header ads

সংবাদ পত্রে প্রকাশিতব্য পত্র।। “তোমার এলাকার জলাবদ্ধতা থেকে পরিত্রাণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করে সংবাদ পত্রে প্রকাশযোগ্য একটি পত্র লেখো।” বাংলা দ্বিতীয় পত্র।। সপ্তম।। অষ্টম।। নবম-দশম।। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।।


তারিখ: ১০ জুলাই ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ

সম্পাদক
দৈনিক প্রথম আলো
প্রগতি ইনস্যুরেন্স ভবন 
২০-২১, কারওয়ান বাজার; ঢাকা-১২১৫।

বিষয়: সংযুক্ত পত্রটি প্রকাশের জন্য আবেদন।

মহোদয়,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি মিরপুর এলাকার একজন স্থায়ী বাসিন্দা। বর্তমানে আমাদের এলাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে, যা জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার ভয়াবহতা ও স্থানীয় জনসাধারণের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ তুলে ধরে প্রতিকারের আশায় একটি পত্র যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকায় প্রকাশের জন্য প্রেরণ করলাম।

অতএব, বিনীত নিবেদন এই যে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এই গুরুত্বপূর্ণ পত্রটি আপনার পত্রিকার নিয়মানুযায়ী যথাযথ পরিমার্জন সাপেক্ষে প্রকাশ করে বাধিত করবেন।

বিনীত নিবেদন

আরিফুল ইসলাম
স্বপ্ন ভবন; ব্লক ক
মিরপুর -১০ 
 ঢাকা-১২১৬ 


মিরপুরে অবর্ণনীয় জলাবদ্ধতা: কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অন্যতম জনবহুল এলাকা মিরপুর। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আধুনিক নাগরিক সুবিধার কথা বলা হলেও, সামান্য বৃষ্টি হলেই মিরপুরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যায়। এই জলাবদ্ধতা এখন আর কোনো সাময়িক সমস্যা নয়, বরং এটি এখানকার বাসিন্দাদের জন্য একটি নিত্যদিনের অসহনীয় অভিশাপে পরিণত হয়েছে। বর্ষাকাল এলেই আমাদের আতঙ্ক বেড়ে যায়, আর গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় জনজীবন সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে।

জলাবদ্ধতার কারণে সৃষ্ট ভোগান্তির চিত্র ভয়াবহ। হাঁটুপানি মাড়িয়ে অফিসগামী মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় রাস্তার ম্যানহোল ও ড্রেন পানির নিচে তলিয়ে থাকায় পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। নিচতলার বাসা ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ার কারণে মূল্যবান আসবাবপত্র ও ব্যবসায়িক পণ্যের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। এছাড়া, বদ্ধ ও নোংরা পানি জমে থাকায় মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা তীব্রতর হয়েছে। স্কুল-কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, মিরপুর এলাকার এই জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ হলো অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনা। অধিকাংশ এলাকার ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না, ফলে পলিথিন, বর্জ্য ও আবর্জনা জমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া, এলাকার প্রাকৃতিক জলাশয় ও খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারছে না। অনেক জায়গায় মূল সড়কের পাশের ড্রেনগুলো সরু হয়ে গেছে বা অবৈধ দখলে চলে গেছে, যা পানি প্রবাহের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। সিটি করপোরেশন বা ওয়াসা কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত ও সাময়িক মনে হচ্ছে।

এমতাবস্থায়, মিরপুরবাসীর এই অবর্ণনীয় দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ একান্ত কাম্য। কেবল দায়সারাভাবে ড্রেন পরিষ্কার না করে, একটি স্থায়ী ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ওয়াসাকে সমন্বিতভাবে এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সংস্কার করতে হবে। ভরাট হয়ে যাওয়া খাল ও জলাশয়গুলো পুনরুদ্ধার করে পানি প্রবাহের পথ সুগম করতে হবে এবং ড্রেনগুলোতে বর্জ্য ফেলা রোধে কঠোর নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আসুন, আমরা সকলে মিলে আমাদের প্রিয় শহরকে বাসযোগ্য ও জলাবদ্ধতামুক্ত রাখতে সচেতন হই এবং কর্তৃপক্ষকে তাদের দায়িত্ব পালনে বাধ্য করি।


আরিফুল ইসলাম
স্বপ্ন ভবন; ব্লক ক
মিরপুর -১০ 
 ঢাকা-১২১৬ 









1 comment:

Thank you, best of luck

Theme images by sbayram. Powered by Blogger.