বোশেখ (আল মাহমুদ) কবিতা : বাংলা ১ম পত্র - এসএসসি NCTB BOOK
যে বাতাসে বুনোহাঁসের ঝাঁক ভেঙে যায়
জেটের পাখা দুমড়ে শেষে আছাড় মারে
নদীর পানি শূন্যে তুলে দেয় ছড়িয়ে
নুইয়ে দেয় টেলিগ্রাফের থামগুলোকে।
সেই পবনের কাছে আমার এই মিনতি
তিষ্ঠ হাওয়া, তিষ্ঠ মহাপ্রতাপশালী,
গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে কী লাভ?
কী সুখ বলো গুঁড়িয়ে দিয়ে চাষির ভিটে?
বেগুন পাতার বাসা ছিঁড়ে টুনটুনিদের
উল্টে ফেলে দুঃখী মায়ের ভাতের হাঁড়ি
হে দেবতা, বলো তোমার কী আনন্দ,
কী মজা পাও বাবুই পাখির ঘর উড়িয়ে?
রামায়ণে পড়েছি যার কীর্তিগাথা
সেই মহাবীর হনুমানের পিতা তুমি ?
কালিদাসের মেঘদূতে যার কথা আছে
তুমিই নাকি সেই দয়ালু মেঘের সাথী ?
তবে এমন নিঠুর কেন হলে বাতাস
উড়িয়ে নিলে গরিব চাষির ঘরের খুঁটি
কিন্তু যারা লোক ঠকিয়ে প্রাসাদ গড়ে
তাদের কোনো ইট খসাতে পারলে নাতো।
হায়রে কতো সুবিচারের গল্প শুনি,
তুমিই নাকি বাহন রাজা সোলেমানের
যার তলোয়ার অত্যাচারীর কাটতো মাথা
অহমিকার অট্টালিকা গুঁড়িয়ে দিতো।
কবিদের এক মহান রাজা রবীন্দ্রনাথ
তোমার কাছে দাঁড়িয়েছিলেন করজোড়ে
যা পুরানো শুষ্ক মরা, অদরকারি
কালবোশেখের একটি ফুঁয়ে উড়িয়ে দিতে।
ধ্বংস যদি করবে তবে, শোনো তুফান
ধ্বংস করো বিভেদকারী পরগাছাদের
পরের শ্রমে গড়ছে যারা মস্ত দালান
বাড়তি তাদের বাহাদুরি গুঁড়িয়ে ফেলো।
1. বন্যার্ত মানুষের জন্য ত্রাণের আয়োজন করা হয়। ত্রাণকমিটি খুবই কঠোরভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখে। হতদরিদ্র রাসুর পরিবারে লোকসংখ্যা বেশি থাকায় দুইবার ত্রাণ নিতে এলে অনিয়মের দায়ে তার কার্ড বাতিল করা হয়। বরাদ্দের চেয়ে কম চাল দেয়ার প্রতিবাদ করলে রহম আলীকে বেদম প্রহার করে রিলিফ ক্যাম্প থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমন সময় যতীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ও শমসের আলী চৌধুরী এলে তাদের প্রত্যেককে এক মণ চাল, আধা মণ ডালসহ অন্য ত্রাণসামগ্রী নৌকায় পৌঁছে দিয়ে আসেন ত্রাণকমিটির প্রধান কর্তাব্যক্তি।
(ক) 'তিষ্ঠ' কথার অর্থ কী?
'তিষ্ঠ' কথার অর্থ স্থির হও।
(খ) পবনের কাছে কবি মিনতি করেছেন কেন?
কবি পবনের কাছে মিনতি করেছেন যেন গরিব-দুঃখীদের দুর্দশার মাত্রা আর না বাড়ে।
কবি পবন অর্থাৎ বাতাসের কাছে মিনতি করেছেন স্থির হওয়ার জন্য। কারণ বৈশাখের মহাপ্রতাপশালী বাতাসে গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে যায়। এতে তার জীবিকা অর্জনও থমকে যায়। চাষির নড়বড়ে ঘরটি বৈশাখের ঝড়ের প্রতাপে গুঁড়িয়ে গেলে সে নিরাশ্রয় হয়ে পড়ে। এসব কারণে কবি গরিব-দুঃখীদের প্রতি সহমর্মী হয়ে পবনের কাছে স্থির হওয়ার জন্য মিনতি করেছেন।
(গ) উদ্দীপকে বর্ণিত দরিদ্র শ্রেণির সাথে রিলিফ কমিটির আচরণের মাধ্যমে ফুটে ওঠা দিকটি 'বোশেখ' কবিতার আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকে বর্ণিত দরিদ্র শ্রেণির সঙ্গে রিলিফ কমিটির আচরণের মধ্যে 'বোশেখ' কবিতায় প্রকাশিত শ্রমজীবী মানুষের অসহায়ত্ব এবং তাদের ওপর শোষকদের নিষ্পেষণের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
'আমাদের এ সমাজব্যবস্থা এমন এক ধারার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে যেখানে দরিদ্ররা সব জায়গায়ই বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের ওপর নিষ্পেষণ ও বঞ্চনার স্টিম রোলার চালানো হচ্ছে। মানুষ কিংবা প্রকৃতি- সবকিছুই তাদের বিরুদ্ধে। সমাজের ধনীরা গরিবের শ্রমে অর্জিত সম্পদ ভোগ করছে, তাদেরকে ন্যায্য পাওনা থেকেও বঞ্চিত করছে।
উদ্দীপকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের বঞ্চনার শিকার হওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি বন্যার্তদের ওপর রিলিফ কমিটির আচরণের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। তাদের বরাদ্দের চেয়ে কম ত্রাণ দেওয়ার প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর চালানো হয় নির্যাতন। অথচ ধনীদের বরাদ্দের অতিরিক্ত ত্রাণ পৌছে দেওয়া হয়। এ বিষয়টি 'বোশেখ' কবিতায়ও প্রতিফলিত হয়েছে। কালবৈশাখি ঝড় বয়ে গেলে দরিদ্র মানুষের বেশি ক্ষতি হয়। তাদের বহু কষ্টের ফসল, আশ্রয় ধ্বংস হয়। অথচ ধনীদের প্রাসাদ ঠিকই অক্ষত থাকে। উদ্দীপকের বিষয়টি কবিতার এই ভাবকেই প্রতিকায়িত করেছে।
(ঘ) "উদ্দীপকটি 'বোশেখ' কবিতার একটা খণ্ডচিত্র মাত্র, পূর্ণরূপ নয়"- যুক্তিসহ বুঝিয়ে লেখ।
"উদ্দীপকটি 'বোশেখ' কবিতার একটা খন্ডচিত্র মাত্র, পূর্ণরূপ নয়"- মন্তব্যটি যথার্থ।
বর্তমান সমাজব্যবস্থায় ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য চরম পর্যায়ে পৌছেছে। জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে দরিদ্র ও শ্রমজীবীরা শোষণের শিকার হচ্ছে। শোষকরা ছলে, বলে, কৌশলে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখছে। সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সবখানেই দরিদ্র মানুষের জীবনের ওপর বিরূপ প্রভাব বিস্তার করছে।
উদ্দীপকে দরিদ্র মানুষের অসহায়ত্ব ও শোষণের চিত্র উঠে এসেছে। বন্যার কারণে বাস্তুহারা অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ সমাজের প্রভাবশালীরা আত্মসাৎ করে গরিবদের বঞ্চিত করে ধনীদের কাছে পৌছে দেয়। দরিদ্র মানুষের এই দুর্দশা ও অসহায়ত্বের চিত্র 'বোশেখ' কবিতায়ও প্রকাশ পেয়েছে। তবে এ ভাবই কবিতার একমাত্র দিক নয়। এ দিকটি ছাড়াও কবিতায় নানাবিধ বিষয় ও ভাবের প্রকাশ ঘটেছে।
'বোশেখ' কবিতায় কবি বৈশাখের বিধ্বংসী ঝড়কে মহাপ্রতাপশালী আখ্যা দিয়ে তাকে দরিদ্র মানুষের সর্বনাশ করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। তিনি হিংস্র থাবায় গরিবের বাসস্থান, দরিদ্র মাঝির পালের দড়ি, অসহায় পাখিদের বাসা ধ্বংস না করতে বলেছেন। যারা শ্রমজীবীদের শোষণ করে অট্টালিকা গড়ে তুলেছে সেই অট্টালিকা যেন কালবৈশাখি ঝড়ে গুঁড়িয়ে যায়। মূলত এ কবিতায় কবি বৈশাখের বিধ্বংসী প্রতীকের মধ্য দিয়ে অত্যাচারীর অবসান কামনা করেছেন। কবিতার এসব বিষয় ও ভাব উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, মন্তব্যটি যথার্থ।
২. বেতন দিয়াছ?- চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল।
কত পাই দিয়ে কুলিদের তুই কত ক্রোর পেলি বল্।...
বল তো এসব কাহাদের দান। তোমার অট্টালিকা
কার খুনে রাঙা?- ঠুলি খুলে দেখ, প্রতি ইটে আছে লিখা।
তুমি জান নাকো, কিন্তু পথের প্রতি ধূলিকণা জানে
ঐ পথ, ঐ জাহাজ, শকট, অট্টালিকার মানে।
(ক) যারা লোক ঠকিয়ে প্রাসাদ গড়ে বাতাস তাদের কী করতে পারে না?
যারা লোক ঠকিয়ে প্রাসাদ গড়ে বাতাস তাদের প্রাসাদের ইট খসাতে পারে না।
(খ) 'বোশেখ' কবিতায় বৈশাখী বাতাস কেমন?- ব্যাখ্যা কর। ২
'বোশেখ' কবিতায় বৈশাখী বাতাস মহাপ্রতাপশালী।
'বোশেখ' কবিতায় কবি বলেছেন, বৈশাখী বাতাসে বুনোহাঁসের ঝাঁক ভেঙে যায়। এছাড়া কালবৈশাখি বাতাস গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে ফেলে। চাষির ভিটে গুঁড়িয়ে দেয়। টুনটুনিদের বেগুন পাতার বাসা ছিঁড়ে ফেলে। দুঃখী মায়ের ভাতের হাঁড়ি উলটে ফেলে দেয়। বাবুই পাখির ঘর উড়িয়ে নিয়ে যায়। গরিব চাষির ঘর উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাও রাখে বৈশাখী বাতাস। মূলত 'বোশেখ' কবিতায় কবি বৈশাখী বাতাসের ধ্বংসাত্মক রূপ তুলে ধরেছেন।
(গ) উদ্দীপকের কবির সঙ্গে 'বোশেখ' কবিতার কবির সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা কর। ৩
উদ্দীপকের কবির সঙ্গে 'বোশেখ' কবিতার কবির সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো শ্রমজীবীদের শোষণ করার বিষয়টি তুলে ধরা।
সমাজে অধিকাংশ সময় দেখা যায় ধনিক শ্রেণি দ্বারা শ্রমজীবী মানুষ শোষিত হয়। সমাজে যারা বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণ করে তার পেছনে রয়েছে শ্রমজীবীদের বিন্দু বিন্দু ঘাম। অথচ সমাজে এই শ্রেণিই সবচেয়ে অবহেলিত।
উদ্দীপকের গরিবের প্রতি ধনীর অত্যাচারের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। শ্রমিকের উপযুক্ত পারিশ্রমিক না দিয়ে তাদের শ্রম শোষণ করছে ধনীরা। তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে। ধনীর অট্টালিকা তৈরির পেছনে শ্রমিকের অবদান সবচেয়ে বেশি অথচ ধনীরা তাদের ন্যায্য পরিশ্রমিক প্রদান করে না। 'বোশেখ' কবিতায় কবি এই ধনীদের কথাই বলেছেন যারা শ্রমিকের শ্রম শোষণ করে, ঠকিয়ে প্রাসাদ তৈরি করে। অন্যের শ্রম শোষণ করে যারা মস্ত দালান তৈরি করে তাদের প্রতি তিনি ধিক্কার জানিয়েছেন। এভাবে শ্রমজীবী মানুষদের শোষণকারীদের প্রতি ধিক্কার জানানোর দিক থেকে উদ্দীপকের কবি ও 'বোশেখ' কবিতার কবির সাদৃশ্য রয়েছে।
(ঘ) "উদ্দীপকের কবি এবং 'বোশেখ' কবিতার কবি দুজনের মানসপট একই ধারায় প্রবাহিত।"- মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর। ৪
"উদ্দীপকের কবি এবং 'বোশেখ' কবিতার কবি দুজনের মানসপট একই ধারায় প্রবাহিত।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
শ্রমজীবী মানুষেরা বরাবরই অবহেলিত। সমাজের ধনিক শ্রেণির সম্পদের পাহাড়ের নেপথ্যে থাকে শ্রমজীবী মানুষের বিন্দু বিন্দু ঘাম। অথচ সমাজের চালিকাশক্তি শ্রমজীবী এসব মানুষদের তেমন মূল্য দেওয়া হয় না। তারা সব সময়ই শোষণের শিকার হয়।
উদ্দীপকে কবি শ্রম শোষণকারী ধনীদের ধিক্কার জানিয়েছেন। কুলিদের কত টাকা দিয়ে তার বিনিময়ে কত সে আদায় করেছে তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন করেছেন। ধনীদের অট্টালিকা তৈরির পেছনে শ্রমিকের দান রয়েছে। 'বোশেখ' কবিতায় কবি প্রশ্ন রেখেছেন, যারা লোক ঠকিয়ে প্রাসাদ গড়ে, বাতাস কেন তাদের ইট খসাতে পারে না। যারা মানুষের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে তাদেরকে কবি এখানে পরগাছা বলে চিহ্নিত করেছেন। শ্রমিকের শ্রম শোষণ করে যারা দালান করে বাহাদুরি করে কবি তাদের বাড়তি অহংকার ভেঙে ফেলতে বৈশাখের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।
উদ্দীপকে যারা শ্রমিকের শ্রম শোষণ করে কবি তাদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। এই অট্টালিকা নিয়ে যে তাদের এত গর্ব এর পেছনে রয়েছে শ্রমিকেরই অবদান- কবি সেটা খতিয়ে দেখতে বলেছেন। আর 'বোশেখ' কবিতায় শোষণকারী ধনীদের কবি ধ্বংস কামনা করেছেন। অর্থাৎ উদ্দীপকের কবি ও 'বোশেখ' কবিতার কবি উভয়ই শোষকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
(3) ভাঙা কুঁড়েঘরে থাকি
পাশে এক বিরাট প্রাসাদ
প্রতিদিন চোখে পড়ে;
সে প্রাসাদ কী দুঃসহ স্পর্ধায় প্রত্যহ
আকাশকে বন্ধুত্ব জানায়
আমি তাই চেয়ে চেয়ে দেখি।
(ক) বাতাস উড়িয়ে নিয়েছে কী? ১
বাতাস উড়িয়ে নিয়েছে বাবুই পাখির ঘর।
(খ) কবি কাকে হনুমানের পিতা কি না বলে প্রশ্ন করেছেন? ব্যাখ্যা কর। ২
কবি বৈশাখী বাতাসকে হনুমানের পিতা কি না বলে প্রশ্ন করেছেন।
হনুমানের পিতা পবন হলেন বায়ুর দেবতা। যেকোনো ধরনের সমস্যা হলে তিনি দ্রুতবেগে সব ধ্বংস করে দিতেন। কবিতায় বৈশাখী বাতাস তার প্রলয়ংকরী রূপ নিয়ে সবকিছু লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। তাই কাজের সাদৃশ্য বিবেচনা করে কবি বৈশাখী বাতাসকে প্রশ্ন করেছেন, এই বৈশাখী পবন হনুমানের পিতা কি না।
(গ) . উদ্দীপকের ধনী-দরিদ্রের পার্থক্য 'বোশেখ' কবিতায় কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে?- ব্যাখ্যা কর। ৩.
উদ্দীপকের ধনী-দরিদ্রের পার্থক্য 'বোশেখ' কবিতায়ও প্রতিফলিত হয়েছে।
সৃষ্টির শুরুতে মানুষ সবাই সমান ছিল। ধীরে ধীরে সভ্যতার অগ্রগতিতে মানুষ তাদের প্রয়োজনে নানা নিয়ম-কানুন তৈরি করে। আর এর মধ্য থেকেই ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান শুরু হয়।
উদ্দীপকের কবিতায় একটি ভাঙা কুঁড়েঘর আর পাশে বিরাট প্রাসাদের কথা বলা হয়েছে। ভাঙা কুঁড়েঘরটি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের আবাসস্থল, যারা প্রতিনিয়ত বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। আর বিরাট প্রাসাদ হচ্ছে ধর্নীর আবাসস্থল, যা শ্রমিকের শ্রম শোষণ করে তৈরি হয়েছে। এই প্রাসাদ দুঃসহ স্পর্ধায় প্রতিদিন আকাশকে বন্ধুত্ব জানায়। 'বোশেখ' কবিতায় কবি ধনী-দরিদ্র্যের পার্থক্য দেখিয়েছেন বৈশাখী বাতাস দিয়ে। বৈশাখী ঝড়ো বাতাস যেখানে গরিবের সর্বস্ব লন্ডভন্ড করে দেয় সেখানে ধনীর দালানের একটি ইটও খসাতে পারে না। এসব দালান গড়ে উঠেছে শ্রমজীবী সাধারণ মানুষকে শোষণ করে। এভাবে উদ্দীপকের মতো ধনী-দরিদ্রের পার্থক্য 'বোশেখ' কবিতায়ও প্রতিফলিত হয়েছে।
(ঘ) "আংশিক মিল থাকলেও উদ্দীপক ও 'বোশেখ' কবিতার প্রেক্ষাপট ভিন্ন।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর। ৪
"আংশিক মিল থাকলেও উদ্দীপক ও 'বোশেখ' কবিতার প্রেক্ষাপট ভিন্ন।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
পৃথিবীতে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট আকার ধারণ করেছে। ধনীরা তাদের ধন বৃদ্ধির আশায় প্রতিনিয়ত শ্রমিকের শ্রম শোষণ করছে। এতে করে ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে আর দরিদ্ররা দুঃখের মধ্যে পতিত হচ্ছে।
উদ্দীপকে ভাঙা কুঁড়েঘর আর বিরাট প্রাসাদের প্রসঙ্গ উপস্থাপিত হয়েছে। ভাঙা কুঁড়েঘর গরিব অসহায় মানুষের আবাসস্থল, আবার বিরাট প্রাসাদ ধনীদের আবাসস্থল। এখানেই ধনী-দরিদ্রের পার্থক্য রয়েছে। একদিকে কুঁড়েঘর, অন্যদিকে বিরাট প্রাসাদ। 'বোশেখ' কবিতায় বৈশাখী ঝড়ের মধ্য দিয়ে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান দেখানো হয়েছে। বৈশাখী ঝড় গরিবের সবকিছু নিঃশেষ করে দেয়, কিন্তু ধনীদের দালানের একটা ইটও খুলতে পারে না।
'বোশেখ' কবিতায় ধনী-দরিদ্রের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা হয়েছে ঠিকই তবে এ কবিতার বিষয়বস্তু আরও বিস্তৃত। 'বোশেখ' কবিতায় কবি ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূরীকরণের প্রয়াস পেয়েছেন। তিনি বৈশাখের বিধ্বংসী প্রতীকের মধ্য দিয়ে অত্যাচারীর অবসান কামনা করেছেন। অথচ উদ্দীপকে এমন কোনো ইঙ্গিত নেই। কেবল ধনী-দরিদ্রের পার্থক্যের বিষয়টি আছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
No comments
Thank you, best of luck