ভাবসম্প্রসারণ:
"কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে"—এই শাশ্বত বাণী মানবজীবনের এক অতীব গুরুত্বপূর্ণ দর্শনকে ধারণ করে। মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার বাগাড়ম্বরে নয়, বরং কর্মের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়। যারা কেবল মৌখিক প্রজ্ঞা প্রদর্শন করে কিন্তু কর্মক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় থাকে, তারা সমাজের অগ্রগতিতে কোনো অবদান রাখতে পারে না। প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজের মাধ্যমেই যাচাই হয় এবং সভ্যতার ভিত্তি রচিত হয় নিরলস পরিশ্রমে।
মানব সমাজে এমন কিছু ব্যক্তি বিদ্যমান, যারা কথার ফুলঝুরি ছড়াতে অত্যন্ত পটু, কিন্তু বাস্তব কর্মে তাদের অনীহা স্পষ্ট। এরা নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে কেবল অন্যের ত্রুটি খুঁজে বেড়ায় এবং সমালোচনায় মুখর থাকে। এই ধরনের অলস ও পরনিন্দাকারী মানুষেরা সমাজের জন্য বোঝা স্বরূপ; তারা কেবল কর্মবিমুখতাই ছড়ায় না, বরং প্রগতির পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি নিজের হাতে কাজ করে এবং অপরকে কর্মে উৎসাহিত করে, সেই দেশের উন্নতি ত্বরান্বিত হয়। বিশ্বের প্রতিটি সভ্য দেশ শ্রম ও কর্মনিষ্ঠাকে বিশেষ মর্যাদা দেয়। ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন এমন সকল মহামানবের জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তাঁরা কেবল মুখের কথায় নয়, বরং কর্মের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁদের নিরন্তর শ্রম, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায় মানবজাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে খোদিত হয়ে আছে। এঁরাই যুগ যুগ ধরে মানুষের মনে শ্রদ্ধার আসনে সমাসীন থাকবেন এবং আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে কাজ করবেন।
চাঁদে প্রথম মানব অবতরণের ঘটনাটি এর এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। নিল আর্মস্ট্রং, মাইকেল কলিন্স এবং এডউইন অলড্রিনের ঐকান্তিক সাধনা, নিরলস শ্রম এবং কঠোর অধ্যবসায়ই তাঁদের চাঁদে সফলভাবে পৌঁছাতে সাহায্য করেছিল। তাঁদের এই দুঃসাহসিক অভিযান কেবল বিজ্ঞানকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যায়নি, বরং মানবজাতির কর্মনিষ্ঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
কাজেই, আমাদের সকলের উচিত তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আত্মম্ভরিতা পরিহার করে ভালো ও পুণ্যকর্মের মাধ্যমে নিজের, পরিবারের এবং সর্বাপরি দেশের মুখ উজ্জ্বল করা। যারা কেবল কথার দ্বারা নিজেদের মহিমান্বিত করতে চায়, তারা সমাজের চোখে বাচাল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে এবং তাদের সঙ্গ পরিহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
No comments:
Post a Comment
Thank you, best of luck