল, কাঁচপুর এবং মুন্সীগঞ্জের ভবেরচর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এক ভয়াবহ চিত্র, যা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে যানবাহনের বেপরোয়া গতি। দূরপাল্লার বাসগুলো সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে তীব্র গতিতে ছুটছে, এমনকি তারা মাঝপথের লেন পরিবর্তন করে ছোট যানবাহনগুলোকে চাপা দিচ্ছে। মহাসড়কের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নেই কোনো কার্যকর ট্রাফিক সিগন্যাল বা পর্যাপ্ত ফুটওভারব্রিজ। ফলে সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হতে হয়। কাঁচপুর এলাকায় কথা হয় স্থানীয় এক বাসিন্দা রফিক মিয়ার সাথে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এখানে ওভারব্রিজ থাকলেও তা ব্যবহার করা কষ্টকর। তাছাড়া দ্রুতগামী ট্রাকগুলো এমনভাবে চলে যে, মনে হয় আমাদের জীবনের কোনো মূল্য নেই।"
মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ইউটার্ন তৈরি করা হয়েছে, যা দুর্ঘটনার বড় কারণ। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও কিছু অসাধু পরিবহন মালিকের যোগসাজশে এসব অবৈধ ইউটার্ন তৈরি করে মহাসড়কের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা হচ্ছে। এছাড়া রাতের বেলায় দূরপাল্লার অনেক বাসের চালকের হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানোর অভিযোগ রয়েছে, যাদের গাড়ি চালানোর প্রয়োজনীয় দক্ষতা বা লাইসেন্স নেই। কুয়াশা বা বৃষ্টির সময় এসব অদক্ষ চালকের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।
সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বীকার করেছেন যে, চালকদের প্রশিক্ষণের অভাব এবং দূরপাল্লার গাড়ির অতিরিক্ত গতিই প্রধান সমস্যা। তিনি বলেন, "আমরা মালিকদের পক্ষ থেকে চালকদের নির্দেশনা দিলেও তারা তা মানতে নারাজ। তবে এটাও সত্য যে, মহাসড়কের ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি গাড়ি চলাচল করছে এবং অনেক জায়গায় রাস্তা ভাঙাচোরা।"
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সম্প্রতি হাইওয়ে পুলিশ নজরদারি বাড়িয়েছে বলে দাবি করেছে। তবে বাস্তবে তার কোনো সুফল এখনো দৃশ্যমান নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু পুলিশ দিয়ে হবে না, মহাসড়কের অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে। প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে গতির ওপর নজরদারি করতে হবে এবং অবৈধ ইউটার্নগুলো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি সাধারণ মানুষের জন্য এক স্থায়ী মরণফাঁদ হিসেবেই থেকে যাবে।
২. খাদ্যদ্রব্যের ঊর্ধ্বমূল্য সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।
নিত্যপণ্যের দামের পাগলা ঘোড়া: সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস, বাজারে হাহাকার
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ২০ আগস্ট ২০২৫।।
রাজধানীর বাজারগুলোতে যেন আগুন লেগেছে। চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, সবজি থেকে শুরু করে মাছ-মাংস—সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি পণ্যের দাম কেজিতে ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। আয়ের সাথে ব্যয়ের সামঞ্জস্য করতে না পেরে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। আজ সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মহাখালী ও নিউমার্কেট কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
কারওয়ান বাজারে সবজি কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আমিনুল ইসলাম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "বাজারে কোনো পণ্যের দামের ঠিক ঠিকানা নেই। গতকাল যে লাউ ৩০ টাকা কিনেছি, আজ তা ৫০ টাকা চাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকব।" চালের বাজারেও একই অস্থিরতা। মোটা চালের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৫২-৫৫ টাকা এবং চিকন চালের দাম ৭০ টাকার ওপরে উঠেছে। খোলা সয়াবিন তেল ও চিনির দামও সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা দায় চাপাচ্ছেন সরবরাহ ঘাটতি ও পরিবহন খরচের ওপর। খুচরা বিক্রেতা রহমত আলী বলেন, "পাইকারি বাজারে মালের দাম বেশি, আমাদের বেশি দামে কিনতে হয়। তাছাড়া এখন বর্ষাকাল, কাঁচামাল আড়তে আসার সময় নষ্ট হয়ে যায়, তাই দাম কিছুটা বেশি নিতে হয়।" তবে টিসিবির (ট্রেডিং কর্পোরেশন অফ বাংলাদেশ) ট্রাক সেলের সামনে লম্বা লাইন প্রমাণ করে যে, বাজার পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। টিসিবির মাধ্যমে কম দামে পণ্য বিক্রি করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিন্ডিকেটবাজি ও মজুতদারি খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার মূল কারণ। অর্থনীতিবিদ ড. মেহজাবিন হক বলেন, "বাজারে সুষ্ঠু নজরদারির অভাব রয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেয়। সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে কেউ বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।" এছাড়াও আমদানিনির্ভর পণ্যের ক্ষেত্রে বিকল্প উৎস খুঁজে বের করতে হবে এবং স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নিয়মিত তদারকি দল মাঠে নামিয়েছে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান মাঝে মাঝে দেখা গেলেও তা দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান আনতে পারছে না। যদি জরুরি ভিত্তিতে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠবে।
৩. খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ২৫ আগস্ট ২০২৫।।
খাদ্যে ভেজাল দেওয়া যেন একটি জাতীয় মহামারীতে রূপ নিয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশের হোটেল-রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকান, ফলের আড়ত এমনকি নিত্যপণ্যের বাজারেও মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর রং। মানবদেহের জন্য চরম ক্ষতিকর এসব খাবার খেয়ে সাধারণ মানুষ কিডনি, লিভার ও ক্যানসারের মতো মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। যদিও প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে, কিন্তু ভেজালকারীদের দৌরাত্ম্য কোনোভাবেই কমানো যাচ্ছে না।
সরেজমিনে পুরান ঢাকার বিভিন্ন খাবার তৈরির কারখানা ও ফলের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, কীভাবে জনস্বাস্থ্যের সাথে খোলাখুলি খেলা চলছে। ইফতারির মৌসুমে তেল পুনরুৎপাদন ও ব্যবহার, মিষ্টিতে নিষিদ্ধ টেক্সটাইল রং মেশানো এবং ফলে ফরমালিন ও কার্বাইড ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এমনকি সাধারণ খাবার যেমন হলুদ, মরিচের গুঁড়া ও ধনিয়াতেও কাঠের গুঁড়া, ইটের গুঁড়া ও ভেজাল উপাদান মেশানো নিত্যদিনের ঘটনা।
হোটেল মালিকরা খরচ কমানোর জন্য নিম্নমানের চাল ও পচা মাংস ব্যবহার করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হোটেল কর্মচারী জানান, "মালিক যদি কম খরচে ভালো খাবার তৈরির নির্দেশ না দেয়, তাহলে আমার করার কী আছে? সব দোকানেই তো ভেজাল চলে।" বিএসটিআইয়ের তথ্যমতে, তারা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে এবং ভেজাল পণ্য জব্দ করার পাশাপাশি জরিমানা করছে। তবে অভিযানের পরপরই ভেজালকারীরা আবার তাদের ব্যবসা শুরু করে দেয়।
ভেজাল প্রতিরোধের জন্য গঠিত বিশেষ আদালতের কার্যক্রম খুবই ধীরগতির। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এনামুল হক বলেন, "আমরা জরিমানাসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি, তবে জনবল সংকটের কারণে সব জায়গায় নজরদারি রাখা সম্ভব হয় না। আমরা সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে আহ্বান জানাচ্ছি। ভেজাল পণ্য দেখলে যেন তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের জানায়।"
চিকিৎসকরা বলছেন, ভেজাল খাবার শুধু তাৎক্ষণিক পেট খারাপ বা ডায়রিয়া করে না, দীর্ঘমেয়াদে এটি মানুষের শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বাচ্চাদের জন্য তৈরি চিপস ও জুসে কৃত্রিম রং ও ফ্লেভার ব্যবহারের ফলে তাদের বুদ্ধিমত্তা ও স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভেজাল প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। শুধু মোবাইল কোর্ট দিয়ে ভেজাল নির্মূল করা সম্ভব নয়, প্রয়োজন অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
৪. দুনীর্তি প্রতিরোধ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।
দুনীর্তির বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলতে চাই সম্মিলিত প্রতিরোধ: সরকারি দপ্তরে সুশাসন নিশ্চিতের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫।।
বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে দাঁড়িয়েছে দুনীর্তি। ঘুষ, স্বজনপ্রীতি, টেন্ডারবাজি ও অর্থপাচার এখন রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। বিশেষ করে ভূমি অফিস, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ এবং সরকারি হাসপাতালসহ বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে সেবা পেতে গেলে সাধারণ মানুষকে চরম হয়রানি ও দুনীর্তির শিকার হতে হয়। দুনীর্তি দমনের জন্য আইনি কাঠামো থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দুনীর্তি প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ ড. সমীর চৌধুরী। তিনি বলেন, "দুনীর্তি এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ধারণ করেছে। যতক্ষণ না পর্যন্ত রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত দুনীর্তি নির্মূল করা সম্ভব হবে না। দুনীর্তি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই করে না, এটি সামাজিক ন্যায়বিচারও প্রতিষ্ঠা হতে দেয় না।"
দুনীর্তির কারণে সাধারণ মানুষ তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পদ্মা সেতু বা মেট্রোরেলের মতো বড় মেগা প্রকল্পে দুনীর্তির অভিযোগ ওঠায় প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যায় এবং গুণগতমান প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সম্প্রতি একটি সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। দুনীর্তি দমন কমিশন (দুদক) কিছু অভিযান পরিচালনা করলেও অধিকাংশক্ষেত্রে চুনোপুঁটিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, রাঘববোয়ালরা অধিকাংশ সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।
দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, "আমরা চেষ্টা করছি সব ধরনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে। তবে জনবল সংকট ও আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে অনেক সময় তদন্তে দেরি হয়।" দুনীর্তি প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ বাধ্যতামূলক করতে হবে। পাশাপাশি তথ্য অধিকার আইনের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। দুনীর্তি প্রতিরোধে কোনো রকম আপস করা চলবে না।"
সরকার 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করলেও দুনীর্তি কমছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজিটালাইজেশন বাড়ালে দুনীর্তির সুযোগ কমে আসবে। জনগণের সচেতনতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি তৈরি করতে পারলে দুনীর্তি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
৫. মাদকাসক্তি যুব সমাজের অবক্ষয়ের অন্যতম প্রধান কারণ এ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।
মাদকের ভয়াল থাবায় ধ্বংসের পথে যুব সমাজ: পরিবার ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫।।
দেশের অপার সম্ভাবনাময় যুব সমাজ আজ মাদকের ভয়াল থাবায় ধ্বংসের মুখোমুখি। ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাঁজা, হেরোইনসহ নানারকম নেশাদ্রব্য ছড়িয়ে পড়েছে পাড়া-মহল্লায়। মাদকাসক্তির কারণে যেমন মেধাবী ছাত্রদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে, তেমনি পারিবারিক শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে এবং সমাজে চুরি, ছিনতাই ও খুনোখুনির মতো অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। মাদকাসক্তি যুবসমাজের অবক্ষয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত জরিপ ও চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মাদকসেবীদের বয়সসীমা দিন দিন কমে আসছে। এমনকি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। বন্ধুরা মিলে আড্ডা দেওয়ার সময় কৌতূহলবশত অনেকে প্রথম মাদক গ্রহণ করে, পরে তা আসক্তিতে পরিণত হয়। পারিবারিক অসচ্ছলতা, বাবা-মায়ের মধ্যে বিবাদ, বেকারত্ব এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা যুব সমাজকে মাদকের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মাদকাসক্ত এক যুবকের মা আফরোজা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, "আমার ছেলেটা এমএ পাস করার পর চাকরি না পেয়ে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। এখন সে নিজের পরিবারকে শেষ করছে, আমার গয়না-গাটি বিক্রি করে মাদক কিনেছে। আমরা এখন পুরোপুরি সহায়-সম্বলহীন।" মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়ছে, কিন্তু সেখানেও চিকিৎসার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, তারা নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে এবং মাদকের বড় বড় চালান জব্দ করছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, "মাদকের বিস্তার রোধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। তবে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি লড়াই। আমরা সমাজের সকল স্তরের মানুষকে মাদকবিরোধী অভিযানে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।"
চিকিৎসাবিজ্ঞানী ড. হাসিবুর রহমান বলেন, "মাদকাসক্তি শুধু অপরাধ নয়, এটি একটি মস্তিষ্কের রোগ। শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসন প্রয়োজন। যদি যুব সমাজকে রক্ষা করতে না পারি, তবে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার।" সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিদরা মনে করছেন, শুধু পুলিশি অভিযান দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। পরিবারকে সন্তানদের ওপর কৌতূহল রাখতে হবে এবং তাদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়মিত পরিচালনা করতে হবে।
৬. বন্যায়/ ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ জনগণের বিবরণ দিয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।
বানের জলে ভেসে গেছে সর্বস্ব: পানিবন্দী মানুষের হাহাকার, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা/বন্যাদুর্গত এলাকা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫।।
গত কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজানের ঢলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের বিশাল এলাকা ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। সিলেট, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী, ফেনী ও কুমিল্লায় আকস্মিক বন্যায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বানের পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলের জমি, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
সরজমিনে সুনামগঞ্জ ও নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মানুষ ঘরের চাল বা বাঁশের মাচায় আশ্রয় নিয়েছে। খাবার নেই, চুলা জ্বালাতে পারছে না তারা। অধিকাংশ গভীর নলকূপ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির চরম অভাব দেখা দিয়েছে। খাবার পানির অভাবে অনেকে পুকুর বা বন্যার দূষিত পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছেন, যার ফলে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা, খাদ্যের অভাবে অনেক গরু-ছাগল ভেসে গেছে।
নোয়াখালীর এক বন্যাদুর্গত বাসিন্দা করিম মিয়া বলেন, "গত দুদিন ধরে ঘরে একমুঠো চাল নেই। বন্যার পানি সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। আমরা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারছি না, কারণ চারদিকে থৈ থৈ পানি। কেউ আমাদের সাহায্য করতে আসছে না।" যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেক দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারছে না। ত্রাণ পৌঁছালেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন এবং দুর্গতদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছেন। তবে বন্যার তীব্রতা এত বেশি যে, তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীকে উদ্ধার কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটর করছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের আকস্মিক বন্যা বেড়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুর্বলতা ও নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ার কারণে বন্যার পানি দ্রুত নামতে পারছে না। বন্যায় মানুষের জীবন ও জীবিকা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। বন্যা পরবর্তী সময়ে পুনর্বাসন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এখনই প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারিভাবে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
No comments
Thank you, best of luck