header ads

লালসালু ।। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্।। একাদশ-দ্বদশ শ্রেণি।।

১. নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত নাজিরপুর এলাকার বাসিন্দা হাকিম। জীবন-জীবিকার জন্য সে চলে যায় শহরে। রিকশা চালিয়ে জীবিকা শুরু করলেও অবৈধ ব্যাবসার সাথে যুক্ত হয়ে ক্রমেই প্রতিপত্তির মালিক হয়ে অভিজাতদের দলভুক্ত হয়।
ক. 'নাফরমানি করিও না'- উক্তিটি কার? ১
খ. 'বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে চোখ।'- ব্যাখ্যা করো। ২
গ. উদ্দীপকের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের কোন দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ? বুঝিয়ে লেখো। ৩
ঘ. "উদ্দীপকের হাকিম এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ উভয়ের মধ্যেই অস্তিত্ববাদী চেতনা প্রতিফলিত।”- তোমার মতামত দাও। ৪

১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. 'নাফরমানি করিও না'- উক্তিটি মজিদের।
খ. শিলাবৃষ্টির পর মজিদসহ মহব্বতনগরবাসীর আস্থাশীল সম্পর্কে বলা হয়েছে 'বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে চোখ'। 
মহব্বতনগরে শিলাবৃষ্টিতে ধানখেত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। খেতের প্রান্তে এসে জমা হয় গ্রামবাসী। ধানখেত দেখে সবাই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। মজিদকে দেখে তারা হাহাকার করে ওঠে। মজিদ তখন কঠোর মুখে সকলকে খোদার উপর বিশ্বাস রাখতে বলে। এরপর আর কেউ কথা বলতে পারে না। শুধু ধ্বংস হওয়া খেতের দিকে চেয়ে চেয়ে দেখে। মনে হয় যেন তাদের চোখের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের দৃঢ়তা প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে। এ প্রসঙ্গে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
গ. উদ্দীপকের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের ভাগান্বেষণে মজিদের নিজ জন্মস্থান ছেড়ে অন্য এলাকায় পাড়ি জমানোর দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ একটি শস্যহীন জনবহুল অঞ্চল থেকে ক্ষুধার তাড়নায় জীবন বাঁচাতে নিজ জন্মভূমি ত্যাগ করে। সে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে মহব্বতনগর গ্রামকে বেছে নেয়। সেখানে সে তথাকথিত মোদাচ্ছের পিরের মাজারের কল্পকাহিনিকে পুঁজি করে নিজের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে সফলতা লাভ করে। মাজারকে পুঁজি করে সে গ্রামের সহজসরল মানুষদের ঠকিয়ে অর্থবিত্ত ও প্রভাব-প্রতিপত্তি গড়ে তোলে। 
উদ্দীপকে মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত নাজিরপুর এলাকার হাকিম শহরে চলে যায়। শহরে গিয়ে রিকশা চালিয়ে জীবিকা শুরু করে। ক্রমে অবৈধ ব্যাবসায় জড়িয়ে প্রতিপত্তির মালিক হয়। একইভাবে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ অস্তিত্ব রক্ষা করতে মহব্বতনগর গ্রামে এসে তার শেষ সম্বল ধর্মকে হাতিয়ার করে মাজার প্রতিষ্ঠা করে। ধর্মের মোড়কে মিথ্যাকে পুঁজি করে নিজের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম চালিয়ে যেতে থাকে। এভাবে সে এক সময় প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। এসব দিক বিচার করে বলা যায়, উদ্দীপকের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের জীবন বাঁচাতে অন্যত্র ছুটে চলা ও অস্তিত্ব রক্ষায় সংগ্রামের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. দরিদ্রতা থেকে মুক্তি পেতে হীন পথ অবলম্বন করে হলেও আত্মপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করায় উদ্দীপকের হাকিম এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ উভয়ের মাঝেই অস্তিত্ববাদী চেতনা প্রতিফলিত হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ যে মাজার ব্যাবসা শুরু করে, তার মূলে ধর্ম প্রতিষ্ঠা ছিল না, ছিল আত্মপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। দরিদ্রপীড়িত জীবন থেকে মুক্তি পেতে এবং জীবিকা অর্জনের তাগিদে সে মহব্বতনগরে মোদাচ্ছের পিরের মাজার প্রতিষ্ঠা করে। গ্রামের সহজসরল মানুষদের ঠকিয়ে শুরু হয় তার রমরমা ধর্মব্যাবসা। ফলে কিছুদিনের মধ্যেই সে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। 

উদ্দীপকের হাকিমও নদীভাঙনে সব হারিয়ে জীবিকার জন্য শহরে গিয়ে আর্থিক অবস্থা উত্তরণের জন্য অবৈধ পথ বেছে নিয়েছে। আত্মপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকে রিকশা চালানো শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে অবৈধ ব্যাবসার মাধ্যমে সে প্রভাব-প্রতিপত্তি অর্জন করেছে। তার এ কর্মকাণ্ডে শঠতা এবং সুযোগসন্ধানী মনোভাবের পরিচয় মেলে। 
'লালসালু' উপন্যাসে ও উদ্দীপক যথাক্রমে হাকিম ও মজিদ অস্তিত্ব রক্ষায় সংগ্রামী দুই ব্যক্তি। যদিও তাদের আত্মপ্রতিষ্ঠার পথটি ইতিবাচক নয়। একজন আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্য ধর্মব্যাবসা বেছে নিয়েছে। অন্যজন অবৈধ ব্যাবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে তারা দুইজনই নৈতিকতা বিসর্জন দিয়েছে। সেদিক বিবেচনায় আমরা বলতে পারি, উদ্দীপকের হাকিম এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের আত্মপ্রতিষ্ঠার অনৈতিক আয়োজন মূলত অস্তিত্ববাদী চেতনারই প্রতিফলন।

২: আসামের চা বাগানে কুলি জোগাড় করা খুবই কঠিন। দলে দলে লোক কালাজ্বরে মরে। মজুর খাটতে সেখানে কোনো লোক যেতে চায় না। সেই সমস্যা নিরসনে এবং কমিশন পাওয়ার লোভে সুন্দরলাল সাঁওতাল পরগনার অশিক্ষিত, অসহায় ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষদের শিংবোঙ্গার দৈববাণীর ভয় দেখিয়ে কুলির কাজ করতে বাধ্য করায়।
ক. সাত ছেলের বাপের নাম কী? ১
খ. 'দুনিয়াটা বড় বিচিত্র জায়গা।'- উক্তিটি কার? কোন প্রসঙ্গে বলেছে? ২
গ. উদ্দীপকের দৈববাণীর সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের কীসের সাদৃশ্য রয়েছে? বুঝিয়ে লেখো। ৩
ঘ. "উদ্দীপকের সাঁওতাল পরগনার মানুষগুলো যেন মহব্বতনগরের গ্রামবাসীদের প্রতিনিধি।"- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো। ৪
২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. সাত ছেলের বাপের নাম দুদু মিঞা।
খ. দুনিয়ায় বাস করতে গেলে সময়ে-অসময়ে মিথ্যা কথা না বললেই নয় বলে মজিদ প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে। 
করিমগঞ্জ হাসপাতালে মহব্বতনগরের আহত লোকদের দেখতে যায় মজিদ। অসুস্থ লোকদের দেখাশোনা করে গ্রামে ফিরে এসে মজিদ গুরুতর আহত কালু মিয়ার বাপকে বলে, সেখানে তার ছেলের সেবাযত্ন ও ওষুধ-পথ্যের কোনো অভাব নেই। কারণ হাসপাতালের ডাক্তার তার মুরিদ। একথাটা অবশ্য মিথ্যা, তবু মজিদ জেনেশুনে মিথ্যা কথা বলে। কারণ তার মতে, দুনিয়াটা বড়ো বিচিত্র জায়গা। এখানে সময়ে-অসময়ে মিথ্যা কথা না বললে চলে না।

গ. উদ্দীপকের সুন্দরলালের দৈববাণীর সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের মোদাচ্ছের পিরের মাজারের অলৌকিক শক্তির সাদৃশ্য রয়েছে।

'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ মাজারের অলৌকিক শক্তির কথা বলে মহব্বতনগরের সহজসরল মানুষের সাথে প্রতারণা করে। সে মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে নিজের অর্থনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করে। মাজারের অলৌকিক ক্ষমতার কথা বলে গ্রামের মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে আধিপত্য বিস্তার করে। উদ্দীপকের সুন্দরলাল একজন লোভী ও স্বার্থপর মানুষ। সে কুসংস্কারাচ্ছন্ন সাঁওতাল পরগনার নিরীহ মানুষদের অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে। কৌশলে সাঁওতালদের বসে আনতে সে শিংবোঙ্গার দৈববাণীকে কাজে লাগায়। অমানবিকভাবে সরল বিশ্বাসী মানুষকে সে প্রতারিত করে। সুন্দরলালের এমন কর্মকাণ্ড 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের কথাই যেন স্মরণ করিয়ে দেয়। সে গ্রামের সরল মানুষদের ধর্মবিশ্বাসকে স্বার্থ হাসিলের উপায় হিসেবে বেছে নেয়। অজ্ঞাত এক কবরকে মোদাচ্ছের পিরের মাজার বলে চালিয়ে দেয় এবং সে মাজারের অলৌকিক শক্তির কথা বলে প্রভাব বিস্তার করে। অর্থাৎ উদ্দীপকের সুন্দরলালের দৈববাণী 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের মাজার ও তার অলৌকিক শক্তির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. সাঁওতাল পরগনার মানুষের ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও সারল্য 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগরের গ্রামবাসীদের অনুরূপ। 'লালসালু' উপন্যাসে ধর্মব্যাবসার স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে। মজিদের মতো বাংলার আনাচেকানাচে অসংখ্য ভন্ড মাজার ব্যাবসায়ীরা ধর্মের নামে মানুষকে অত্যাচার ও শোষণ করে চলে। মজিদ নিরীহ মানুষদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে তার স্বার্থ হাসিল করে। পাঞ্জেরী এইচএসসি টেস্ট পেপারস মেইড ইজি: উত্তরপত্র। বাংলা প্রথম পত্র উদ্দীপকের সুন্দরলাল সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর মানুষের সাথে প্রতারণা করে। অশিক্ষিত ধর্মভীরু লোকগুলো তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করে। সেই দুর্বলতার সুযোগে সুন্দরলালের মতো অসাধু লোক নিজের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করে। সে দৈববাণীর ভয় দেখিয়ে সাঁওতালদের চা বাগানে কুলির কাজ করতে বাধ্য করে। কুসংস্কারাচ্ছন্ন সরল বিশ্বাসী মানুষদের সুন্দরলালের মতো প্রতারকের অমানবিকতার নিষ্ঠুর বলি হতে হয়। 'লালসালু' উপন্যাসেও ধর্মব্যাবসার নিষ্ঠুর কশাঘাতে মানুষের জীবন চরম আকার ধারণ করেছে। অশিক্ষিত, কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ ধর্মের আসল মাহাত্ম্য জানে না। তাই মজিদের মতো মানুষরা তাদের যে প্রতারিত ও নিষ্পেষিত করে তারা তা বুঝতে পারে না। নিরীহ, অজ্ঞ, ধর্মবিশ্বাসী লোকগুলোর কাছে মাজারের খাদেম বেশে মজিদ হয়ে ওঠে গ্রামের ক্ষমতাধর ব্যক্তি। সমাজের সরল বিশ্বাসী মানুষগুলো তাকে বিশ্বাস করে। একইভাবে উদ্দীপকের সহজসরল মানুষরাও সুন্দরলালকে বিশ্বাস করে। উদ্দীপক ও আলোচ্য উপন্যাস উভয় জায়গার মানুষগুলো সহজসরল ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।


প্রশ্ন ৩: ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫। প্রশ্ন নং ৪
বিদেশ ফেরত রফিক গ্রামের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে। একপর্যায়ে সে চিন্তা করে গ্রামের মানুষকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা দরকার। এই লক্ষ্যে গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরোধিতার কারণে স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগটি ভেস্তে যায়।
ক. 'লালসালু' উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদের নাম কী? ১
খ. 'ধান দিয়া কী হইব, মানুষের জান যদি না থাকে?'- ব্যাখ্যা করো। ২
গ. উদ্দীপকের রফিক 'লালসালু' উপন্যাসের কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে? আলোচনা করো। ৩
ঘ. 'প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নেতিবাচক মনোভাব সমাজের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়।'- উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের আলোকে বিশ্লেষণ করো। ৪

৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. 'লালসালু' উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদের নাম 'Tree Without Roots'।
খ. এ উক্তিটিতে 'লালসালু' উপন্যাসের রহিমার মাতৃহৃদয় বিচলিত হয়ে ওঠার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমা তাকে ভক্তি ও শ্রদ্ধা করে। কিন্তু মজিদ তার অল্পবয়সি দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলার উপর নিজের প্রভাব বিস্তারের জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করলেও সে অবাধ্য আচরণ করে। তাই জমিলাকে তার বাধ্য করতে ও শাস্তি দিতে সে দুর্যোগপূর্ণ অন্ধকার রাতে তাকে মাজারে বেঁধে রেখে আসে। তখন রহিমা সন্তানসম জমিলার কথা ভেবে বিচলিত হয়ে ওঠে। জমিলার জন্য রহিমার মানসিক পরিবর্তন লক্ষ করে মজিদ। তাই সে শিলাবৃষ্টির প্রসঙ্গ তুলে এনে ধানের ক্ষতি হওয়ার কথা বলে। এ পরিস্থিতিতে স্বামীভক্ত রহিমা প্রতিবাদী ভাষায় মজিদকে উদ্দেশ করে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে। রহিমার এই উক্তির দ্বারা তার মাতৃহৃদয়ে কমবয়সি জমিলার জন্য শঙ্কা ও সন্তানবাৎসল্যের মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
গ. উদ্দীপকের রফিক 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাস চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে। 'লালসালু' উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র আক্কাস। মহব্বতনগর গ্রামের মোদাব্বের মিঞার ছেলে আক্কাস। বিদেশে ছিল বহুদিন। করিমগঞ্জের স্কুলে পড়াশোনা করে। পাটের আড়তে চাকরি করে পয়সা জমায়। গ্রামবাসী যাতে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে উঠতে পারে, তাই সে চায় গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে। স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য চাঁদা তোলার চেষ্টা চালায় এবং একটা আবেদনপত্রও সে সরকারের কাছে পাঠায়। কিন্তু মজিদের কূটকৌশলে ও গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কারণে তা সম্ভব হয় না। উদ্দীপকে বিদেশফেরত রফিক গ্রামের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে। একপর্যায়ে গ্রামের মানুষকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরোধিতার কারণে রফিকের উদ্যোগটি ভেস্তে যায়। 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাসও একইভাবে গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলে মজিদসহ গণ্যমান্য লোকজনের অসহযোগিতায় তা আর আলোর মুখ দেখেনি। তাই উদ্দীপকের রফিক 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাসকে প্রতিনিধিত্ব করে।
ঘ. উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসে প্রভাবশালীদের আচরণ বিবেচনায় আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ। 'লালসালু' উপন্যাসে মহব্বতনগর গ্রামে মজিদ প্রবেশ করার পরে অশিক্ষার সাথে যুক্ত হয় ধর্মান্ধতা। এ দুইয়ে মিলে পুরো গ্রাম অন্ধকারাচ্ছন্ন হতে থাকে। এ অবস্থায় শিক্ষিত যুবক আক্কাস গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেয়, যাতে গ্রামের লোকজন শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়। কিন্তু মজিদসহ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের হস্তক্ষেপে তার এ মহৎ উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে যায়। মজিদ গ্রামের সহজসরল মানুষগুলোকে শিক্ষিত হতে দিতে চায় না। কারণ গ্রামের মানুষ শিক্ষিত হলে তার প্রতারণা ধরা পড়বে। কৌশলে সে স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বন্ধ করে মসজিদ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি পাকা করে নেয়। উদ্দীপকের রফিক বিদেশ থেকে ফিরে এসে গ্রামের উন্নয়নে সচেষ্ট হয়। সে গ্রামের মানুষকে শিক্ষিত করে তুলতে গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু গ্রামের প্রভাবশালী লোকজনের বিরোধিতার কারণে তার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাসও একইরকম উদ্যোগ গ্রহণ করলে মজিদের প্ররোচনায় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সেটি বাতিল করে দেয়। 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাস এবং উদ্দীপকের রফিক উভয়ই গ্রামের মানুষের উপকারার্থে স্কুল প্রতিষ্ঠার মতো শুভ উদ্যোগ নিলে তা আলোর মুখ দেখেনি। উভয় ক্ষেত্রেই তাদের সামনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন গ্রামের প্রভাবশালী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। মূলত তারা নিজেদের স্বার্থে উভয়ের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। তাই বলা যায় যে, 'লালসালু' উপন্যাস ও উদ্দীপকে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নেতিবাচক মনোভাব সমাজের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়।

প্রশ্ন ৪: ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫। প্রশ্ন নং ৯
ধর্মব্যাবসায়ীরা আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী হিসেবে নিজেদের জাহির করে এবং সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে। ফলে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গও তাদের অধীন হয়ে যায়। শোষণের সুবিধার্থে তারা ধর্মব্যাবসায়ীদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়।
ক. 'নিরাক পড়া' শব্দের অর্থ কী? ১
খ. 'গ্রামের লোকেরা যেন রহিমারই অন্য সংস্করণ।'- ব্যাখ্যা করো। ২
গ. উদ্দীপকটি 'লালসালু' উপন্যাসের সাথে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা করো। ৩
ঘ. 'ধর্মান্ধতাকে কাজে লাগিয়ে একটি শ্রেণি স্বার্থ হাসিল করে।'- উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো। ৪

৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. 'নিরাক পড়া' শব্দের অর্থ বাতাসহীন নিস্তব্ধ গুমোট আবহাওয়া।
খ. মহব্বতনগরের লোকেরা মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমার মতোই দৈহিক শক্তিতে বলীয়ান, কিন্তু সহজসরল এবং মানসিকভাবে দুর্বল ও ভীতু প্রকৃতির, যা প্রশ্নোক্ত বাক্যটির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে। মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমা সহজসরল ও সবল। কিন্তু স্বভাবে ভীরু ও কুসংস্কারে বিশ্বাসী। সে তার স্বামী ও মাজারকে ভয় পায় ও ভক্তি করে। মহব্বতনগরের মানুষগুলো কাজ করে আনন্দ পায়। সারা বছর খোদার কথা ভুলেই থাকে তারা। কেবল বর্ষণহীন খরার দিনে যখন জমিতে ফাটল ধরে তখন তারা খোদাকে স্মরণ করে। তারা রহিমার মতোই সবল এবং রহিমার মতো অন্তরে ভয় লালন করে। রহিমার মতোই তারা মজিদকে ভয় পায় ও শ্রদ্ধা করে। এজন্যই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
গ. উদ্দীপকটি 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ ও খালেক ব্যাপারীর কর্মকান্ডের দিক থেকে উদ্দীপকটি 'লালসালু' উপন্যাসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ নাটকীয়ভাবে মহব্বতনগরে প্রবেশ করে। সে স্বপ্নে অলৌকিকভাবে নির্দেশ পেয়ে এখানে এসেছে বলে সবাইকে জানায়। কবর সাফ করে মাজার বানায়। মাজারের খাদেম বলে তাকেও গ্রামের অজ্ঞ লোকজন মেনে নেয়। রহস্যময় ও আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী মনে করে তাকে ভয় পায়। খালেক ব্যাপারী গ্রামের প্রধানতম ব্যক্তি হওয়ায় তার সাথে মজিদের যোগসাজশ তৈরি হয়। তখন দেখা যায় উভয়ের সম্মিলিত শক্তির কাছে গ্রামের সকলে জিম্মি হয়ে যায়। কারণ দুইজনই শোষক। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ধর্মব্যাবসায়ীরা আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী হিসেবে নিজেদেরকে জাহির করে এবং সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে। ফলে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গও তাদের অধীন হয়ে যায়। শোষণের সুবিধার্থে তারা ধর্মব্যাবসায়ীদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়। 'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ ও খালেক ব্যাপারীর মাঝে সাধারণ জনগণকে শোষণের সুবিধার্থে এই শক্তিশালী জোটবদ্ধতার বিষয়টি লক্ষ করা যায়। এসব দিক থেকেই উদ্দীপকটি আলোচ্য উপন্যাসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. উদ্দীপকের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ ও 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের মতো প্রভাবশালীরা মানুষের ধর্মান্ধতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগরের মানুষ ধর্মান্ধ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন। মজিদ এই গ্রামে প্রবেশ করে। নিষ্ঠুর ও লোভী মজিদ মানুষের ধর্মান্ধতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের আখের গোছায়। গ্রামবাসীদের ধর্ম বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করে। প্রতারণার জাল বিস্তার করে শাসন ও শোষণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। উদ্দীপকের আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী দাবি করা ধর্মব্যাবসায়ীদের সাথে প্রভাবশালীরা মিশে গিয়ে ধর্মান্ধ মানুষকে শাসন ও শোষণ করে। নিরক্ষর ও ধর্মান্ধ মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ধর্মকে বেছে নেয়। প্রভাবশালীরাও ধর্মব্যাবসায়ীদের সাথে জোট বেঁধে একযোগে স্বার্থ হাসিলের কাজে শামিল হয়। 'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারী মহব্বতনগর গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি। তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ধর্মব্যাবসায়ী মজিদ প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। তারা দুইজনে মিলেই সহজসরল মানুষের ধর্মান্ধতাকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষগুলোকে শাসন ও শোষণ করে। উদ্দীপকেও একই চিত্র বিদ্যমান, সমাজের প্রভাবশালীরা ধর্মব্যাবসায়ীদের সাথে মিলেমিশে ধর্মান্ধ সাধারণ মানুষকে ধর্মের দোহাই দিয়ে শোষণ করে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

প্রশ্ন ৫: রাজশাহী বোর্ড ২০২৫। প্রশ্ন নং ৪
আইমান রহমান বিদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করে দেশে ফিরে আসে। সে নিজ গ্রামের যুবসমাজকে নিয়ে একটি সংগঠন গড়ে তোলে। তারা প্রতিজ্ঞা করে এলাকা থেকে সমস্ত প্রকার অনিয়ম, অন্যায়, অবিচার দূর করবে। নির্বিচারে গাছ কাটা, নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তোলা, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার হয়। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের চক্রান্তে একটি মিথ্যা মামলায় আইমান এখন জেলে।
ক. ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্টের নাম কী? ১
খ. 'মেয়ে লোকের মনের মস্করা সহ্য করবে অতটা দুর্বল নয় সমাজ।'- উক্তিটির তাৎপর্য লেখো। ২
গ. উদ্দীপকের আইমানের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাসের তুলনা করো। ৩
ঘ. "উদ্দীপকটি 'লালসালু' উপন্যাসের সমগ্র বক্তব্যকে ধারণ করেনি।” স্বীকার করো কি? তোমার মতামত দাও। ৪

৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্টের নাম মতলুব খাঁ।
খ. মহব্বতনগরের সমাজব্যবস্থায় মেয়েরা যে কতটা নিপীড়িত তা বোঝাতে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে। সমাজে যদি কোনো মেয়ে আত্মহত্যা করবে বলে একবার ঘোষণা দেয়, তবে সে মৃত্যুর ভয়ে ঘোষণা থেকে সরে আসতে চাইলেও সমাজ তাকে আর সরতে দেয় না। সমাজই তাকে আত্মহত্যার সব আয়োজন করে দেয়, সর্বতোভাবে সাহায্য করে যাতে সে মৃত্যুমুখী হয়। এই কারণেই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করাহয়েছে।
গ. এ গ্রামের মানুষদের কল্যাণ কামনা করার দিক থেকে উদ্দীপকের আইমানের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাসের মিল রয়েছে। 'লালসালু' উপন্যাসের মোদাব্বের মিঞার ছেলে আক্কাস। সে করিমগঞ্জ স্কুলে পড়াশোনা করেছে। গ্রামের বাহিরে ছিল বহুদিন। আড়তে কাজ করে পয়সা জমিয়ে গ্রামে ফিরেছে। সে গ্রামে একটা স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সে চায় গ্রামের অশিক্ষিত মানুষকে শিক্ষিত করে তুলতে। সেই অনুসারে কাজও শুরু করে। কিন্তু স্বার্থান্বেষী মজিদ ও গ্রামবাসীর রোষানলে পড়ে তাকে অপদস্ত হতে হয়। উদ্দীপকের আইমান রহমান বিদেশ থেকে লেখাপড়া শেষ করে দেশে ফিরে গ্রামের যুবসমাজকে নিয়ে একটি সংগঠন গড়ে তোলে। সে চায় সকলকে সাথে নিয়ে গ্রাম থেকে সমস্ত প্রকার অনিয়ম, অন্যায় ও অবিচার দূর করবে। এমনকি সে নির্বিচারে গাছ কাটা, বালি উত্তোলন ও ইটভাটার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। ফলে সে প্রভাবশালী মহলের চক্রান্তের শিকার হয়। মিথ্যা মামলায় তার জেল হয়। উদ্দীপকের আইমান রহমান ও 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাস উভয়ই গ্রামের সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করতে চায় এবং কাজ করতে গিয়ে স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্তের শিকার হয়। এসব দিক থেকে উদ্দীপকের আইমানের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাস তুলনীয়।

ঘ. উদ্দীপকে জনকল্যাণমূলক কাজ করতে চাওয়া এবং ধর্মান্ধ ও স্বার্থপর মানুষের সে কাজে বাধা দান করার দিকটি 'লালসালু' উপন্যাসের একটিমাত্র বক্তব্যকে ধারণ করে; সামগ্রিক বক্তব্যকে ধারণ করে না। 'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায় মহব্বতনগর গ্রামের মজিদ একজন ভন্ড মাজার ব্যাবসায়ী। ধর্মের দোহাই দিয়ে সে গ্রামের মানুষগুলোর উপর প্রভাব বিস্তার করে। প্রতিনিয়ত অশিক্ষিত কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষগুলোকে ঠকিয়ে স্বার্থসিদ্ধি করে। আক্কাস তাই গ্রামের মানুষগুলোকে শিক্ষিত করতে চায়। কিন্তু গ্রামবাসী ও মজিদের বাধার মুখে সমস্ত আয়োজন নস্যাৎ হয়ে যায়। উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে একজন সৎ ও শিক্ষিত যুবক আইমান রহমানের কথা। সে তার গ্রামের কল্যাণ করার জন্য একটি সংগঠন গড়ে তোলে। তারা বৃক্ষনিধন, নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তোলা বা ইটের ভাটার দূষণ রোধ করতে চায়। কিন্তু এতে প্রভাবশালী মহলের স্বার্থে টান লাগলে তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়। 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাসের মতো উদ্দীপকের আইমানও তার গ্রাম ও গ্রামের সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে চায়। এ কারণে তারা উভয়ই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়। এই বিষয়টি আলোচ্য উপন্যাসের একটি ঘটনা মাত্র। এই বিষয়টি ছাড়াও 'লালসালু' উপন্যাসে মজিদের মহব্বতনগর গ্রামে আসা, ভণ্ডামি ও শঠতার আশ্রয় নেওয়া, একাধিক বিয়ে করা, তার বিরুদ্ধে যাওয়া মানুষদের কৌশলে শাস্তি দেওয়া, সর্বোপরি জমিলাকে আবদ্ধ করতে গিয়ে তার প্রথম স্ত্রীর কাছে প্রতিরোধের শিকার হওয়ার মতো অনেক বিষয়ের প্রকাশ ঘটেছে। এসব বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই আমি প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি স্বীকার করি।


প্রশ্ন ৬: রাজশাহী বোর্ড ২০২৫। প্রশ্ন নং ৯
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্বন্ধে সাধারণ মানুষ খুবই অসচেতন। এটি যে তাদের দেহ ও মনের উপর কী পরিমাণ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তা তারা জানে না। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলো ক্ষতিকর দিকটি জেনেও এর প্রচার ও প্রসারের জন্য নিয়ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নীতি, আদর্শ, স্বাস্থ্য কিংবা মানুষের জীবন নয়; কোম্পানিগুলোর কাছে মুখ্য তাদের মুনাফা ও অস্তিত্ব।
ক. হাসুনির মাকে মজিদ কী রঙের শাড়ি কিনে দেয়? ১
খ. 'বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে চোখ।'- উক্তিটির তাৎপর্য লেখো। ২
গ. উদ্দীপকের সাধারণ মানুষের সাথে মহব্বতনগর গ্রামের মানুষের তুলনা করো। ৩
ঘ. 'পরিস্থিতি স্বতন্ত্র হলেও উদ্দীপকের কোম্পানিগুলো ও মজিদের উদ্দেশ্য অভিন্ন।'- স্বীকার করো কি? তোমার মতামত দাও। ৪

৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. হাসুনির মাকে মজিদ বেগুনি রঙের শাড়ি কিনে দেয়।
খ. সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্ন নম্বর ১-খ দেখো।
গ. শোষিত ও প্রতারিত হওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের সাধারণ মানুষের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের মানুষ তুলনীয়। 'লালসালু' উপন্যাসে একটি অশিক্ষিত, অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থবির গ্রামের কথা বলা হয়েছে। এই মহব্বতনগরের মানুষ ভাগ্য ও অলৌকিকত্বে গভীরভাবে বিশ্বাসী। তারা দৈবশক্তির লীলা দেখে ভয় পায় অথবা ভক্তিতে আপ্লুত হয়। ফলে মজিদের মতো ভণ্ড পিরের দ্বারা গ্রামের মানুষগুলো কেবল শোষিতই হয়। কখনো ধর্মীয়ভাবে, কখনো অর্থনৈতিকভাবে। তারা যে মজিদের ভণ্ডামির শিকার হচ্ছে সেটা তারা বুঝতেও না। না বুঝে তার কাছেই বারবার ছুটে যায়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পর্কে সাধারণ মানুষ খুবই অসচেতন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সরাসরি যে তাদের দেহ ও মনের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তা তারা জানে না। তারা বোঝে না তাদের ব্যবহার করে কোনো মহল স্বার্থ সিদ্ধি করছে। একইভাবে শোষিত ও প্রতারিত হয় 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের মানুষেরা। তাদের মজিদ ধর্মের নামে প্রতারিত করে। মজিদের প্রতারণা, শঠতা ও শোষণের বেড়াজালে বন্দি মহব্বতনগর গ্রামের মানুষ। তাই বলা যায় যে, শোষিত ও প্রতারিত হওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের সাধারণ মানুষ মহব্বতনগর গ্রামের মানুষের সাথে তুলনীয়।

ঘ. পরিস্থিতি স্বতন্ত্র হলেও উদ্দীপকের কোম্পানিগুলো ও মজিদের উদ্দেশ্য অভিন্ন, কারণ তারা সাধারণ মানুষদের ঠকায় ও শোষণ করে। 'লালসালু' উপন্যাসে মহব্বতনগর গ্রামের মানুষেরা কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও অন্ধবিশ্বাসে জর্জরিত। ফলে তারা খুব সহজেই মাজার, পির ও অলৌকিকতায় বিশ্বাস করে। মজিদের মতো ভন্ড মানুষ এই সুযোগটাই নেয়। সে গ্রামের মানুষের অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে তাদের উপর কর্তৃত্ব স্থাপন করতে সক্ষম হয়। তারা মাজারকে কেন্দ্র করে গ্রামের মানুষদের শাসন ও শোষণ করে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে। উদ্দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী কোম্পানির কথা বলা হয়েছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর দিকগুলোর কথা জেনেও এর প্রচার ও প্রসার চালিয়ে যায়। মুনাফা ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। 'লালসালু' উপন্যাস ও উদ্দীপকের পরিস্থিতি ভিন্ন। কিন্তু উভয় জায়গায় মানুষকে শোষণ করে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করা এবং অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার বিষয়টি স্পষ্ট। উদ্দীপকের কোম্পানিগুলো সাধারণ মানুষকে যেভাবে ব্যবহার করে আলোচ্য উপন্যাসের মজিদও ঠিক একইভাবে গ্রামের মানুষদের ব্যবহার করে নিজের আখের গুছিয়ে নেয়। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে আমি স্বীকার করি।

No comments

Thank you, best of luck

Theme images by sbayram. Powered by Blogger.