header ads

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল এখন আরও সহজ: কাগজপত্র ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন


নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের করব্যবস্থায় শুরু হয়েছে এক নতুন ডিজিটাল অধ্যায়। আর্থিক স্বচ্ছতা ও নাগরিক সুবিধা বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবার আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াকে করেছে সম্পূর্ণ অনলাইননির্ভর। ফলে করদাতাদের আর হাতে হাতে কাগজপত্র নিয়ে কর অফিসে যেতে হচ্ছে না—সব কাজই সম্পন্ন করা যাবে ঘরে বসে, এক ক্লিকেই।

এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, চলতি অর্থবছর (২০২৪-২৫) থেকে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছাড়া সব করদাতাকেই অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে হবে। অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য কোনো কাগজপত্র আপলোডের প্রয়োজন নেই; শুধু প্রয়োজনীয় তথ্য ফর্মে সঠিকভাবে পূরণ করলেই রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন হবে।

কী কী তথ্য লাগবে অনলাইন রিটার্নে: 
রিটার্ন দাখিলের আগে করদাতাকে কিছু প্রাথমিক তথ্য প্রস্তুত রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে

  • বেতন সনদ: চাকরিজীবীদের জন্য প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক বেতন সনদ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
  • ভাড়ার তথ্য: ভাড়া থেকে আয় থাকলে চুক্তিপত্র ও পৌর করের রসিদ রাখতে হবে।
  • ঋণ ও বিনিয়োগ: বন্ধকী ঋণের সুদের সনদ, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস বা বীমায় বিনিয়োগের প্রমাণপত্র রাখতে হবে।
  • উৎসে কর কাটার সনদ: এটি আয়ের উৎস থেকে আগেই কর কাটা হয়েছে তা নিশ্চিত করে।
  • অনুদান ও দান: যাকাত বা অনুদানমূলক প্রতিষ্ঠানে দান করলে সেই তথ্য রেয়াত হিসেবেও বিবেচিত হয়।
এই দলিলগুলো অনলাইনে আপলোড করতে হয় না, তবে করদাতাকে অবশ্যই নিজের কাছে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। কারণ রিটার্ন নিরীক্ষার সময় কর কর্মকর্তারা চাইলে এসব দলিল দেখাতে হতে পারে।


নিবন্ধন ও রিটার্ন জমার ধাপ:

রিটার্ন জমা দিতে করদাতাকে প্রথমে এনবিআরের ওয়েবসাইটে ([https://www.nbr.gov.bd](https://www.nbr.gov.bd)) / 
প্রবেশ করে নিবন্ধন করতে হবে।  


নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজন: 
  • টিআইএন (TIN) নম্বর এবং
  • বায়োমেট্রিক যাচাইকৃত মোবাইল নম্বর।

একবার অ্যাকাউন্ট তৈরি হলে করদাতা সহজেই অনলাইন ফর্ম পূরণ করে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাপ্ত রশিদ ইমেইলে চলে আসবে।

কর পরিশোধও এখন অনলাইনে: 
করদাতারা এখন ঘরে বসেই কর পরিশোধ করতে পারবেন  
  • ব্যাংক ট্রান্সফার, 
  • ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, 
  • বিকাশ, র
  • কেট, 
  • নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্স সার্ভিসের মাধ্যমে।
ফলে কর প্রদানের জন্য ব্যাংক বা কর অফিসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর আর কোনো প্রয়োজন নেই।

রিটার্ন জমার সময়সীমা: 
২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে  ১ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৫** পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে হবে।

সহায়তায় কল সেন্টার ও হেল্পডেস্ক:
করদাতাদের সুবিধার্থে এনবিআর চালু করেছে ২৪ ঘণ্টার কল সেন্টার ও ইলেকট্রনিক হেল্পডেস্ক।  অনলাইন রিটার্ন দাখিলের সময় কোনো সমস্যা বা জিজ্ঞাসা থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা নেওয়া যাবে এখান থেকে।

ডিজিটাল করব্যবস্থার নতুন যুগ:
আগে যেখানে আয়কর রিটার্ন জমা মানেই ছিল কাগজের ফাইল, দলিল যাচাই আর সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া, এখন তা বদলে যাচ্ছে সম্পূর্ণভাবে। অনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থায় করদাতারা পাচ্ছেন সময় ও খরচ বাঁচানোর পাশাপাশি ঝামেলামুক্ত অভিজ্ঞতা।
 
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে কর প্রশাসন আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও নাগরিকবান্ধব রূপ পাচ্ছে। বলা যায়—এটি দেশের ডিজিটাল কর ব্যবস্থার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

কাগজের ঝামেলা নয়, এখন এক ক্লিকেই কর দাখিলের যুগ। অনলাইনে আয়কর রিটার্ন শুধু সময়ই বাঁচাবে না, বরং দেশকে এগিয়ে নেবে স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভর শাসনের পথে।

No comments

Thank you, best of luck

Theme images by sbayram. Powered by Blogger.