header ads

১০০ টাকার বন্ডে ৬ লাখ জয়ের স্বপ্ন, প্রাইজ বন্ডের ড্র মেলানোর সবচেয়ে সহজ উপায় ও প্রাইজবন্ডের লটারির টাকা তোলার উপায়


এক সময় আমাদের দেশে বিয়ের উপহার কিংবা জন্মদিনের গিফট হিসেবে প্রাইজ বন্ড দেওয়ার বেশ সুন্দর একটি প্রচলন ছিল। বড়দের আশীর্বাদ হিসেবে পাওয়া সেই ১০০ টাকার প্রাইজ বন্ডগুলো হয়তো আজও অনেকের ড্রয়ারে বা পুরনো ফাইলের ভাঁজে অবহেলায় পড়ে আছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই সাধারণ কাগজটিই আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে? প্রাইজ বন্ডের প্রতিটি ড্র-তে প্রথম পুরস্কার হিসেবে জেতার সুযোগ রয়েছে নগদ ৬ লাখ টাকা।

অনেকেই ড্র মেলানোর ঝামেলার ভয়ে নতুন করে বন্ড কিনতে চান না। অথচ আপনি চাইলে এখনও যেকোনো ব্যাংক থেকে এই বন্ড সংগ্রহ করে আপনার নিরাপদ বিনিয়োগ শুরু করতে পারেন। প্রযুক্তির কল্যাণে এখন ড্র মেলানো হয়ে গেছে পানিভাতের মতো সহজ। একজন ফিন্যান্সিয়াল কনসালট্যান্ট হিসেবে আমি আজ আপনাদের দেখাব কীভাবে কোনো ঝামেলা ছাড়াই আপনার ভাগ্য পরীক্ষা করবেন।

১০০ টাকায় ৬ লাখ: প্রাইজ বন্ডের আকর্ষণীয় পুরস্কার কাঠামো

প্রাইজ বন্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর প্রতিটি সিরিজ থেকে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। সহজ কথায়, যদি 'ক' সিরিজের ০১২৩৪৫৬ নম্বরটি প্রথম পুরস্কার জেতে, তবে আপনার কাছে যদি 'খ' বা 'গ' সিরিজের একই নম্বর থাকে, তবে আপনিও সমানভাবে বিজয়ী হবেন। প্রতি তিন মাস অন্তর (৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই এবং ৩১ অক্টোবর) এই ড্র অনুষ্ঠিত হয়। প্রাইজ বন্ডের পুরস্কারের বিন্যাসটি নিচে দেওয়া হলো:১ম পুরস্কার: ৬,০০,০০০ (ছয় লাখ) টাকা (প্রতিটি সিরিজ থেকে একজন)।
২য় পুরস্কার: ৩,২৫,০০০ (তিন লাখ পঁচিশ হাজার) টাকা।
৩য় পুরস্কার: ১,০০,০০০ (এক লাখ) টাকা।
৪র্থ পুরস্কার: ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা।
৫ম পুরস্কার: ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা।

"এই প্রাইজ বন্ডের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি লটারি অনুষ্ঠিত হয় যেই লটারিতে আপনার কাছে থাকা ১০০ টাকার বন্ডের বিনিময়ে আপনি পেয়ে যেতে পারেন ৬ লাখ টাকা।" — বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট তথ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ম্যাজিক সার্চ: টাইপিংয়ের ঝামেলা ছাড়াই ফলাফল

আপনার কাছে থাকা বন্ডের নম্বরগুলো ড্র-এর ফলের সাথে মিলছে কিনা তা যাচাই করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (bb.org.bd)।পদ্ধতি: ওয়েবসাইটের হোম পেজে 'প্রাইজ বন্ড' নামক একটি পৃথক সেকশন পাবেন। সেখানে সার্চ অপশনে গিয়ে আপনার বন্ডের নম্বরগুলো লিখুন।
বিশেষ টিপস: নম্বর বসানোর সময় নম্বরের পাশে থাকা 'বাংলা অক্ষর' (যেমন: কখ, গঘ) লেখার কোনো প্রয়োজন নেই, শুধু সংখ্যাগুলো লিখুন। একাধিক নম্বর থাকলে সেগুলোর মাঝে একটি করে 'কমা' (,) ব্যবহার করুন।
স্মার্ট সাজেশন: প্রতিবার নতুন করে নম্বর টাইপ করার ঝামেলা এড়াতে আপনার সব বন্ডের নম্বর একটি এমএস ওয়ার্ড (MS Word) ফাইলে আগে থেকেই লিখে রাখুন। ড্র হওয়ার পর শুধু সেখান থেকে কপি করে সার্চ বক্সে পেস্ট করে দিলেই কয়েক সেকেন্ডে ফলাফল চলে আসবে।

বাল্ক চেকিং: যখন আপনার কাছে অনেক বেশি বন্ড থাকে

যাঁরা প্রাইজ বন্ডে বড় অংকের বিনিয়োগ করেন, তাঁদের জন্য একেকটি নম্বর টাইপ করা বেশ কষ্টসাধ্য। এই সমস্যা সমাধানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট (nbs.gov.bd) একটি চমৎকার সুবিধা দেয়।

এখানে 'বাংলাদেশ প্রাইজ বন্ডের ড্র এর ফলাফল অনুসন্ধান সফটওয়্যার' ব্যবহার করে আপনি একসাথে অনেক বন্ড চেক করতে পারবেন। একটি এক্সেল শিটের (Excel Sheet) প্রথম কলামে আপনার সব বন্ডের নম্বর লিখে ফাইলটি সেভ করুন। এরপর ওয়েবসাইটের 'সংখ্যা আপলোড করুন' অপশনে গিয়ে ফাইলটি আপলোড দিলেই মুহূর্তের মধ্যে আপনার কাছে থাকা কোনো বন্ড পুরস্কার জিতেছে কিনা তা জানিয়ে দেবে।

এছাড়াও বর্তমানে স্মার্টফোনে একাধিক মোবাইল অ্যাপ পাওয়া যায়, যেগুলোর মাধ্যমে আপনি হাতের মুঠোয় প্রাইজ বন্ডের ফলাফল পেতে পারেন।

সময়জ্ঞান: ২ মাস অপেক্ষা এবং ২ বছরের ডেডলাইন

বিনিয়োগকারীদের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি:

১. ২ মাসের শর্ত: আপনি ব্যাংক থেকে বন্ড কেনার অন্তত ২ মাস পর সেটি ড্র-এর আওতায় আসবে। অর্থাৎ, ড্র হওয়ার ঠিক দু-একদিন আগে বন্ড কিনলে তা ওই ড্র-তে অন্তর্ভুক্ত হবে না। ২. ২ বছরের ডেডলাইন: কোনো ড্র-তে আপনার বন্ড পুরস্কার জিতলে, ড্র হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ২ বছরের মধ্যে আপনাকে পুরস্কারের টাকা দাবি করতে হবে। এই সময়ের পর দাবি করলে কোনো পুরস্কার পাওয়া যাবে না।

পুরস্কার পাওয়ার পর: দাবিনামা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র

যদি আপনার বন্ডটি পুরস্কার জিতে যায়, তবে টাকা হাতে পাওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ সুশৃঙ্খল। নিচে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও নথিপত্রের তালিকা দেওয়া হলো:আবেদন ফর্ম: বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে 'ক্লেইম ফর্ম'টি বিনামূল্যে ডাউনলোড করে প্রিন্ট করতে পারেন অথবা সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে সংগ্রহ করতে পারেন।
সত্যায়ন: পূরণকৃত ফর্মটি একজন প্রথম শ্রেণীর সরকারি গেজেটেড কর্মকর্তাকে দিয়ে সত্যায়িত করিয়ে নিতে হবে।
কোথায় জমা দেবেন: সত্যায়িত ফর্ম ও বন্ডটি নিয়ে আপনি বাংলাদেশ ব্যাংকের যেকোনো আঞ্চলিক অফিস কিংবা আপনার নিকটস্থ পোস্ট অফিসে জমা দিতে পারেন।
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট: বিজয়ীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি, নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি এবং আপনার নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের একটি চেক পাতার ফটোকপি (টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে)।

একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পুরস্কারের মোট টাকা থেকে ২০% 'উৎস কর' (Tax at Source) কেটে রাখা হবে। যে বন্ডটি পুরস্কার জিতেছে, সেটি কর্তৃপক্ষ জমা রেখে দেবে। তবে দুশ্চিন্তার কিছু নেই, বন্ডের মূল দর (১০০ টাকা) পুরস্কারের টাকার সাথেই আপনাকে ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে। আবেদন জমা দেওয়ার ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে টাকা আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।

প্রাইজ বন্ড কেবল একটি বিনিয়োগ নয়, এটি একটি নিরাপদ স্বপ্ন। বাংলাদেশ ব্যাংক, সঞ্চয় অধিদপ্তর ও বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপের কারণে ড্র মেলানো এখন আর কোনো ভয়ের বিষয় নয়। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই আপনার ভাগ্য পরীক্ষা করতে পারেন।

আপনার ড্রয়ারে থাকা পুরনো বন্ডটি আজই চেক করেছেন তো? হয়তো ৬ লাখ টাকার বিজয়ী নম্বরটি আপনার হাতের মুঠোতেই আছে!


No comments

Thank you, best of luck

Theme images by sbayram. Powered by Blogger.