header ads

সংবাদ পত্রে প্রকাশিতব্য পত্র।। জলাশয় ভরাটরোধে যথাযথ কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংবাদ পত্রে প্রকাশ যোগ্য একটি পত্র লেখো। বাংলা দ্বিতীয় পত্র।। নবম-দশম।। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।।

বাংলা দ্বিতীয় পত্র।। নবম-দশম।। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।। 
সংবাদ পত্রে প্রকাশিতব্য পত্র।।

জলাশয় ভরাটরোধে যথাযথ কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংবাদ পত্রে প্রকাশ যোগ্য একটি পত্র লেখো।

৭ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ

সম্পাদক
দৈনিক প্রথম আলো
সিএ ভবন
১০০ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ
কারওয়ান বাজার, ঢাকা -১২১৫।


বিষয়: সংযুক্ত পত্রটি প্রকাশের জন্য আবেদন।


মহোদয়,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমাদের এলাকায় এবং শহরের আশপাশে আশঙ্কাজনক হারে জলাশয় ভরাটের মহোৎসব চলছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অপরিহার্য এই জলাধারগুলো হারিয়ে যাওয়ায় জনজীবন আজ চরম হুমকির মুখে। এই গুরুতর সমস্যার ভয়াবহতা তুলে ধরে এবং প্রতিকারের আশায় রচিত একটি পত্র আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকার Ôচিঠিপত্র বিভাগে প্রকাশের জন্য প্রেরণ করলাম|

অতএব, বিনীত নিবেদন এই যে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ও পরিবেশ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পত্রটি আপনার পত্রিকায় প্রকাশ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে বাধিত করবেন।


বিনীত নিবেদন
আরিফুল ইসলাম
মিরপুর, ঢাকা।



ইট-পাথরের জঞ্জালে রুদ্ধ জলাশয়: আসন্ন মহাবিপর্যয়ের সংকেত

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, আর আমাদের এই শ্যামল প্রকৃতি ও জনবসতির প্রাণভোমরা হলো অসংখ্য খাল-বিল, পুকুর ও জলাশয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, তথাকথিত নগরায়ণ ও উন্নয়নের দোহাই দিয়ে এক শ্রেণির প্রভাবশালী ভূমিদস্যু ও অসাধু চক্রের করাল গ্রাসে প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের অমূল্য এসব জলাধার। একসময় যেসব দিঘি বা পুকুরের স্বচ্ছ জলরাশি কিংবা খালের প্রবহমান ধারা আমাদের চোখ জুড়াত, তা আজ বালু আর আবর্জনার স্তূপে চাপা পড়ে বহুতল ভবনের নিচে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতির এই নির্মম হত্যাযজ্ঞ কেবল আমাদের ঐতিহ্যের বিনাশ নয়, বরং এটি আমাদের অস্তিত্বের মূলে কুঠারাঘাতের শামিল। শহরের ফুসফুসখ্যাত এই জলাশয়গুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বাতাস আজ ভারী, আর প্রকৃতি তার স্নিগ্ধতা হারিয়ে রুক্ষ কঙ্করে পরিণত হচ্ছে।

জলাশয় ভরাটের প্রত্যক্ষ ও ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব এখন আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা, কারণ বৃষ্টির পানি সরে যাওয়ার প্রাকৃতিক আধারগুলো আমরা ভরাট করে ফেলেছি। পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং বদ্ধ পানিতে জন্ম নিচ্ছে মশা ও নানা সংক্রামক ব্যাধি। অন্যদিকে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনক হারে নিচে নেমে যাচ্ছে। জলাশয়গুলো প্রাকৃতিকভাবে তাপ শোষণ করে পরিবেশ শীতল রাখে, কিন্তু সেগুলো হারিয়ে যাওয়ায় তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। কোনো এলাকায় অগ্নিকাণ্ড ঘটলে আগুন নেভানোর জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া আজ দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, পরিবেশের ভারসাম্য এমনভাবে নষ্ট হচ্ছে যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা একটি বসবাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে ব্যর্থ হচ্ছি।



অথচ দেশের প্রচলিত আইনে প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ অনুযায়ী জলাশয়, পুকুর বা খাল ভরাট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু আইনের তোয়াক্কা না করে, প্রশাসনের নাকের ডগাতেই চলছে এই অবৈধ দখলদারিত্ব। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে রাতের আঁধারে কিংবা প্রকাশ্যে ট্রাকের পর ট্রাক বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে শতবর্ষী পুকুর ও খাল। সাধারণ মানুষ এর প্রতিবাদ করতে ভয় পায়, আর যারা প্রতিবাদ করে তাদের কণ্ঠও নানাভাবে রুদ্ধ করে দেওয়া হয়। এই অনিয়ম ও দুর্নীতির চক্র এতোটাই শক্তিশালী যে, পরিবেশ অধিদপ্তরের মাঝেমধ্যে পরিচালিত অভিযানেও এর স্থায়ী কোনো সুরাহা হচ্ছে না।

এমতাবস্থায়, আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে এই আত্মঘাতী কর্মকাণ্ড এখনই বন্ধ করা প্রয়োজন। কেবল আইন বা নীতিমালা থাকলেই হবে না, তার কঠোর ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। জলাশয় ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে এবং ভরাটকৃত জলাশয়গুলো পুনরুদ্ধার করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা একান্ত জরুরি, যেন সাধারণ মানুষ পরিবেশ রক্ষায় সোচ্চার হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি, যেন আমাদের শহর ও গ্রামগুলো বসবাসের অযোগ্য মরুভূমিতে পরিণত না হয়। আসুন, আমরা সকলে মিলে আমাদের প্রাণপ্রকৃতি ও জলাধারগুলোকে রক্ষা করি।


আরিফুল ইসলাম
সচেতন এলাকাবাসীর পক্ষে
মিরপুর, ঢাকা।



(খাম )

No comments

Thank you, best of luck

Theme images by sbayram. Powered by Blogger.