header ads

ব্যাংক শেয়ারের মূল্যায়নে ট্রাস্ট না উত্তরা: কম দামের আকর্ষণ, নাকি মুনাফার প্রবৃদ্ধি?





নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা , ১৫ অক্টোবর ২০২৬।।

দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর শেয়ার মূল্যায়নে বিনিয়োগকারীদের সামনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি ও উত্তরা ব্যাংক পিএলসি। শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য, মূল্য-আয় অনুপাত, লভ্যাংশের ফলন, সম্পদের ব্যবহার এবং মুনাফার প্রবৃদ্ধি—এসব সূচক বিবেচনায় ব্যাংক দুটির মধ্যে যেমন উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিনিয়োগের ভিন্ন ভিন্ন সম্ভাবনা ও ঝুঁকি।

বাজারে প্রদত্ত আর্থিক তুলনামূলক তথ্য অনুযায়ী, ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ারদর ১৩ টাকা ১০ পয়সা এবং উত্তরা ব্যাংকের ২০ টাকা ৯০ পয়সা। প্রথম দৃষ্টিতে ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ার তুলনামূলক সস্তা মনে হলেও কেবল বাজারদর দিয়ে বিনিয়োগের মান নির্ধারণ করা যায় না। বরং কোন ব্যাংক তার সম্পদকে কতটা কার্যকরভাবে মুনাফায় রূপান্তর করছে, শেয়ারপ্রতি আয় বাড়ছে কি না এবং ভবিষ্যতে সেই আয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সক্ষমতা কতটা—এসব প্রশ্নই বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
বাজারমূল্য ও সম্পদমূল্যে ট্রাস্ট ব্যাংকের সুবিধা

প্রদত্ত তুলনামূলক তথ্যে ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) ৩০ টাকা ৬ পয়সা। বিপরীতে উত্তরা ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি এনএভি ২৮ টাকা ৯৯ পয়সা। অর্থাৎ উত্তরা ব্যাংকের তুলনায় ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি হিসাবভিত্তিক সম্পদমূল্য কিছুটা বেশি।

শেয়ারদর ও এনএভির অনুপাত হিসাব করলে দেখা যায়, ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ার তার এনএভির প্রায় ০.৪৪ গুণ এবং উত্তরা ব্যাংকের শেয়ার প্রায় ০.৭২ গুণে লেনদেন হচ্ছে। সহজ ভাষায়, বাজারে ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি এক টাকার হিসাবভিত্তিক সম্পদের জন্য বিনিয়োগকারী প্রায় ৪৪ পয়সা দিচ্ছেন; উত্তরা ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা প্রায় ৭২ পয়সা।

এই হিসাবে ট্রাস্ট ব্যাংক সম্পদমূল্যের তুলনায় বেশি অবমূল্যায়িত বলে প্রতীয়মান হয়। তবে ব্যাংকের এনএভি বেশি বা বাজারদর কম হলেই শেয়ারটি প্রকৃত অর্থে সস্তা—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। ঋণের মান, খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন, বিনিয়োগের ঝুঁকি এবং ভবিষ্যৎ মুনাফার সম্ভাবনা বিবেচনা না করলে কম মূল্যায়ন দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত থাকতে পারে।
পি/ই অনুপাতে উত্তরা ব্যাংক সামান্য এগিয়ে

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাস্ট ব্যাংকের অন্তর্বর্তীকালীন মূল্য-আয় অনুপাত বা পি/ই ৫.৪৬ এবং নিরীক্ষিত আয়ের ভিত্তিতে পি/ই ৩.৮৮। উত্তরা ব্যাংকের ক্ষেত্রে এই অনুপাত যথাক্রমে ৪.৬৯ ও ৩.৪৪।

পি/ই অনুপাত বোঝায়, কোম্পানির প্রতি এক টাকা আয়ের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা শেয়ারের জন্য কত টাকা দিতে রাজি আছেন। এ হিসাবে উত্তরা ব্যাংকের পি/ই কিছুটা কম। অর্থাৎ প্রদত্ত হিসাবের ভিত্তিতে উত্তরা ব্যাংকের শেয়ারও আয়ের তুলনায় সস্তা মূল্যায়নে রয়েছে।

তবে অন্তর্বর্তীকালীন ও নিরীক্ষিত পি/ইয়ের মধ্যে পার্থক্য থাকায় হিসাবের সময়কাল ও ব্যবহৃত আয়ের ভিত্তি যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে ব্যাংকের আয় যদি কোনো নির্দিষ্ট প্রান্তিকে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তাহলে সেই আয়ের ভিত্তিতে হিসাব করা কম পি/ই ভবিষ্যৎ মূল্যায়নকে অতিরিক্ত আকর্ষণীয় দেখাতে পারে। তাই শুধু কম পি/ই নয়, আয়ের গুণগত মান ও ধারাবাহিকতাও বিনিয়োগকারীদের বিবেচনায় রাখা উচিত।

No comments

Thank you, best of luck

Theme images by sbayram. Powered by Blogger.