header ads

নিরীহ বাঙালি (রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন) গদ্য; বাংলা সাহিত্য; নবম ও দশম শ্রেণি




নিরীহ বাঙালি (রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন)
গদ্য - বাংলা সাহিত্য - দাখিল নবম ও দশম শ্রেণি | NCTB BOOK



আমরা দুর্বল নিরীহ বাঙালি । এই বাঙালি শব্দে কেমন সুমধুর তরল কোমল ভাব প্রকাশ হয়। আহা ! এই অমিয়াসিক্ত বাঙালি কোন্ বিধাতা গড়িয়াছিলেন? কুসুমের সৌকুমার্য, চন্দ্রের চন্দ্রিকা, মধুর মাধুরী, যুথিকার সৌরভ, সুপ্তির নীরবতা, ভূধরের অচলতা, নবনীর কোমলতা, সলিলের তরলতা- এক কথায় বিশ্বজগতের সমুদয় সৌন্দর্য এবং স্নিগ্ধতা লইয়া বাঙালি গঠিত হইয়াছে! আমাদের নামটি যেমন শ্রুতিমধুর তদ্রূপ আমাদের সমুদয় ক্রিয়াকলাপও সহজ ও সরল।

আমরা মূর্তিমতী কবিতা-যদি ভারতবর্ষকে ইংরেজি ধরনের একটি অট্টালিকা মনে করেন, তবে বঙ্গদেশ তাহার বৈঠকখানা (drawing room) এবং বাঙালি তাহাতে সাজসজ্জা (drawing room suit)! যদি ভারতবর্ষকে একটা সরোবর মনে করেন, তবে বাঙালি তাহাতে পদ্মিনী। যদি ভারতবর্ষকে একখানা উপন্যাস মনে করেন, তবে বাঙালি তাহার নায়িকা! ভারতের পুরুষ সমাজে বাঙালি পুরুষিকা! অতএব আমরা মূর্তিমান কাব্য ।

আমাদের খাদ্যদ্রব্যগুলি – পুঁইশাকের ডাঁটা, সজিনা ও পুঁটি মৎস্যের ঝোল- অতিশয় সরস। আমাদের খাদ্যদ্রব্যগুলি -ঘৃত, দুগ্ধ, ছানা, নবনীত, ক্ষীর, সর, সন্দেশ ও রসগোল্লা-অতিশয় সুস্বাদু। আমাদের দেশের প্রধান ফল, আম্র ও কাঁঠাল- -রসাল এবং মধুর। অতএব আমাদের খাদ্যসামগ্রী ত্রিগুণাত্মক-সরস, সুস্বাদু, মধুর ।

খাদ্যের গুণ অনুসারে শরীরের পুষ্টি হয়। তাই সজিনা যেমন বীজবহুল, আমাদের দেশে তেমনই ভুঁড়িটি স্থূল। নবনীতে কোমলতা অধিক, তাই আমাদের স্বভাবের ভীরুতা অধিক। শারীরিক সৌন্দর্য সম্বন্ধে অধিক বলা নিষ্প্রয়োজন; এখন পোষাক পরিচ্ছদের কথা বলি ।

আমাদের বর অঙ্গ যেমন তৈলসিক্ত নবনিগঠিত সুকোমল, পরিধেয়ও তদ্রূপ অতি সূক্ষ্ম শিমলার ধুতি ও চাদর। ইহাতে বায়ুসঞ্চালনের (Ventilation এর) কোন বাধা বিঘ্ন হয় না! আমরা সময় সময় সভ্যতার অনুরোধে কোট শার্ট ব্যবহার করি বটে, কারণ পুরুষমানুষের সবই সহ্য হয়।

কিন্তু আমাদের অর্ধাঙ্গী-হেমাঙ্গী, কৃষ্ণাঙ্গীগণ তদানুকরণে ইংরেজ ললনাদের নির্লজ্জ পরিচ্ছদ (শেমিজ জ্যাকেট) ব্যবহার করেন না। তাঁহারা অতিশয় সুকুমারী ললিতা লজ্জাবতী লতিকা, তাই অতি মসৃণ ও সূক্ষ্ম ‘হাওয়ার শাড়ি’ পরেন। বাঙালির সকল বস্তুই সুন্দর, স্বচ্ছ ও সহজলব্ধ।

বাঙালির গুণের কথা লিখিতে হইলে অনন্ত মসী, কাগজ ও অক্লান্ত লেখকের আবশ্যক। তবে সংক্ষেপে দুটি চারিটা গুণের বর্ণনা করি ।

ধনবৃদ্ধির দুই উপায়, বাণিজ্য ও কৃষি। বাণিজ্য আমাদের প্রধান ব্যবসায়। কিন্তু তাই বলিয়া আমরা (আরব্যোপন্যাসের) সিন্দাবাদের ন্যায় বাণিজ্যপোত অনিশ্চিত ফললাভের আশায় অনন্ত অপার সাগরে ভাসাইয়া দিয়া নৈরাশ্যের ঝঞ্ঝাবাতে ওতপ্রোত হই না। আমরা ইহাকে (বাণিজ্য) সহজ ও স্বল্পায়াসসাধ্য করিয়া লইয়াছি। অর্থাৎ বাণিজ্য ব্যবসায়ে যে কঠিন পরিশ্রম আবশ্যক, তাহা বর্জন করিয়াছি। এই জন্য আমাদের দোকানে প্রয়োজনীয় জিনিস নাই, শুধু বিলাসদ্রব্য-নানাবিধ কেশতৈল ও নানাপ্রকার রোগবর্ধক ঔষধ এবং রাঙা পিত্তলের অলঙ্কার, নকল হীরার আংটি, বোতাম ইত্যাদি বিক্রয়ার্থ মজুদ আছে। ঈদৃশ ব্যবসায়ে কায়িক পরিশ্রম নাই। আমরা খাঁটি সোনা রূপা বা হিরা জওয়াহেরাৎ রাখি না, কারণ টাকার অভাব। বিশেষত আজি কালি কোন জিনিসটার নকল না হয় ?

যখনই কেহ একটু যত্ন পরিশ্রম স্বীকার পূর্বক “দীর্ঘকেশী” তৈল প্রস্তুত করেন, অমনই আমরা তদনুকরণে “হ্রস্বকেশী” বাহির করি। “কুন্তলীনের” সঙ্গে “কেশলীন” বিক্রয় হয়। বাজারে “মস্তিষ্ক স্নিগ্ধকারী” ঔষধ আছে, “মস্তিষ্ক উষ্ণকারী” দ্রব্যও আছে। এক কথায় বলি, যত প্রকারের নকল ও নিষ্প্রয়োজনীয় জিনিস হইতে পারে, সবই আছে। আমরা ধান্য তণ্ডুলের ব্যবসায় করি না, কারণ তাহাতে পরিশ্রম আবশ্যক ।

আমাদের অন্যতম ব্যবসায়-পাস বিক্রয়। এই পাস বিক্রেতার নাম “বর” এবং ক্রেতাকে “শ্বশুর” বলে । এক একটি পাসের মূল্য কত জান ? “অর্ধেক রাজত্ব ও এক রাজকুমারী”। এম.এ. পাস অমূল্যরত্ন, ইহা যে সে ক্রেতার ক্রেয় নহে। নিতান্ত সস্তা দরে বিক্রয় হইলে, মূল্য-এক রাজকুমারী এবং সমুদয় রাজত্ব। আমরা অলস, তরলমতি, শ্রমকাতর, কোমলাঙ্গ বাঙালি কিনা তাই ভাবিয়া দেখিয়াছি, সশরীরে পরিশ্রম করিয়া মুদ্রালাভ করা অপেক্ষা Old fool শ্বশুরের যথাসর্বস্ব লুণ্ঠন করা সহজ।

এখন কৃষিকার্যের কথা বলি । কৃষি দ্বারা অনুবৃদ্ধি হইতে পারে। কিন্তু আমরা ভাবিয়া দেখিয়াছি কৃষিবিভাগের কার্য (agriculture) করা অপেক্ষা মস্তিষ্ক উর্বর (brain culture) করা সহজ। অর্থাৎ কর্কশ উর্বর ভূমি কর্ষণ করিয়া ধান্য উৎপাদন করা অপেক্ষা মুখস্থ বিদ্যার জোরে অর্থ উৎপাদন করা সহজ। এবং কৃষিকার্যে পারদর্শিতা প্রদর্শন করা অপেক্ষা কেবল M.R.A.C পাশ করা সহজ। আইনচর্চা করা অপেক্ষা কৃষি বিষয়ে জ্ঞানচর্চা করা কঠিন। অথবা রৌদ্রের সময় ছত্র হস্তে কৃষিক্ষেত্র পরিদর্শনের জন্য কৃষি বিষয়ে জ্ঞানচর্চা অপেক্ষা টানাপাখার তলে আরাম কেদারায় বসিয়া দুর্ভিক্ষ সমাচার (Famine Report) পাঠ করা সহজ। তাই আমরা অন্নোৎপাদনের চেষ্টা না করিয়া অর্থ উৎপাদনে সচেষ্ট আছি। আমাদের অর্থের অভাব নাই, সুতরাং অন্নকষ্টও হইবে না। দরিদ্র হতভাগা সব অন্নাভাবে মরে মরুক, তাতে আমাদের কি? 

আমরা আরও অনেক প্রকার সহজ কার্য নির্বাহ করিয়া থাকি । যথা :
(১) রাজ্য স্থাপন করা অপেক্ষা “রাজা” উপাধি লাভ সহজ ।
(২) শিল্পকার্যে পারদর্শী হওয়া অপেক্ষা B.Sc ও D.Sc পাস করা সহজ।
(৩) অল্পবিস্তর অর্থব্যয়ে দেশে কোন মহৎ কার্য দ্বারা খ্যাতি লাভ করা অপেক্ষা “খাঁ বাহাদুর” বা “রায় বাহাদুর” উপাধি লাভের জন্য অর্থ ব্যয় করা সহজ।
(৪) প্রতিবেশী দরিদ্রদের শোক দুঃখে ব্যথিত হওয়া অপেক্ষা বিদেশীয় বড়ো লোকদের মৃত্যুদুঃখে “শোক সভার” সভ্য হওয়া সহজ।
(৫) দেশের দুর্ভিক্ষ নিবারণের জন্য পরিশ্রম করা অপেক্ষা আমেরিকার নিকট ভিক্ষা গ্রহণ করা সহজ। ।
(৬) স্বাস্থ্যরক্ষায় যত্নবান হওয়া অপেক্ষা স্বাস্থ্য নষ্ট করিয়া ঔষধ ও ডাক্তারের হস্তে জীবন সমর্পণ করা সহজ।
(৭) স্বাস্থ্যের উন্নতি দ্বারা মুখশ্রীর প্রফুল্লতা ও সৌন্দর্য বর্ধন করা (অর্থাৎ healthy & cheerful হওয়া) অপেক্ষা (শুষ্কগণ্ডে!) কালিডোর, মিল্ক অভ রোজ ও ভিনোলিয়া পাউডার (Kalydore, milk of rose and Vinolia powder) মাখিয়া সুন্দর হইতে চেষ্টা করা সহজ। 
(৮) কাহারও নিকট প্রহারলাভ করিয়া তৎক্ষণাৎ বাহুবলে প্রতিশোধ লওয়া অপেক্ষা মানহানির মোকদ্দমা করা সহজ ইত্যাদি । 

তারপর আমরা মূর্তিমান আলস্য-আমাদের গৃহিণীগণ এ বিষয়ে অগ্রণী। কেহ কেহ শ্রীমতীদিগকে স্বহস্তে রন্ধন করিতে অনুরোধ করিয়া থাকেন। কিন্তু বলি, আমরা যদি রৌদ্রতাপ সহ্য করিতে না পারি, তবে আমাদের অর্ধাঙ্গীগণ কিরূপে অগ্নির উত্তাপ সহিবেন? আমরা কোমলাঙ্গ-তাঁহারা কোমলাঙ্গী; আমরা পাঠক, তাঁহারা পাঠিকা; আমরা লেখক, তাঁহারা লেখিকা । অতএব আমরা পাচক না হইলে তাঁহারা পাচিকা হইবেন কেন? সুতরাং যে লক্ষ্মীছাড়া দিব্যাঙ্গনাদিগকে রন্ধন করিতে বলে, তাহার ত্রিবিধ দণ্ড হওয়া উচিত। যথা তাহাকে (১) তুষানলে দগ্ধ কর, অতঃপর (২) জবেহ্ কর, তারপর (৩) ফাঁসি দাও !
আমরা সকলেই কবি-আমাদের কাব্যে বীররস অপেক্ষা করুণরস বেশি। আমাদের এখানে লেখক অপেক্ষা লেখিকার সংখ্যা বেশি। তাই কবিতার স্রোতে বিনা কারণে অশ্রুপ্রবাহ বেশি বহিয়া থাকে। আমরা পদ্য লিখিতে বসিলে কোন্ বিষয়টা বাদ দিই ? “ভগ্ন শূৰ্প”, “জীর্ণ কাঁথা”, “পুরাতন চটিজুতা” —কিছুই পরিতাজ্য নহে। আমরা আবার কত নতুন শব্দের সৃষ্টি করিয়াছি; যথা—“অতি শুভ্রনীলাম্বর, “সাশ্রুসজলনয়ন” ইত্যাদি। শ্রীমতীদের করুণ বিলাপ-প্রলাপপূর্ণ পদ্যের “অশ্রুজলের” বন্যায় বঙ্গদেশ ধীরে ধীরে ডুবিয়া যাইতেছে! সুতরাং দেখিতেছেন, আমরা সকলেই কবি।

আর আত্মপ্রশংসা কত করিব ? এখন উপসংহার করি।



"নিরীহ বাঙালি" — রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা  

মূল পাঠ:
"আমরা দুর্বল নিরীহ বাঙালি। এই বাঙালি শব্দে কেমন সুমধুর তরল কোমল ভাব প্রকাশ হয়। আহা! এই অমিয়াসিক্ত বাঙালি কোন্ বিধাতা গড়িয়াছিলেন? কুসুমের সৌকুমার্য, চন্দ্রের চন্দ্রিকা, মধুর মাধুরী, যুথিকার সৌরভ, সুপ্তির নীরবতা, ভূধরের অচলতা, নবনীর কোমলতা, সলিলের তরলতা — এক কথায় বিশ্বজগতের সমুদয় সৌন্দর্য এবং স্নিগ্ধতা লইয়া বাঙালি গঠিত হইয়াছে!"

সহজ ভাষায়:
লেখিকা রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এই প্যারায় বাঙালি জাতিকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন, তবে সেটা করেছেন প্রশংসার ভাষায়। তিনি বলেছেন যে বাঙালি জাতি ফুলের মতো কোমল, চাঁদের আলোর মতো নরম, মধুর মতো মিষ্টি, ফুলের মতো সুগন্ধি, ঘুমের মতো শান্ত, পাহাড়ের মতো স্থির এবং মাখনের মতো নরম। অর্থাৎ দুনিয়ার সমস্ত সৌন্দর্য আর কোমলতা দিয়ে বাঙালিকে তৈরি করা হয়েছে। 
কিন্তু এখানে লেখিকার আসল উদ্দেশ্য হলো ব্যঙ্গ করা। তিনি আসলে বলতে চেয়েছেন যে বাঙালি অতিরিক্ত কোমল, দুর্বল এবং সাহসহীন। "কোমলতা" এবং "নিরীহ স্বভাব" আসলে তাদের দুর্বলতার লক্ষণ।
মূল পাঠ:
"আমরা মূর্তিমতী কবিতা- যদি ভারতবর্ষকে ইংরেজি ধরনের একটি অট্টালিকা মনে করেন, তবে বঙ্গদেশ তাহার বৈঠকখানা (drawing room) এবং বাঙালি তাহাতে সাজসজ্জা (drawing room suit)! যদি ভারতবর্ষকে একটা সরোবর মনে করেন, তবে বাঙালি তাহাতে পদ্মিনী। যদি ভারতবর্ষকে একখানা উপন্যাস মনে করেন, তবে বাঙালি তাহার নায়িকা! ভারতের পুরুষ সমাজে বাঙালি পুরুষিকা!"

সহজ ভাষায়:
এই অংশে লেখিকা রসিকতার ছলে আরও গভীর ব্যঙ্গ করেছেন। তিনি বলেছেন যে ভারতবর্ষ যদি একটি বড়ো বাড়ি হয়, তাহলে বাঙালি হলো সেই বাড়ির বসার ঘরের সাজসজ্জা — মানে শুধু দেখতে সুন্দর, কোনো কাজের নয়। ভারত যদি একটি পুকুর হয়, তাহলে বাঙালি হলো তার পদ্মফুল — সুন্দর কিন্তু দুর্বল। ভারত যদি একটি উপন্যাস হয়, তাহলে বাঙালি হলো তার নায়িকা — যে শুধু কাঁদে আর অপেক্ষা করে, নিজে কিছু করে না।

"ভারতের পুরুষ সমাজে বাঙালি পুরুষিকা" বলতে লেখিকা বোঝাতে চেয়েছেন যে বাঙালি পুরুষরা আসলে পুরুষের মতো সাহসী নয়, তারা মেয়েলি স্বভাবের।

পাস বিক্রয় ও অলসতার ব্যঙ্গ: 
"আমাদের অন্যতম ব্যবসায় — পাস বিক্রয়। এই পাস বিক্রেতার নাম 'বর' এবং ক্রেতাকে 'শ্বশুর' বলে। এক একটি পাসের মূল্য কত জান? 'অর্ধেক রাজত্ব ও এক রাজকুমারী'। এম.এ. পাস অমূল্যরত্ন... মূল্য — এক রাজকুমারী এবং সমুদয় রাজত্ব।"

সহজ ভাষায়: 
লেখিকা এখানে পণপ্রথার কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন যে বাঙালির একটি বড়ো ব্যবসা হলো "পাস বিক্রি করা"। অর্থাৎ ছেলে পরীক্ষায় পাস করে, তারপর সেই সার্টিফিকেটকে পণ হিসেবে ব্যবহার করে মেয়ের বাবার কাছ থেকে টাকা আদায় করে। যে পাস বিক্রি করে সে হলো "বর" আর যে কিনতে বাধ্য হয় সে হলো "শ্বশুর"।

এম.এ. পাস করলে তো আরও বেশি দাবি — মেয়ে এবং সব সম্পত্তি। এটা আসলে নিজের পরিশ্রম না করে শ্বশুরের সম্পদ লুট করার একটি সহজ পথ বেছে নেওয়া। 

সহজ কাজের তালিকার ব্যঙ্গ: 
"(১) রাজ্য স্থাপন করা অপেক্ষা 'রাজা' উপাধি লাভ সহজ। 
(৪) প্রতিবেশী দরিদ্রদের শোক দুঃখে ব্যথিত হওয়া অপেক্ষা বিদেশীয় বড়ো লোকদের মৃত্যুদুঃখে 'শোক সভার' সভ্য হওয়া সহজ।"

সহজ ভাষায়: 
এই তালিকায় লেখিকা দেখিয়েছেন যে বাঙালি সবসময় কঠিন কাজ এড়িয়ে সহজ পথ বেছে নেয়। যেমন  -
নিজে রাজ্য তৈরি না করে খালি "রাজা" উপাধি নিলেই হলো। নিজের পাশের বাড়ির গরিব মানুষের কষ্টে মন না কাঁদলেও চলে, কিন্তু বিদেশের কোনো বড়ো মানুষ মারা গেলে "শোকসভা" করতে ঠিকই হাজির হওয়া যায়। কারণ এতে কোনো কষ্ট নেই, বরং নাম হয়।

লেখিকা বলতে চেয়েছেন যে বাঙালি দেখানোর জন্য কাজ করে, আসল কাজ করে না।

"নিরীহ বাঙালি" প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন হাস্যরসের মাধ্যমে বাঙালি জাতির অলসতা, কাপুরুষতা, পণপ্রথা এবং দায়িত্বহীনতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রশংসা করতে করতে তিনি আসলে ব্যঙ্গ করেছেন — এই পদ্ধতিকে বলা হয় বিদ্রূপাত্মক রচনা (Irony/Satire)। লেখিকার উদ্দেশ্য ছিল বাঙালিকে তার দুর্বলতা বুঝিয়ে জাগিয়ে তোলা।








No comments

Thank you, best of luck

Theme images by sbayram. Powered by Blogger.